চট্টগ্রাম বন্দরে আলোচিত কোকেন চোরাচালান মামলা: আদালতে ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশীট

0
.

চট্টগ্রাম বন্দরে ২০১৫ সালে আলোচিত ৯ হাজার কোটি টাকা মূল্যের কোকেনের চালান আটকের ঘটনায় চোরাচালান আইনে দায়ের করা মামলায় চার্জশিট দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৭)।

আজ সোমবার (২৯ জুন) বিকালে চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাবের পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন ফারুকী। এ চার্জশিটে ১০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৪ জন পলাতক, ১ জন জামিনে ও ৫ জন কারাগারে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

চার্জশীটভুক্ত আসামিরা হলেন- আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খানজাহান আলী লিমিটেডের মালিকানাধীন প্রাইম হ্যাচারির ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা প্রকাশ সোহেল (৩৯), খানজাহান আলী লিমিটেডের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ (৪৯), আবাসন ব্যবসায়ী মো. মোস্তফা কামাল (৪২), সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. মেহেদী আলম (৩১), গার্মেন্টস পণ্য রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান মণ্ডল গ্রুপের বাণিজ্যিক নির্বাহী মো. আতিকুর রহমান (২৯), কসকো শিপিং লাইনের ম্যানেজার এ কে এম আজাদ (৪৮), সিএন্ডএফ কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম (৩২), খানজাহান আলী গ্রুপের পরিচালক মোস্তাক আহাম্মদ খান (৪৫), ফজলুর রহমান (৩৫) ও মো. বকুল মিয়া (৩১)। এদের মধ্যে ১ আসামি জামিনে, ৫ আসামি কারাগারে ও ৪ আসামি পলাতক রয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা যায়।

একই ঘটনায় মাদক আইনে দায়ের হওয়া অপর মামলায় ২০১৭ সালের ২ এপ্রিল আদালতে অধিকতর তদন্তের চার্জশিট দাখিল করে র‌্যাব। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ওই মামলার ১০ আসামির সবাইকে চোরাচালন মামলায়ও আসামি করা হয়েছে। তবে চোরাচালান মামলার তদন্তে আরও নতুন কিছু তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাবে কর্মরত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকী।

তিনি জানান, সোমবার চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় কোকেন চোরাচালান মামলার চার্জশিট জমা দেয়া হয়েছে। মাদক আইনে এর আগে যে ১০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল, এই মামলাতেও তাদেরই অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে বলিভিয়া থেকে কোকেনের চালানটি বাংলাদেশে আসা পর্যন্ত কিছু নতুন তথ্য এতে উঠে এসেছে।

মামলা সুত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৬ জুন রাতে চট্টগ্রাম বন্দরে সন্দেহজনক একটি কনটেইনার আটকের পর তা সিলগালা করে দেন শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। দু’দিন পর বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ৮ জুন এ কনটেইনার খুলে ১০৭টি ড্রাম পাওয়া যায়।

প্রতি ড্রামে ছিল ১৮৫ কেজি করে সানফ্লাওয়ার তেল। প্রথম দফায় এ তেলের নমুনা পরীক্ষা করে কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়া না গেলেও একই বছরের ২৭ জুন ল্যাব মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের নিজস্ব ল্যাবে পরীক্ষা করে দুটি ড্রামে কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

তবে চার বছর পরও জানা যায়নি ওই চালানে কী পরিমাণ কোকেন ছিল। পরিমাণ নির্ধারণের অত্যাধুনিক যন্ত্র না থাকায় তা নির্ধারণ করা যাচ্ছে না বলে দাবি করেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা।

ওই ঘটনায় ২৮ জুন বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওসমান গনি বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। একই বছরের ১৯ নভেম্বর তদন্তকারী কর্মকর্তা তৎকালীন নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (উত্তর) মো. কামরুজ্জামান ৮ জনকে আসামি করে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

পরবর্তী সময়ে অধিকতর তদন্তে র‌্যাব-৭-এর তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন ফারুকী আরও দু’জনকে অন্তর্ভুক্ত করে আদালতে দুটি মামলায় ১০ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই