গুজব ছড়িয়ে এলাকায় আতঙ্ক

করোনায় নয়, সীতাকুণ্ডে রেনু বেগমের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে

0
গুজব, প্রতিকী ছবি।

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)  প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড সাধারণ জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হয়ে রেনু বেগম (৪৫) এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু করোনাভাইরাসে তার মৃত্যু হয়েছে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। পরিবারটিকে একঘরে করে রেখেছে এলাকার মানুষ।

সীতাকুণ্ড পৌরসভায় শেখপাড়ায় গতকাল মঙ্গলবার রাতে এই নারীর মৃত্যু হয়। তার পরিবার ও চিকিৎসক ও প্রশাসনের দাবী রেনু বেগমের মৃত্যু করোনাতে হয়নি। তার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

মৃত নারীর পরিবার জানান, সীতাকুণ্ড পৌরসভার শেখপাড়া এলাকায় কামাল উদ্দিনের স্ত্রী রেনু বেগম গত এক সপ্তাহ ধরে বাপের বাড়ি কুমিরায় জ্বর-কাশিতে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ ছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার একটি প্রাইভেট করে অসুস্থ অবস্থায় তাকে সন্ধ্যায় ৬টার দিকে সীতাকুণ্ড পৌরসদরে স্বামীর  বাড়িতে নিয়ে আসে। বাড়িতে আসার প্রায় দুই ঘন্টা পর সে মারা যায়। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে এলাকাবাসীর মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গুজব রটিয়ে যায় করোনাভাইরাসে এ নারীর মৃত্যু হয়েছে।

এরপর থেকে কেউ তার বাড়ির আশপাশেও যাচ্ছে না। এর মধ্যে স্থানীয় কাউন্সিলর হারাধন চৌধুরী বিষয়টি জানতে পারে ওই বাড়ীতে যান। তিনিসহ মৃতদেহটি নিয়ে তার স্বামী আবার সীতাকুণ্ড হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর এ্যাম্বুলেন্স করে মৃতদেহটি নিয়ে তার স্বামী পুনরায় বাড়িতে ফিরে যায়।

এলাকার বাসিন্দা ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন জানান, নিহত রেনু বেগমের বাপের বাড়ি উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের কাজী পাড়ায়। দুই সপ্তাহ আগে ওই মহিলার মাও জ্বর সর্দি কাশিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। পরে রেনু বেগম জ্বর সর্দি কাশিতে আক্রান্ত হয়। এরপর বাপের বাড়িতেই স্থানীয়ভাবে তার চিকিৎসা চলে। এরমধ্যে তার অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে তাকে সীতাকুণ্ডে স্বামীর বাড়িতে নিয়ে আসে। দুইঘন্টা পর ওই মহিলা মারা যায়। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

পৌরসভার ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র হারাধন চৌধুরী জানান, মৃত্যু খবর পেয়ে বিষয়টি ইউএনওকে জানিয়েছি। নিহত মহিলার বাড়িতে করোনা ভাইরাস আতংকে কেউ যাচ্ছে না। তবে দীর্ঘদিন ধরে জ্বর কাশিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে নিহতের স্বামী স্বীকার করেছে। লাশটি দাফন করার জন্য নিহতের পরিবারকে বলা হয়েছে। তবে
লাশের বাড়িতে আতংকে আত্মীয়-স্বজনরাও যাচ্ছে না।

বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নিবার্হী কর্মকতার্ মিল্টন রায় জানান, স্থানীয় কাউন্সিলর ঘটনাটি আমাকে অবগত করার পর ওই বাড়িতে
প্রশাসনের লোক পাঠানো হয়েছে। কিভাবে মারা গেছে বা ঘটনার সম্পর্কে জেনে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান। এনিয়ে এলাকায় আতংক বিরাজ করছে। কেউ বাড়িটির আশিপাশেও যাচ্ছে না।

এদিকে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি মিয়া পাঠক ডট নিউজকে বলেন, চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসে কেউ মারা যায়নি। সীতাকুণ্ডের এক নারীর স্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে অহেতুক গুজব ছড়ানো হচ্ছে। মারা যাওয়া নারীর দেহে করোনার কোন আলামত পাওয়া যায়নি। তার কোন নিকট আত্মীয়ও প্রবাস থেকে আসেনি। কিংবা তিনি করোনা আক্রান্ত কোন রোগীর সংস্পর্শেও যান নি।এনিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য তিনি সকলের প্রতি অনুরোধ জানান।

কোন মন্তব্য নেই