ব্যতিক্রমী অনুকরণীয় আদর্শের সাংবাদিক ছিলেন মরহুম নজির আহমদ

0
মরহুম নজীর আহমদ। ইনসেটে লেখক।

জিয়া হাবীব আহসান:
গত ১৮ই জুলাই চলে গেল বরেণ্য সাংবাদিক কথাশিল্পী নজির আহমদের ১২ তম মৃত্যু বার্ষিকী। সুদীর্ঘ জীবন তিনি সাংবাদিকতার পাশাপাশি ভ্রমণ কাহিনী, উপন্যাস ও জীবনধর্মী সাহিত্য কর্ম রচনা করে যান। বর্তমানে সামাজিক এ অবক্ষয়ের যুগে তিনি একজন ব্যতিক্রমী অনুকরণীয় আদর্শ এবং একজন অনুস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব বটে। খুব কাছ থেকে দেখা বহু গুণে গুণান্বিত একজন মানুষ সাংবাদিক ও সাহিত্যিক শ্রদ্ধেয় নজির আহমদ। তাঁর পেশা সাংবাদিকতা হলেও তিনি একজন বরেণ্য সাহিত্যিকও। সাংবাদিক হিসেবে বরাবরই পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। সাংবাদিকতাকে ব্যবহার করে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কখনো লাভবান হতে চাননি। নীতির প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি। আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। সাংবাদিক ফোরামের নেতা হিসেবে তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিচক্ষণ। স্কুল জীবনে আমি যখন স্কাউট আন্দোলনে জড়িয়ে পড়লাম তখন থেকে তাঁকে চেনা-জানা। তাঁর পুত্র আলীম আল শরীফ, জাহেদ আল শরীফ আমাদের একই স্কুলের ছাত্র ছিল। স্কাউটিং-এ আলীম আল শরীফ আমার স্নেহধন্য জুনিয়র ছিল। তাই তাদের আন্দরকিল্লা সমবায় ভবনের বাসায়ও বেশ কয়েকবার গিয়েছি। তাঁর বড় মেয়ে নিগার সুলতানা চট্টগ্রাম কলেজে ১৯৮১-৮২ ব্যাচে আমাদের সহপাঠী ছিল। পরবর্তীতে আমার ঘনিষ্ঠজন আনসারুল সিদ্দিক মরহুমের পঞ্চম সন্তান জিগার সাফিনাকে বিয়ে করলে পরিবারটির সাথে আমি আরো বেশি ঘনিষ্ট হয়ে পড়ি। ২০০৮ সালের ১৮ই জুলাই সাংবাদিক জহির আহমদ সাহেব যখন ইন্তেকাল করেন তখন আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আমন্ত্রণে একটি ইন্টারন্যাশন্যাল ভিজিটরস লীডারশিপ প্রোগ্রামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলাম। তাঁর মৃত্যু সংবাদ পেয়ে খুবই মর্মাহত হই এবং এ-প্রতিভাবান সাংবাদিকের সম্পর্কে কিছু লিখার সংকল্প করি। ২০০৮ সালের ১৮ই জুলাই তিনি ইন্তেকাল করেন এবং সাংবাদিক হাউজিং সোসাইটির কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়, তিনি দীর্ঘ সময় সাংবাদিকের অধিকার ও স্বার্থ নিয়ে কাজ করেন। ইতিমধ্যে মরহুম নজির আহমদ সাহেবের ৩ পুত্র ও ৩ কন্যা বর্তমানে সবাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন ২০১৮ সালে আমি যখন ২য় বার স্বপরিবারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সফরে যাই ফ্লোরিডায় মরহুমের কন্যা জিগার সাফিনার স্বামী আনসারের বাসায় দাওয়াতে অংশ নিই। ফেরার পথে শত ব্যস্ততার মাঝেও মরহুমের ২য় সন্তান আলীম আল শরীফ স্বস্ত্রীক এয়ারপোর্টে এসে আমার এবং আমার পরিবারের সাথে এসে সাক্ষাৎ করে যান। নজির আহমদ তখনকার বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলার কক্সবাজার মহকুমার অন্তর্গত চকরিয়া থানার পানখালী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কক্সবাজার এখন জেলা, ইউনিয়নের নাম ফাসিয়াখালি, আরকান রোড় (চট্টগ্রাম-কক্সবাজার) সড়কের ৬১/৬২ মাইলের মাথায় তাঁদের গ্রাম ও ইউনিয়ন। বর্তমানে এইটা চকরিয়া পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত।  এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তার জন্মগ্রহণ করেন । তাঁর পিতার নাম মরহুম আলী মিয়া, মাতার নাম মফিজা খাতুন, তাঁর স্ত্রী রাহেলা নাজির এর গর্ভে তিন ছেলে ও তিন কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করেন। তিন কন্যা যথাক্রমে নিগার সুলতানা, জিগার সুলতানা, নিগাত হাবিবা, তিন পুত্র যথাক্রমে আলীম আল শরীফ, শামীম আল শরীফ, জাহেদ আল শরীফ কন্যা পুত্রগণ যথাক্রমে সকলেই বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। গ্রামের স্কুলেই তাঁর লেখা পড়ার জীবন শুরু হয়। তিনি ছিলেন পিতা-মাতার একমাত্র সন্তান। আদরের সন্তানকে উচ্চ শিক্ষিত করতে মা-বাবার আগ্রহের কমতি ছিল না। ১৯৪৪-৪৫ সনের বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকের কিছু ভয়াবহ দৃশ্য তাঁর দেখার সুযোগ হয়েছিল। যার কিছু অভিজ্ঞতা সাহিত্য কর্মেও ফুটে উঠেছে । ছোটবেলা থেকেই অনেকে বলত তিনি বড় হলে ডাক্তার হবেন, ইঞ্জিনিয়ার হবেন, পাইলট হবেন কিন্তু ছোটবেলা থেকেই তিনি কল্পনা করতেন তিনি একজন সাংবাদিক যিনি প্রেসিডেন্ট বা মন্ত্রীর সামনে কলম ও নোটবুক হাতে সংবাদ নোট করছেন।” তাঁর মনে বাল্যকাল থেকেই সাংবাদিকতার পেশা উঁকি-ঝুঁকি মারতে থাকে । ১৯৫৫ সালে মেট্রিকুলেশন বা প্রবেশিকা পরীক্ষা পাশ করার আগে তাঁর বাবা মারা যান। কিন্তু একমাত্র মায়ের উৎসাহে তাঁর লেখা-পড়া চলতে থাকে । পৈতৃক সম্পত্তির উপরই ভিত্তি করে তাঁর লেখাপড়া চলতে থাকে। ১৯৫৭ সালে আই.এ, ১৯৬১ সালে বি.এ, এবং ১৯৭৪ সালে সাংবাদিকতায় ডিপ্লোমা পরীক্ষা পাশ করেন । তবে ১৯৫১ সালে তিনি তখনকার পাকিস্থান সেনাবাহিনীতে ক্যাডেট হিসেবে যোগ দান করেন । ঢাকার কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টে তাঁরা মোট ১০০ জন ক্যাডেট ছিলেন । কমিশন পাওয়ার সময় হলে তিনি কেন জানি আর্মির চাকরিতে সন্তুষ্ট ছিলেন না । ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির একদিন আগে কুর্মিটোলা ক্যান্টমেন্টের একটি ঘটনা তাঁর মনে পাকিস্থানী সেনাবাহিনী সম্পর্কে একটি বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেন। বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতির আন্দোলন দেখাতে তৎকালীন পাকিস্থান সরকার, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর লোকদের জবাই করে, গুলি করে হত্যা করে। যার একটি মহড়া অনুষ্ঠিত হয় কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টে। তিনি এর প্রতিবাদ করতে অস্থির হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তিনি ছুটি নিয়ে বাড়ি চলে যান এবং আর ক্যান্টনমেন্টে ফিরে যাননি । তিনি আবার লেখাপড়া শুরু করেন এবং তৃতীয় শ্রেণী ও অষ্টম শ্রেণীতে না পড়ে মেট্রিকুলেশনের দিকে এগিয়ে যান ১৯৫৮ সালে চট্টগ্রাম কলেজে অধ্যায়নকালে ডেইলি ইস্টার্ন এক্সামিনার, ইউনিটি ও বাংলাদেশ অবজার্ভের তাঁর কয়েকটি চিঠি প্রকাশিত হলে তিনি উৎসাহিত হয়ে পড়েন। ১৯৫৬ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত ইয়াং পাকিস্থান পাক্ষিক পত্রিকায় —দ্যা ম্যাগনিফিসেন্ট স্যু’’ হ্যাডলাইনে তাঁর একটি ইংরেজী ছোট গল্প প্রকাশিত হয়েছিল। এভাবে তাঁর লেখালেখি সাংবাদিকতায় পেশার যোগদানে উৎসাহ যোগায়। ১৯৬১ সালের শেষের দিকে ডেইলি ইস্টার্ন এক্সামিনারে শিক্ষানবিশ সাংবাদিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। সেখানে বছরখানেক কাজ করার পর তিনি ডেইলি ইউনিটি’’ পত্রিকায় সিনিয়র সহঃ সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন এবং সাথে তাঁকে কোর্ট রিপোর্টিং এর উপর ও দায়িত্ব দেয়া হয় । সেখানে ১৯৬৩-১৯৬৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চাকরি পালনকালে চীফ রিপোর্টার পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন । ১৯৬৩ সালে ডেইলি ইউনিটি পত্রিকায় যোগ দেন। সাংবাদিকতার মত ঝুঁকিপুর্ণ পেশায় তাঁকে অনেক কাটখড় পোহাতে হয়। সাংবাদিকদের বেতন ভাতা নিয়েও বিভিন্ন সময় ভুমিকা রাখেন । তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সব সময় অকপটে সত্য বলতে পারতেন । মেরুদণ্ড সোজা করে হাঁটার মতো সাংবাদিক কমই আছেন, নজির আহমদ ছিলেন তেমন এক ব্যক্তি। তিনি গণতন্ত্রের জন্য, মুক্ত মতের জন্য, কথা বলার স্বাধীনতার জন্য, সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। ১৯৬৯ সালের গণ আন্দোলনের সময় তিনি চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের তৃতীয় বার সভাপতি নির্বাচিত হন এবং একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে সাংবাদিকরা তাঁর নেতৃত্বে গণ আন্দোলনের সাথে একাত্নতা ঘোষণা করেন।  ১৯৭০ সালে তিনি গ্রামে চলে যান এবং কিছুদিন শিক্ষকতা করেন। পাশা-পাশি ডেইলি পিপলস ভিউতে সংবাদ পাঠাতেন । তিনি যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের নানাভাবে সাহায্য করেন। ১৯৭২ সালের শেষ নাগাদ তিনি ঢাকায় বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসস এ যোগদান করেন। পর্যায়ক্রমে সিনিয়র সাব এডিটর থেকে ব্যুরো প্রধান পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।  বাসস এ তিনি ২৯ বছর কাজ করেন । এই সময় তিনি দেশে বিদেশে সাংবাদিকতায় প্রশিক্ষণের অনেক সুযোগ পান । ১৯৭৪ সালে প্রথম তিনি বৃত্তি নিয়ে হাঙ্গেরির বুডাপেস্টে সাংবাদিকতার ডিপ্লোমা নেয়ার সুযোগ পান । ১৯৭৪ সালের ৬/৭ মাস পর্যন্ত তিনি ভারত, ঘানা, মিশর, ইরাক-এ সাংবাদিকতার উচ্চতর প্রশিক্ষণের সু্যগ পান । সংবাদপত্রে তিনি ৩/৪ বছর কাজ করার পর তিনি তখনকার টি.আই.এ এবং পুলিশ বিভাগে ইন্টারভিউ দিয়ে দু’দিকেই চাকরি পান । পুলিশের এস.আই না হয়ে তিনি টি.আই.এ তে যোগ দেন, কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার সাংবাদিকতার টানে ফিরে আসেন । যোগ দেন ডেইলি ইউনিটের সদরঘাট অফিসে। চার দশক সাংবাদিকতায় কাটান । ১৯৭২ সালে বাসস-এ যোগ দিয়ে উক্ত জাতীয় সংবাদ সংস্থায় ২৯ বছর চাকরি করেন । ১৯৭২ সালে তাঁকে চকরিয়ায় ফাঁসিয়াখালি ইউনিয়নের রিলিফ চেয়ারম্যান মনোনীত করা হয়েছিল । চট্টগ্রামে তিনি সাংবাদিকদের চারটি সংগঠনের সাথে ওতোপ্রতভাবে জড়িত ছিলেন । চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের ৩বার সভাপতি, সাংবাদিক হাউজিং কমিটির প্রথম আহ্বায়ক ও পরে সাংবাদিক কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও মেট্রোপলিটন সাংবাদিক সমবায় সমিতির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন। সাংবাদিকদের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) তিনি প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি (১৯৭৩ সাল থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত) ছিলেন । ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সালে তিনি বি.এফ.ইউ.