শেষ হল ২১’র বই মেলা: ২০ দিনে বিক্রি ১৮ কোটি টাকা-মেয়র

0
.

চট্টগ্রামে শেষ হল ২০ দিন ব্যাপী একুশে বইমেলা-২০২০। আজ শনিবার সমাপনী দিনে মেলায় কবি লেখক, সাহিত্যি, সাংস্কৃতি কর্মী সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। বেচা বিক্রি হয়েছেও প্রচুর।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও সৃৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের সহযোগিতায় চট্টগ্রামে বই মেলা শুরু হয় ১০ ফেব্রুয়ারি। শনিবার বিকালে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে বইমেলার। নগরীর এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেশিয়াম মাঠে অনুষ্ঠিত মেলায় চট্টগ্রামের ৩৮টি প্রকাশনা সংস্থার প্রায় ৬০০টি বই বের হয়েছে। এবারের মেলায় স্টল ছিল ২০০টি। এর মধ্যে ডবল ৫৯টি এবং সিঙ্গেল ৮৭টি।

শেষ দিনে পছন্দের বই কিনতে এবং আড্ডা জমাতে বইমেলায় ভিড় ছিল নারী পুরুষ শিশু কিশোর যুবক যুবতীসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষের। বিশেষ করে শিশু কিশোর এবং তরুণদের সমাগম ছিল লক্ষণীয়। চিকিৎসক হামিদ হোছাইন আজাদ বলেন, ‘বইমেলা যে প্রাণের মেলা সেটা খুব বেশি অনুভব করি বিদায় বেলায়। কারণ এতদিন মেলায় এসেছি, বই কিনেছি, পুরাতন অনেক বন্ধুর সঙ্গে কাকতালীয় দেখাও হয়েছে। সবমিলে নান্দনিক এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। কিন্তু এটি শেষ হয়ে যাবে ভাবতেও মন খারাপ হয়ে যায়।’ প্রচ্ছদ শিল্পী শাদ ইরশাদ বলেন, ‘বইমেলা আমাদের অনেক কিছু শেখায়। নতুন অনেক উপলব্দি, চিন্তা-চেতনা তৈরিতে সহায়তা করে। বলা যায়, বইমেলাই বাঙালির প্রাণের এবং প্রকৃত মেলা। তাই এটিকে বিদায় জানাতে কষ্ট হয় বৈকি।’ এসএসসি পরিক্ষার্থী সাজিদ মুহাম্মদ বলেন, ‘বইমেলায় একাধিকবার এসেছি, বইও কিনেছি। কিন্তু বইমেলা শেষ হয়ে যাচ্ছে, এটা চিন্তা করতে কষ্ট হয়। কারণ বই মেলা সত্যিকার অর্থের মননশীল এবং নান্দনিক একটি জায়গা।’
চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া বলেন, ‘বইমেলাকে আমরা সত্যিকার অর্থে লেখক, পাঠক, দর্শক এবং সৃজনশীল মানুষের মেলায় পরিণত করতে সক্ষম হয়েছি। পাঠকরাও ব্যাপক সাড়া দিয়েছে।’

সৃৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন বলেন, ‘গতবারের মত এবারো আশানুরূপ বই বিক্রি হচ্ছে। আশা করছি, পাঠকদের চাহিদা মত বই মেলায় ছিল। তাই পাঠকরাও নিজের পছন্দের বই ক্রয় করেছে।’

.

১৮ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে বিক্রি হয়েছে- মেয়র

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত ‘অমর একুশে বইমেলা-২০২০’ এ প্রায় ১৮ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। মাত্র ২০ দিনের মেলায় বই বিক্রির এই রেকর্ড চট্টগ্রামে বিগত সময়ের তুলনায় নিঃসন্দেহে অনেক বেশি বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

আজ শনিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে মুজিব বর্ষে বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত ‘অমর একুশে বইমেলা-২০২০’র সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন একথা বলেন।

মেয়র বলেন, এবারের মেলায় বই বিক্রির এ রেকর্ড প্রজন্ম সমাজের বই প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। নতুন প্রজন্ম যে আবার বই মুখী হচ্ছে এটিই বড় প্রমাণ। সমাজে নতুন পাঠক তৈরি হচ্ছে, এতে করে লেখকও তৈরি হচ্ছে। মেলার এমন সফলতায় সৃজনশীল প্রকাশকরাও নতুন অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন। এ অনুপ্রেরণায় আমিও আন্তরিক ভাবে অনুপ্রাণিত। আগামীবারের মেলা হবে নতুন মেয়রের নেতৃত্বে। মেলার জন্য সিজেকেএস বরাদ্দকৃত মাঠের অনুমতি আমার পক্ষ থেকে অব্যাহত থাকবে। মেলা আয়োজনে নতুন মেয়রকে সকল ধরনের সহযোগিতা সমর্থন অব্যাহত রাখবেন বলে তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

মেয়র আরো বলেন, বিদায় প্রকৃতির অমোঘ নিয়তি। একদিন সাজানো গোছানো সমস্ত আয়োজন ছেড়ে এই পৃথিবী থেকেও বিদায় নিতে হবে। আমাদেরকে গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে এই পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়ার মানসিকতা ধারণ করতে হবে।

মেয়র অমর একুশে বইমেলা সফল ও সার্থক করার নেপথ্য শক্তি চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদ, চট্টগ্রামের সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংগঠন, সংবাদপত্র সম্পাদক, গণমাধ্যম কর্মী, লেখক, শিক্ষাবিদ, মুক্তিযোদ্ধা, গবেষকসহ সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

এবারের অমর একুশে বইমেলা উপলক্ষে ১১ কৃতিজনকে জাতীয় জীবনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় একুশে স্মারক সম্মাননা পদক এবং ৪ জন সাহিত্যসেবীকে সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। একই সাথে ৪টি প্রকাশনা সংস্থাকে সেরা স্টলের পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। সেরা স্টলে প্রথম হয়েছে অক্ষরবৃত্ত, কুঁড়েঘর দ্বিতীয় এবং চন্দ্রবিন্দু ও পেন্সিল প্রকাশনা যৌথ ভাবে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে।

অমর একুশে বইমেলা কমিটির আহবায়ক কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউকের সভাপতিত্ব ও কংকন দাশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো সামসুদ্দোহা, সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদ সভাপতি মহিউদ্দিন শাহ আলম নিপু, সম্পাদক জামাল উদ্দিন, অমর একুশে বইমেলা কমিটির সদস্য সচিব চসিক প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া বক্তব্য রাখেন।

এসময় অমর একুশে বইমেলা কমিটির সমন্বয়ক চসিক সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা উপসচিব আশেক রসুল চৌধুরী টিপুসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, কর্মচারী, সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদ নেতৃবৃন্দ,লেখক, সাংবাদিক, মেলায় আগত পাঠক, দর্শনার্থী উপস্থিত ছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই