টিভিতে পাঠদানের রেকর্ডিং ব্যয় ১৬ কোটি টাকা!

0

করোনাভাইরাসে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য টিভিতে পাঠদানে এই শুধু ভিডিও রেকর্ডিং করতেই লাগবে ১৬ কোটি টাকা। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত ভিডিও রেকর্ডিংয়ে ১৬ কোটি টাকার বিশাল বাজেট দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)।

গত সপ্তাহে মন্ত্রণালয়ে এই বাজেট চাওয়া হয়েছে। শুধু ভিডিও রেকর্ডিং করতেই এত বিশাল অঙ্কের বাজেট নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।

জানা যায়, শিক্ষা অধিদফতরের সুযোগ সন্ধানীরা ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্টুডিও ব্যবহার করছেন ভিডিও রেকর্ডিংয়ে। যদিও কথা ছিল রেকর্ডিংয়ের জন্য শুধু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ব্যানবেইসের স্টুডিও ব্যবহার করার। তাড়াতাড়ি করার অজুহাত দেখিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেয়া হয়েছে। অথচ ঢাকার কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের স্টুডিও ছিল। তবুও দু’টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সরকারের কাজে যুক্ত করছে শিক্ষা অধিদফতরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা।

করোনাভাইরাসের কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় সংসদ টেলিভিশনে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষাদান করার উদ্যোগ নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এটুআই প্রকল্পের সহায়তায় এই সম্প্রচার কাজটি বাস্তবায়ন করতে বলা হয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরকে। এই সুযোগে বিশাল বাজেট দিয়ে বসেছে অধিদফতরটি। টিভিতে সম্প্রচারের জন্য ক্লাসের ভিডিও ধারণেই এই বিশাল অঙ্কের বাজেট চেয়েছে শিক্ষা অধিদফতর।

টিভিতে ক্লাস নেয়ার বিষয়টি দেখভাল করছেন মাউশির কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক অধ্যাপক মো: শাহেদুল খবির চৌধুরী। ১৬ কোটি টাকা কোন খাতে ব্যয় ধার্য করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান। কোন কোন খাতে অর্থ ব্যয় হবে তাও তিনি বলতে পারেন না বলে জানিয়েছেন। বাজেটের বিষয়টি মাউশির প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন শাখা করতে বলেছে এমনটি উল্লেখ করেন তিনি।

মাউশির পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ড. প্রবীরকুমার ভট্টাচার্যের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি। বিষয়টি নিয়ে মাউশি মহাপরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেন প্রবীর ভট্টাচার্য। তবে মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ গোলাম ফারুকের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ছুটির দিনগুলোতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য টেলিভিশনে শ্রেণী পাঠদান চলতি সপ্তাহ থেকে সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে সম্প্রচার শুরু করা হবে বলে জানা গেছে। গত রোববার থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্যও একই ধরনের পাঠদান শুরু হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো: ফসিউল্লাহ বলেন, ছুটির দিনগুলোতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যেতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪০ জন সিনিয়র শিক্ষকের মাধ্যমে ভিডিও ধারণ করে তা সংসদ টেলিভিশনে প্রতিদিন সম্প্রচার করা হবে।

গত ২৫ মার্চ থেকে এ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহ থেকে এটি সম্প্রচার শুরু করা হবে।

মহাপরিচালক বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানোর চিন্তা-ভাবনা থেকে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য টেলিভিশনে শ্রেণী পাঠদান প্রচারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রথম থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীর জন্য ভিডিও আকারে বর্ণ শেখা ও রিডিং পড়া শেখানো হবে।

অন্যদিকে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের সিলেবাস অনুযায়ী শিক্ষকদের মাধ্যমে ভিডিও ধারণ করে ক্লাস নেয়া এবং বিভিন্ন প্রশ্নোত্তর শিখতে হোম ওয়ার্ক (বাসার কাজ) দেয়া হবে। পরদিন শিক্ষার্থীদের হোম ওয়ার্ক সঠিক করে দেবেন শিক্ষকরা। সুত্রঃ ডিবিসি নিউজ

কোন মন্তব্য নেই