জে এর সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন স্বাধীনতার আগে তিনি পাকিস্থান ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাহী সদস্য ছিলেন । সাংবাদিকদের জন্য ১৬ একর খাস জমির বরাদ্দ পাওয়া এবং ১২০টি প্লট সাংবাদিকদের হস্তান্তরে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য । পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তিনি তুরুষ্কের প্রেসিডেন্ট সুলেমান ডেমিরেল, বার্মার প্রেসিডেন্ট নে-উইন, ইরানের প্রেসিডেন্ট রাফসানজানি সহ বহু বিখ্যাত ব্যাক্তির ইন্টারভিউ গ্রহণ করেন । ১৯৭২ সালের শেষ পর্ব থেকে ২০০১ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন দশক জাতীয় সংবাদ সংস্থার কাজ করেন। ২৫/২৬ বছর বাসস চট্টগ্রাম ব্যুরো চীফের দায়িত্ব পালনকালে আমরা প্রায় তাঁর অফিসে যেতাম এবং তিনি আমাদের স্কাউট আন্দোলনে নানাভাবে সহায়তা দিতেন । সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাহিত্য ও উপন্যাসে তাঁর সমদক্ষতা ছিল । ছোটগল্প ও উপন্যাস উভয় শাখাতেই তার ছিল অবাধ বিচরণ। সাংবাদিক হিসেবেও তার খ্যাতি অবদান উল্লেখযোগ্য। তিনি নিজ হাতে লিখে আমাকে তাঁর রচিত —সওদাগর কন্যা’’ উপন্যাসটি উপহার দেন। এই পর্যন্ত তাঁর প্রায় ১৫টি বই প্রকাশিত হয়েছে যেগুলোর মধ্যে রয়েছে ৩টি ইংরেজী বই এবং উপন্যাসের সংখ্যা ৬টি । তাঁর উপন্যাসের কাহিনীগুলো কোন না কোন বাস্তব ঘটনাকে কেন্দ্র করে রচিত এবং সে ঘটনাগুলো তাঁর সাংবাদিকতা পেশার দায়িত্ব পালনের সময় ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন । নজির আহমেদের প্রকাশিত বইসমূহঃ ১) স্মরণিকা-৮১ জীবনী, ২) সৃষ্টিকর্তা মানব ও ধর্ম-ধর্মীয়, ৩) সওদাগর কন্যা- উপন্যাস, ৪) রক্তাক্ত লাশ- ছোটগল্প, ৫) অনুপম ভালবাসা- উপন্যাস, ৬) Sacred Verses- ধর্মীয়, ৭) Love & Freedom, ৮) Fall of iron curtain, ৯) যতো সব মজার স্বপ্ন, ১০) স্মরণী- জীবনী, ১১) যতো আলো ছিল, এবং ১২) ভাটির দেশের কন্যা । প্রকাশিতব্য ছিলঃ ১) ঝড়ের পর ঝড়, ২) যখন ঝড় এল, ৩) ছোটদের ছড়া আর ছড়া। সাংবাদিক নজির আহমদ সাহেব সাংবাদিকতায় আন্তর্জাতিক বহু ট্রেনিংয়ে অংশগ্রহণ করেন, ১৯৭৩-৭৪ সনের দিকে দু’বছরে আমেরিকা, তদানিন্তন সোভিয়েত ইউনিয়ন, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, চেকেস্লোভাকিয়া প্রভৃতিসহ প্রায় ৯৪টি দেশ সফর করেন এবং প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পেশাগত জীবনে অত্যন্ত সফল, সহজসরল, জ্ঞান পিপাসু মানুষটির কথা নতুন প্রজন্মের সামনে আমার এই ক্ষুদ্র প্র্য়াস যেন সফল হয়। “একটা মানুষ হয়ত দৈহিকভাবে বেশিদিন বেঁচে থাকেন না, কিন্তু তার প্রিয় মানুষরা তাকে যতদিন স্মরণ রাখবেন তিনি ততদিনই বেঁচে থাকবেন। তেমনি নজির আহমদ আমাদের মাঝে শুধু বেঁচেই নেই, তিনি আমাদের মাঝে প্রবলভাবে বেঁচে আছেন তার আদর্শ ও কর্মের মাধ্যমে। তাঁর মৃত্যু ছিল সাংবাদিক সমাজের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি । জাতির এ ক্রান্তিকালে তাঁর মতো সৎ, সাহসী ও নির্ভীক সাংবাদিক নেতার খুব প্রয়োজন ছিল। আমি মরহুম নজির আহমদ সাহেবের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। আল্লাহ পাক সুবহানুওয়াতায়ালা তাঁকে জান্নাতের উচ্চ মাকামে স্থান দিন । আমিন ।

লেখকঃ জিয়া হাবীব আহসান: আইনজীবী, কলামিস্ট, মানবাধিকার ও সুশাসনকর্মী।

“পাঠকের কলাম” বিভাগের সকল সংবাদ, চিত্র পাঠকের একান্ত নিজস্ব মতামত, এই বিভাগে প্রকাশিত সকল সংবাদ পাঠক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। তা্ই এ বিভাগে প্রকাশিত কোন সংবাদের জন্য পাঠক.নিউজ কর্তৃপক্ষ কোনো ভাবেই দায়ী নয়।”

কোন মন্তব্য নেই