“এ মর্মান্তিক মৃত্যুর দায় কিভাবে এড়াবে রাষ্ট্র?”

0
.

এম আব্দুল্লাহঃ
মোনায়েম ভাই। মেধাবী সাংবাদিক। কক্সবাজারের সিনিয়র সাংবাদিক। একটু অক্সিজেন সাপোর্টের অভাবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছটফট করতে করতে আজ রবিবার বেলা আড়াইটায় চলে গেলেন মহান প্রভুর সান্নিধ্যে। আর কোন দিন ফোন করে চাইবেন না একটা আইসিইউ বেডের সুবিধা।

সকাল থেকে আমি নিজে এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের অনেক সহকর্মী, সাংবাদিক নেতা, বন্ধু চেষ্টা করেও মোনায়েম ভাইর জন্য একটু অক্সিজেন সাপোর্টের ব্যবস্থা করতে পারলাম না। ওই মেডিকেলে নাকি হাশরের ময়দানের পরিস্থিতি। সীমিত অক্সিজেন সাপোর্ট নিয়ে মৃত্যু যন্ত্রণার মুখোমুখি রোগীদের কাড়াকাড়ি। এর কাছ থেকে খুলে নিয়ে ওকে দেয়া হচ্ছে।

করোনা আক্রান্ত হয়ে বাসায় ও কক্সবাজারে চিকিৎসাধীন থাকার পর তিন দিন আগে চট্টগ্রামে স্থানান্তরের সময় এম্বুলেন্সে থাকাকালেই আমি ঢাকায় নিয়ে আসতে বলেছিলাম। কিন্তু তাঁর অবস্থা পারমিট করেনি। গতকাল জানলাম ভালোর দিকে। নিভে যাওয়ার আগে সম্ভবতঃ জ্বলে উঠেছিলেন। আজ হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বেড়ে অল্প সময়ের মধ্যেই চলে গেলেন।

ক্ষমতাসীনরা কি জবাব দেবেন? ১১ বছর টানা ক্ষমতায় আছেন। দ্বিতীয় রাজধানীতে একজন সিনিয়র সাংবাদিকের এ অবস্থা! সাধারণ নাগরিকের কী অবস্থা? এ ব্যর্থতা যে আমাদেরও কুরে কুরে খাবে।

মোনায়েম ভাই ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের কক্সবাজার প্রতিনিধি। এর আগে ডেইলি স্টার, ডেইলি সান, নিউনেশনসহ প্রভাবশালী মিডিয়ায় কাজ করেছেন। অত্যন্ত সজ্জন, অমায়িক ও ক্লিন ইমেজের সাংবাদিক ছিলেন। ঘাতক করোনায় মৃত্যুবরণকারী দশম সাংবাদিক মোনায়েম ভাই। আল্লাহ শাহাদাতের মর্যাদায় বেহেশত নসীব করুন।

বিএফইউজের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

লেখক : এম আবদুল্লাহ, মহাসচিব, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে।

“পাঠকের কলাম” বিভাগের সকল সংবাদ, চিত্র পাঠকের একান্ত নিজস্ব মতামত, এই বিভাগে প্রকাশিত সকল সংবাদ পাঠক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। তা্ই এ বিভাগে প্রকাশিত কোন সংবাদের জন্য পাঠক.নিউজ কর্তৃপক্ষ কোনো ভাবেই দায়ী নয়।

কোন মন্তব্য নেই