বন্ধু দেশ ভারত! ইলিশ পেয়েও পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করলো

0
.

দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ শুভেচ্ছা স্বরূপ ১ হাজার ৪৫০ টন ইলিশ। যার প্রথম চালান বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে ইতোমধ্যে প্রবেশ করেছে। এদিকে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) থেকে বাংলাদেশে সব ধরনের পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করেছে ভারত।

সোমবার সন্ধ্যায় প্রথম চালানের দুইটি ট্রাকে ১২ টন ইলিশ ভারতে পেট্রাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। বেনাপোল মৎস্য অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, ১ হাজার ৪৫০ টনের মধ্যে সোমবার ইলিশের প্রথম চালান ১২ টন ভারতে প্রবেশ করেছে। পর্যায়ক্রমে বাকি ইলিশ রফতানি হবে ভারতে।

বেনাপোল বন্দর সূত্রমতে, ২০১২ সালে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ মাছ রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। তবে এরপর বাংলাদেশ সরকার একাধিকবার ভারত সরকারকে শুভেচ্ছা উপহার স্বরূপ ইলিশ মাছ দিয়েছে। গতবছরও দুর্গাপুজার সময় দেওয়া হয়েছিল ৫০০ টন ইলিশ।

আজ দুপুরে ইলিশের প্রথম চালান বেনাপোল বন্দর এলাকায় এসে পৌঁছায়। ইলিশ রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান জানায়, প্রতি কেজি ইলিশ মাছ মার্কিন ১০ ডলারে রফতানি করা হয়, যা বাংলাদেশি মূদ্রায় ৮৫০ টাকা।

এদিকে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের বিষয়ে ভারতের এক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বলেন, সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে পেঁয়াজের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। ফলে ভারতের বাজারেই পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন অবস্থায় পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি রুখতে রফতানি বন্ধে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ভারত সরকার হিলি কাস্টমসে নির্দেশনা দিয়েছে। সে মোতাবেক কাস্টমস কতৃপক্ষ জানিয়েছেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আজ থেকে সব ধরনের পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ থাকবে।

এ সংক্রান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন এখনো জারি হয়নি, তবে অচিরেই জারি হবে বলে জানিয়েছেন শংকর দাস। একই সঙ্গে পেঁয়াজ আমদানির জন্য যেসব এলসি খোলা রয়েছে এবং টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পুর্ণ হয়েছে সেগুলোর বিপরীতেও কোনো পেঁয়াজ রফতানি হবে না বলে জানান তিনি। আপাতত বন্দর দিয়ে কোনো পেঁয়াজ রফতানি করছে না ভারত।

ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের একটি সূত্র জানায়, দেশের সকল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে পেঁয়াজের রফতানি বন্ধ রয়েছে। বেনাপোল বন্দর দিয়ে সকালের দিকে ৫০ টন পেঁয়াজ ঢোকার পরপরই দেশের সবগুলো বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয় ভারতের পেঁয়াজ রফতানিকারকদের সংগঠন। এদিকে সকাল থেকে যশোরের বেনাপোল ও সাতক্ষীরার ভোমরা বন্দর দিয়ে কোনো পেঁয়াজের গাড়ি বাংলাদেশে প্রবেশ করেনি।

বেনাপোলের ওপারে পেট্রাপোল রফতানিকারক সমিতির পক্ষে পেট্রাপোল সিঅ্যান্ডএফ কর্মকর্তা কার্তিক চন্দ্র ঘোষ বলেন, পেঁয়াজ রফতানিকারক সমিতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে ৭৫০ মার্কিন ডলারের নীচে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি করবে না। সে কারণে শতাধিক পেঁয়াজ ভর্তি গাড়ি পেট্রাপোল বন্দরে দাঁড়িয়ে আছে।

অপরদিকে বেনাপোলের পেঁয়াজ আমদানিকারক রফিকুল ইসলাম রয়েল জানান, ভারতের সঙ্গে আমদানি বাণিজ্য শুরুর পর থেকে ১৫৫-২৫০ ডলারে পেঁয়াজ আমদানি হয়ে আসছে। ভারতের নাসিকে বন্যার কারণে সেখানে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় পেঁয়াজের রফতানিকারকরা স্থানীয় বাজার দর হিসাবে ৭৫০ ডলারের নীচে বাংলাদেশে পেঁয়াজের রফতানি করবে না। এ কারণে তাঁরা পেঁয়াজের রফতানি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের চাহিদানুযায়ী ৭৫০ ডলারে পেঁয়াজ বাংলাদেশের আমদানিকারকরা নিতে চাইলে তারা আবার পেঁয়াজ রফতানি করবে বলে জানিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পারস্পারিক বাণিজ্যে সমঝোতার বিকল্প নেই। তাঁরা রফতানি বন্ধ না করে পেঁয়াজের আমাদানিকারকদের কে সময় বেঁধে দিতে পারতেন। হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্তটা নেওয়া ঠিক হয়নি।

কোন মন্তব্য নেই