চট্টগ্রামে মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলা

0
thumb_920_522x341_0_0_crop
.

প্রতি বছরের মত এবারও বন্দর নগরী চট্টগ্রামে ১ নভেম্বর থেকে ও শুরু হচ্ছে সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলা। নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে যাওয়া আয়কর মেলা চলবে সাত নভেম্বর পর্যন্ত।

চট্টগ্রাম আয়কর বিভাগ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আয়কর মেলা পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মাহবুব হোসেন স্বাক্ষরিত এই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে এক সপ্তাহব্যাপী এ মেলা আগামী এক নভেম্বর থেকে শুরু হবে। এতে আয়কর মেলা সফলভাবে আয়োজনের জন্য সকল সরকারি বিভাগ সমূহের প্রতিনিধিরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ জানান।

স্বাভাবিক সময়ে কর আদায়ে তেমন গতি না থাকলেও এবারও মেলায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হবে এমন প্রত্যাশা আয়কর কর্মকর্তাদের।

এব্যাপারে আহ্বায়ক মাহবুব হোসেন বলেন, ৩০ নভেম্বর আয়কর রিটার্ন জমাদানের শেষ তারিখ নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। কোনো অবস্থাতেই এ সময় আর বাড়ানো হবে না। নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা না দিলে পরবর্তীতে জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এতে চলতি বছর আয়কর দিবস এবং আয়কর মেলা সেপ্টেম্বর মাসে করা হয়নি। আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত আয়কর মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একযোগে আয়কর মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া সব জেলা শহরে ৪ দিনের জন্য এই মেলার আয়োজন করা হবে। একইসঙ্গে দেশের ৮৬টি উপজেলা সদরে একদিন/ দুইদিন করে ভ্রাম্যমাণ আয়কর মেলার আয়োজন করা হচ্ছে।

মাহবুব হোসেন বলেন, ২০০৮ সাল থেকে প্রতি বছর ১৫ সেপ্টেম্বর আয়কর দিবস পালন করে আসছিল সরকার। আয়কর দিবসকে ঘিরে ২০১০ সাল থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়কর মেলার আয়োজন করে আসছে। তবে এবার পুরো আয়োজনে একটু পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে প্রতি বছর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা ছিল। পরবর্তীতে প্রায় দুই মাস পর্যন্ত সময় বাড়ানো হতো। এবার তা আর হবে না।

তিনি আরও জানান, বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ব্যক্তির বার্ষিক আয় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি হলে আয়কর পরিশোধ করতে হয়। মহিলা এবং ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে যেকোনো ব্যক্তির জন্য আয়করের নির্দিষ্ট সীমা ৩ লাখ টাকা। প্রতিবন্ধীদের জন্য ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার জন্য জন্য ৪ লাখ ২৫ টাকা। অর্থাৎ বছরে উক্ত সীমার বেশি আয় করলে তাকে সরকারকে নির্দিষ্ট হারে কর প্রদান করতে হবে।

সুত্র জানায়, ২০১০ সালে প্রথমবার আয়কর মেলার আয়োজন করা হয় বাণিজ্য নগরী চট্টগ্রামে। সেই মেলায় রাজস্ব আদায় হয় ৪০ কোটি ১২ লাখ টাকা। আর  রিটার্ন জমা পড়ে ১৪ হাজার ৩শ ৩৩টি। ৫ বছরের ব্যবধানে মেলায় রাজস্ব আদায় বেড়েছে ৪শ ৪২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। আর রিটার্ন বাড়ে ৩ হাজারের বেশি।

সাধারণত গোটা বছর আয়কর পরিশোধ আর রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা থাকলেও অনেকটা শেষ সময়ে অর্থাৎ মেলাতেই সাড়া মিলে বেশি। তবে গেল বছর মেলায় করদাতাদের ব্যাপক সাড়ার পরও চট্টগ্রাম অঞ্চলে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি ছিল ৫২ কোটি টাকা।

গতবছরের তুলনায় ২ হাজার ৪শ ৩৮ কোটি বাড়িয়ে চলতি বছর আদায়ের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৫শ ৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে গেল সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র ১৬শ ৩৩ কোটি টাকা আদায় হওয়ায় মেলার মাধ্যমেই বকেয়া থাকা বড় অংকের রাজস্ব আদায়ের স্বপ্ন দেখছেন কর কর্মকর্তারা।

আগে অনলাইনে কর পরিশোধের সুযোগ থাকলেও এবারের মেলায় প্রথমবারের মতো অনলাইনে রিটার্ন জমার ব্যবস্থা চালুসহ অধিকতর করদাতাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন আয়োজকরা।

১ থেকে ৭ নভেম্বর মেলা ছাড়াও ১৭ তারিখে সেরা করদাতা সম্মাননা আর ২৪ থেকে ৩০ নভেম্বর কার্যালয়গুলোতে আয়কর সপ্তাহেরও আয়োজন থাকছে এবার।

কোন মন্তব্য নেই