অনুসন্ধান - অন্বেষন - আবিষ্কার

নাসিমন ভবনে কেন্দ্রিয় নেতাদের সামনে মারধরের শিকার উত্তর জেলা ছাত্রদল সভাপতি জুয়েল

0
.

নগরীর নাসিমন ভবনের দলীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রিয় নেতাদের উপস্থিতিতে নিজ দলের নেতাকর্মীদের হাতে শারীরিকভাবে নাজেহাল হয়েছেন উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জাহেদুল আবছার জুয়েল।

সোমবার (২৭ জানুয়ারি) রাত ১১টায় নগরীর নাসিমন ভবনের সামনে মাঠে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে নাসিমন ভবনের তৃতীয় তলায় উত্তর জেলা বিএনপির কার্যালয়ে চট্টগ্রামে সফররত কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে মতবিনিময় করেন ৫ ছাত্রদল নেতা।

দীর্ঘ ২/৩ ঘন্টা মতবিনিময় শেষে চলে যাওয়া সময় ভবন থেকে নামার পরপরই সেখানে পূর্ব থেকে অবস্থান নেয়া মীরসরাই এলাকার কয়েকজন নেতাকর্মীর হামলে পড়ে উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জুয়েলের ওপর। তাকে চড় থাপ্পড় মারতে থাকলে সেখানে উপস্থিত নগর ছাত্রদলের সভাপতি গাজী সিরাজসহ অন্যান্য নেতা ও কেন্দ্রিয় নেতারা জুয়েলকে রক্ষা করেন। এ সময় পুরো এলাকায় লোডশেডিং চলছিল। অন্ধকার মাঠে নেতাকর্মীদের শোর চিৎকারে লোকজন ছুটে গেলেও নাসিমন ভবনের সামনে রাস্তায় বেশ কিছু পুলিশ থাকলে তারা মাঠে যায়নি।

.

এ সময় কোতোয়ালী থানার পুলিশের একজন এসআই নগর ছাত্রদল সভাপতি গাজী সিরাজকে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মারামারি ঘটনার জন্য। পরে ওই এসআই তার মোবাইল থেকে সিএমপি এক কর্মকর্তার সাথে ফোনে গাজী সিরাজকে ধরিয়ে দেন।

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমেদ সাব্বির বলেন, ‘হামলা হয়নি। একটু ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। পরে সেটা মিটমাট হয়ে গেছে।’

উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল আলম জনি বলেন, উত্তর জেলা ছাত্রদলের ৫ নেতার সাথে কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিনিধিদেও বৈঠক ছিল। বৈঠক থেকে বের হয়ে হাটহাজারির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়ে কিছুদুর আসার পর শুনি জুয়েল আক্রান্ত হয়েছেন। আমি ধারণা করছি মীরসরাই কেন্দ্রীক গ্রুপের কেউ এই হামলা করেছে।

উত্তর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক আনিস আক্তার টিটু বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক শেষে যেই মাত্র নাসিমন ভবনের নিচে নামি, অন্ধকারে কিছু বুঝে উঠার আগেই জুয়েলের ওপর হামলা হয়। নগর ছাত্রদলের নেতারাসহ আমরা তাকে হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষা করি। তবে ততক্ষণে তার মুখমণ্ডল আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।’

তবে কেন্দ্রীয় নেতারা এই হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তারা বলছেন অন্ধকারে ধাক্কাধাকি হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৩ অক্টোবর ২০১৬ জাহেদুল আবছার জুয়েলকে সভাপতি ও মনিরুল আলম জনিকে সাধারণ সম্পাদক করে ২৩ সদস্যের উত্তরজেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। ২৩ জনের ১৯ জন কারবন্দি বিএনপির যুগ্মসম্পাদক আসলাম চৌধুরীর অনুসারি। বাকী ৪ জন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলালের অনুসারি।

কমিটি গঠনের পর ২০১৭ সালের ১২ জানুয়ারী নাসিমন ভবনে প্রথম সভা করতে গিয়ে নেতাকর্মী হামলার শিকার হয়েছিলেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এসময় এই দুজন ছাড়াও আহত হয় আরো কয়েকজন। দলের উৎশৃখল নেতাকর্মী ওই সময় দলীয় কার্যালয়েও ভাঙচুর করেছিল।

উল্লেখ্য, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করতে ২৪ জানুয়ারি রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি মোসাদ্দেক সাফির নেতৃত্বে চার সদস্যের টিম চট্টগ্রাম আসেন। প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাথে বৈঠক করেন। ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাথে বসেছিলেন। চট্টগ্রাম নগর, দক্ষিণ জেলা এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সাথে বৈঠক করার কথা রয়েছে।