পথ শিশুদের সাথে “সেলফি” তুললেন মেয়র নাছির

0
.

মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য,একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না। ও বন্ধু’ কালজয়ী এই গান মানুষের পাশে দাঁড়াবার অনুপ্রেরণা দেয়। নাগরিক এই ব্যস্ততম শহরে দম ফেলোবার সময় কারো নেই। তখন কে কার খবর রাখে। বিশেষ করে নগরীর অসহায় মানুষের কথা। অবহেলিত পথ শিশুদের কথা। তারা আমাদের মতোই রক্ত মাংসের গড়া মানুষ। তারা বড় হচ্ছে অবহেলা আর অবজ্ঞায়। ও সব ভাবার সময় কখনো হয়ে ওঠে না আমজনতার। কখনো যদি কোনো পথশিশু এসে ভিক্ষা চেয়ে হাত বাড়িয়ে দেয়,তখন পকেট থেকে দু টাকা কিংবা পাঁচ টাকার কনয়েন বাড়িয়ে দিই আমরা।

তবে অনেক সময় এর ব্যতিক্রমও ঘটে। কখনো কখনো তাদের গায়ে হাত  তুলতেও দ্বিধাবোধ করি না। কিন্তু সমাজে এমন মানুষও আছে যারা অবহেলিতদের কথা চিন্তা করে। তাদের মুখে এক টুকরো হাসি ফোটানোর স্বপ্ন দেখে। এই ধরণের একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান পথশিশুদের নিয়ে কাজ করছে। এই প্রতিষ্ঠানটি হচ্ছে “উপলদ্ধি”।  যাদের মাতা- পিতা নেই এ রকম পথশিশুদের নিয়ে কাজ করছে সামাজিক সংগঠন এর কর্ণধার শেখ ইজাবুুর রহমান।

নগরীর ফিরিঙ্গী বাজার মোড়ে অনুপ এন্ড ব্রাদাস বিল্ডিং এর কার্যালয়।  ৪র্থ, ৫ম ও ৬ষ্ট তলায় ভাড়া নিয়ে নগরীর কুড়ে পাওয়া পথশিশুদের দেখভাল করছে প্রতিষ্ঠানটি।

.

এখানে ৬৫ জন পথশিশু রয়েছে। তারা সবাই মাতা-পিতা ও ঠিকানা বিহীন পথশিশু। সামাজিক সংগঠন “উপলদ্ধি”  এই সব পথশিশুদের পড়া লেখা,ভরণপোষনসহ সকল বিষয়ে দেখভাল করছে।

গত শনিবার রাতে এই সংগঠনের কার্যক্রম দেখতে ফিরিঙ্গীবাজার অনুপ এন্ড ব্রাদার্স ভবনে যান চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র  আ.জ.ম নাছির উদ্দীন। মেয়র সেখানে বসবাসরত পথশিশুদের সাথে কিছুক্ষণ আনন্দঘন মুর্হুত সময় অতিবাহিত করেন। তারা সিটি মেয়রকে পেয়ে আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে পড়ে। আর মেয়র অনেকটা আবেগে-আপ্লুত হয়ে পড়েন।

এই সময় সিটি মেয়র বলেন, বিশ্বের শিশুরা যেখানে অনিরাপদ সেখানে দাতা সংগঠনগুলো তাদের সাহার্যার্থে এগিয়ে আসেন। সকল সংগঠনকে ‘উপলব্ধী’ এর মত আর্ত-মানবতার সেবায় এগিয়ে আসার আহবান জানান মেয়র। তিনি আরো বলেন, এ অবহেলিত-সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের পাশে আমি  আছি এবং আগামীতেও থাকব। চসিক পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে পথশিশুদের পড়া লেখার জন্য ভর্তি ফিসহ মাসিক বেতন মওকুফের ঘোষনা দেন সিটি মেয়র। সিটি মেয়র শিশুদের গাওয়া গান মনোযোগ সহকারে শুনেন এবং মোবাইলে শিশুদের সাথে সেলফি তুলেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিক কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আলী, মেমন মাতৃসদন হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. প্রীতি বড়ুয়া, ডা. পলাশ, সংগঠনের প্রতিষ্ঠিতা সাধারণ সম্পাদক শেখ ইজাবুর রহমান, উপলব্ধির ম্যানেজার শেলী রক্ষিত, ছাত্রনেতা তাজউদ্দীন রিজভী, সাইফুদ্দীন আহমেদ, যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম, তারাপদ দাশ, হুমায়ুন মোর্শেদ শাকিল, মো. মাসুম, সামিউল হাসান রুমন, আলাউদ্দীন বাপ্পী, অনিন্দ্য দেব, সাহেদ, ইজাজুল হক প্রমুখ।

কোন মন্তব্য নেই