“চাকরের জীবন সমান্তরালই হয়”

0
মোহাম্মদ আবদুল্লাহ মজুমদার

চাকরি জীবনে আমরা যতোই পরিশ্রম করি না কেন, কখনো পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের চাহিদা পূর্ণ করতে পারবো না। যতো লক্ষ কোটি টাকা, যতো সম্পদই আমরা অর্জন করিনা কেন আমাদের প্রতি সবার চাহিদা অপূর্ণ থেকেই যাবে। আমরা যখন একজন চাকরিজীবী হবো যখন যেখানে যাইনা কেন, আমার কর্মক্ষেত্র আমাকে পিছু টানবেই। কিন্তু আমরা যদি নিজেই কাজের ক্ষেত্র তৈরি করি তাহলে ব্যাপারটি হবে একদম বিপরীত। জীবনের কোন কাজের ক্ষেত্রেই পিছুটান থাকবে না। নিজেকে, পরিবারকে, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সেবা এবং সময় দিয়ে যেতে পারবো সন্তুষ্ট চিত্তে।

আমরা হয়তো ভাবি কাজ না খুঁজে নিজের কাজের ক্ষেত্র তৈরি করে নেব এমন সামর্থ আর কতো জনের আছে? নিশ্চয় এমন সামর্থ পৃথিবীর সবার সমান নয়। কিন্তু নিজের জীবন জীবিকার উদ্যোগটি তো আমরা  নিজেই নিতে পারি। এবার আমরা ভাববো, কেন নিজে এতো কষ্ট করতে যাবো, পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত একটি প্রতিষ্ঠানে নিজে একটি কাজ নিলেই তো আরাম দায়ক একটি জীবন পাই। কিন্তু এটি আমাদের সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। চাকরের জীবন কোন আরামদায়ক জীবন হতে পারে না। এটি চাকরি জীবনে আমার জীবন আর আমার কর্মরত প্রতিষ্ঠানের সত্বাধিকাররীর জীবনের সঙ্গে তুলনা করলেই আমরা আরামদায়ক জীবনের পার্থক্য নির্ণয় করতে পারবো।

কোন একটি উদ্যোগ নিতে আমাদের জীবনের প্রথম অংশে একটু সাধনা করতে হবে। কিন্তু অন্যের অধিনস্ত প্রতিষ্ঠানের  যতো বড়োই কর্মচারি কিংবা কর্মকর্তা হইনা কেন, তখন আমাদের পুরো জীবনই পরাধীনতার শৃঙ্খলে কাটাতে হবে। কোন কোন সময় আমাদের যখন নিজেদের সময় দিতে ইচ্ছে করবে, আমারা যখন মা অথবা বাবা হবো তখন তো নিজের সন্তানকে আমাদের সময় দিতে হবে। তখন কর্মস্থলের পিছুটান আমাদের দুঃচিন্তগ্রস্থ করে অস্থির করে তুলবে। জীবনকে করে দিবে অতিষ্ঠ।

আমরা যারা কোন না কোন চাকরি করি, তারা কি জানি আমাদের জীবনের সীমা পরিসীমা কতটুকু? ভাববো এখন তো আমি নিম্নতর পদে আছি। আমার পদন্নোতি হয়ে যাবে একসময়। তখন স্বস্তির জীবন ফিরে পাবো। কিন্তু কখনোই তা হবে না। সে স্বস্তির একসময় কখনোই আসবে না। জীবন হয়ে থাকবে সমান্তরাল আমৃত্যু। আমরা হয়তো ব্যয়বহুল জীবনযাপন করবো, কিন্তু জীবনের গতি থাকবে সমান্তরাল।

তবে হ্যাঁ, আমরা যদি নিজেই একটি প্রদীপ হয়ে জ্বলে উঠতে পারি তখন অন্য কেউ যদি তাদের সেবা দেয়ার জন্য আমাদের আমন্ত্রণ জানায়, তাহলে সে আমন্ত্রন আমরা অবশ্যই গ্রহণ করতে পারি। কারণ এমন জীবনকেও পরাধিনতা স্পর্শ করতে পারে না।

মোহাম্মদ আবদুল্লাহ মজুমদার

শিক্ষার্থী, টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

কোন মন্তব্য নেই