চট্টগ্রামে ঘুর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে নিহত ১২

0

ROANU PIC-WATERবঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’র তাণ্ডবে চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকাসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। লন্ডভন্ড হয়ে গেছে জেলার উপকূলীয় এলাকা বাঁশখালী, আনোয়ারা, সন্দ্বীপ, সীতাকুণ্ড উপজেলা। জোয়োরের পানিতে ডুবে গেছে এসকল উপজেলার অনেক গ্রাম। এসব এলাকার শত শত বসত ঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। গৃহহারা হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডবে দিনভর নগরী ও জেলাতে অন্তত ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বাশঁখালীতে ৭ জন, সীতাকুণ্ডে ২ জন এবং নগরীতে ৩ জন মারা যায়। এসব এলাকায় নিখোঁজ রয়েছে আরো অন্তত ২০ জন।

13246092_465890456950814_1909424439_nঘূর্ণিঝড় রোয়ানু বেলা সাড়ে এগারোটা থেকে চট্টগ্রাম উপকূলে আঘাত হানতে শুরু করে। এসময় সাগরে জোয়ার সহ পূর্ণিমার প্রভাবে উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় পানি প্রবেশ করে। শুরুতে ৬৫ থেকে ৭০ মাইল বেগে বাতাস বইতে শুরু করলে পতেঙ্গা এলাকায় সৈকতের দোকানপাট উড়িয়ে নিয়ে যায়। এসময় বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে থাকে। বাঁশখালী ও সীতাকুণ্ডের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়। ঝড়ের বেগে গাছপালা ভেঙ্গে নগরী ও উপকূলের বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের সকল ধরণের হ্যান্ডলিং বন্ধ করে দেয়ার পাশাপাশি জেটিতে থাকা সব জাহাজ সাগরে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বন্দরের পরিচালক জাফর আলম।

CTGpotengasm20150622201916অপর দিকে ঘূর্ণিঝড়ের শুরুতেই ইপিজেডের সকল কারখানা ছুটি ঘোষণা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ঘূর্ণিঝড় শুরুর পর থেকে দিনভর পুরো চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দিনভর কোথাও বিদুৎ ছিল না। সন্ধ্যার পর কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ এলেও বিশাল এলাকা অন্ধকারে ডুবে আছে।

এছাড়া ঘূর্ণিঝড়ে নগরী ও জেলায় ব্যাপক গাছ পালা ভেঙ্গে পড়েছে। মারা গেছে অনেক গাবদি পশু। বাড়ী ঘর ভেঙ্গে পড়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক।

বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে, শনিবার সকালে জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলায় গাছচাপা পড়ে মা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। উপজেলার জঙ্গল ছলিমপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

SAM_3554 (2)ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রাম বিভাগীয় কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ জানান, রোয়ানুর প্রভাবে সৃষ্ট ভারী বর্ষণ ও ঝড়ো হাওয়ায় গাছচাপা পড়ে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে সীতাকুণ্ড ও কুমিরা স্টেশন থেকে ফায়ার সার্ভিসের দুটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ চালায়। নিহতরা হলেন, মা কাজল (৫০) ও ছেলে বেলাল প্রকাশ বাবু (১০)। বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে নগরীর ষোলশহর শপিং কমপ্লেক্সের পিছনে টিনের চাল পড়ে মারা যায় রাজিব (১৩) নামে এক শিশু।

এছাড়া নগরীর ইপিজেডের আকমল আলী রোডের বেড়িবাঁধ এলাকায় থেকে আবুল হোসেন (৪৫ ) ও তার ছোট ভাই নূরুল আবছার (৪২) এর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পানিতে ডুবে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানাগেছে। দুপুরে দুই ভাই সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। তাদের মধ্যে সন্ধায় নূরুল আবছারের লাশ পাওয়ায় যায়। এর এক ঘণ্টা পর রাত পৌনে ৮টায় নূরুল আবছারের লাশ পাওয়া যায় বেড়িবাঁধ এলাকায়। তাদের গ্রামের বাড়ী বাঁশখালী বলে জানাগেছে।

নগরীর ইপিজেড থানা পুলিশ ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, একজন মারা যাওয়ার কথা আমরা শুনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ গেছে, আসলে বিস্তারিত জানতে পারবো।

13281708_465890390284154_1052947735_nএদিকে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে জেলার বাঁশখালী উপজেলায় অন্তত সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। আরও পাঁচজন নিখোঁজ হওয়ার খবর জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন জানান, শনিবার দুপুরে ঝড় উপকূল অতিক্রম করার সময় সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসে বাঁশখালীর খানখানাবাদ ইউনিয়নে পাঁচ জন এবং ছনুয়া ইউনিয়নে একজনসহ মোট ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, জলোচ্ছ্বাসের পানি বেড়িবাঁধ ভেঙে বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকায় ঢুকে পড়ে। এতে পানিতে ডুবে ওই সাতজন নিহত হয়। এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নে আরও পাঁচজন নিখোঁজ আছে বলে স্থানীয়দের মাধ্যমে শুনেছি। নিহতদের মধ্যে ২ জনের নাম পাওয়া গেছে তারা হলেন, খানখানাবাদ এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিক (৪০) ও ছনুয়া ইউনিয়নে মো. হারুনের স্ত্রী তাহেরা বেগম (২৫)।

বাঁশখালী থানার ওসি আলমগীর হোসেন জানান, জলোচ্ছ্বাসে বেড়িবাঁধ ভেঙে বাঁশখালী উপজেলার খানখানাবাদ, গন্ডামারা, শেখের খিল ও ছনুয়া ইলিশিয়া বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গন্ডামারায় আড়াইশর মত, ছনুয়ায় তিনশর বেশি ঘর-বাড়ি তলিয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

এছাড়া আনোয়ারা, সন্দ্বীপ, সীতাকুন্ড উপকূলীয় এলাকায় ঘুর্ণিঝড়ের তান্ডবে গাছ পালা ঘরবাড়ি উপড়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

Advertisements

কোন মন্তব্য নেই

একটি মন্তব্য দিন