খিচুড়ি শিক্ষা সফর দুর্নীতি: সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড়

0
.

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য খিচুড়ি রান্না, পরিবেশনের প্রশিক্ষণ বা এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হাজারখানেক কর্মকর্তাকে বিদেশ পাঠাতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রস্তাব নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। অনেকে বলছেন, রীতিমতো এটি একটি হাস্যকর প্রস্তাব। খবরে প্রকাশ, স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামের আওতায় এসব কর্মকর্তাকে বিদেশে পাঠানো হবে। আর এই খিচুড়ি রান্না শিখতে প্রাথমিকভাবে বিদেশ যাত্রার জন্য চাওয়া হয়েছে পাঁচ কোটি টাকা। এ বিষয়ে দেশে প্রশিক্ষণের জন্য আরও ১০ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। দেশে এবং বিদেশে প্রশিক্ষণ বাবদ মোট খরচ চাওয়া হয়েছে ১৫ কোটি টাকা। পরিকল্পনা কমিশন থেকে কর্মকর্তাদের বিদেশ পাঠানোর এই প্রস্তাবটি’র অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

জনগণের টাকা খরচ করে এ ধরনের সফরের যৌক্তিকতা নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মাঝে মঙ্গলবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আকরাম আল হোসেন বলেছেন, “খিচুড়ি নয়, মিড ডে মিল ব্যবস্থাপনার প্রশিক্ষণ নিতেই ভারত সফর।”

সচিবালয়ে এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বাচচাদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পরিবেশিত খাবারের ব্যবস্থাপনা দেখতে কর্মকর্তাদের বিদেশে পাঠানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
খিচুড়ি রান্না শিখতে নয়, স্কুল ফিডিং পলিসির আওতায় মিড ডে মিল ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ নিতেই কর্মকর্তারা ভারত যাচ্ছেন।”

তিনি বলেন, “খিচুড়ি কীভাবে রান্না করে- সেটার জন্য কিš‘ আমরা বিদেশে লোক পাঠাচ্ছি না। এ প্রকল্পটি এখনও অনুমোদন হয়নি। একনেকে অনুমোদিত হলে জানুয়ারি থেকে বাস্তবায়ন করতে পারবো। সুতরাং আমরা খিচুড়ি রান্না করার জন্য কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে বিদেশে পাঠাচ্ছি না। আমরা টাকাও চাই না এটার জন্য, কোনো একটা পত্রিকা লিখেছে যে পাঁচ-দশ কোটি টাকা চেয়েছি, নো।”
এ প্রকল্পে দু’টি বিষয় আছে জানিয়ে সচিব বলেন, “বাচ্চাদের আমরা দুপুরে খাবার দেবো। খাবারটা হবে দুই ধরনের। তিনদিন বিস্কুট এবং তিনদিন রান্না করা খাবার। কীভাবে বিভিন্ন দেশে মিড ডে মিল চালু আছে, কীভাবে তারা ম্যানেজ করছে সেই বিষয়গুলোকে অভিজ্ঞতা অর্জন করার জন্য একটা কম্পোনেট আছে বিদেশে কর্মকর্তাদের যেয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসা।”

তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আকরাম আল হোসেনের এই বক্তব্যকেও ‘ যেই কদু, সেই লাউ’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, সচিব দাবি করেছেন- “খিচুড়ি রান্না শিখতে নয়, মিড ডে মিল ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ নিতেই কর্মকর্তারা ভারত যাচ্ছেন।” এই মিড ডে মিলে তো আসলে খিচুড়িই রান্না হবে। সেই খিচুড়ি রান্না বা শিশুদের মাঝে পরিবেশন, ব্যবস্থাপনা শিখতে বিদেশ যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা আদৌ নেই। এমনকি সচিব দাবি করেছেন, এই বিদেশ সফরের জন্য তারা কোনো টাকাও আবদার করেননি। এখন প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে বিদেশ সফরের টাকা আসবে কোত্থেকে? টাকা ছাড়া কী বিদেশ সফর সম্ভব?
বিশ্লেষকরা বলছেন, শিশুদের স্কুলে খিচুড়ি খাওয়ানো হবে। সেই খিচুড়ি রান্না শেখা এবং পরিবেশনের জন্য কর্মকর্তাদের বিদেশ যেতে হবে-এমন বিস্ময়কর প্রস্তাব তারা কীভাবে দিলো সেটিই ভাবনার বিষয়।

তাদের প্রশ্ন-খিচুড়ি রান্না ও পরিবেশন করার পদ্ধতি শিখতে বিদেশে কর্মকর্তাদের পাঠাতে হবে কেন? তবে যেকোনো প্রকল্প নেওয়ার সময় ওই বিষয়ে কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা অর্জন বা অভিজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণের একটি বিষয় উল্লেখ থাকে। এটি যেকোনো প্রকল্প বা কর্মসূচির একটি রীতি। তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এ প্রকল্পে বিদেশ সফর করে অভিজ্ঞতা অর্জনের আদৌ প্রয়োজন আছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন না।
খিচুড়ি রান্না শিখতে বিদেশ ভ্রমণ নতুন তামাশা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রাজধানীর নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মঙ্গলবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, খিচুড়ি রান্নার প্রশিক্ষণের জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। ইতিপূর্বে পুকুর খননের প্রশিক্ষণের জন্য, পাবদা মাছ চাষের প্রশিক্ষণ নিতেও তাদের বিদেশ পাঠানো হয়।

“এসব অভিনব ও হাস্যকর তামাশা কেবলমাত্র শেখ হাসিনার আমলেই সম্ভব। আবহমানকাল ধরেই ওইসব বিষয়ে সাধারণ মানুষ রপ্ত। সেসব বিষয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ পাঠানোতে একটি প্রবাদ মনে পড়ে যায়- ‘সরকারি মাল দরিয়া মে ঢাল’।

রিজভী বলেন, “মোটা অংকের বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে ফালতু কাজে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশে পাঠানো মূলত মিডনাইট নির্বাচনে সহায়তা করার জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের উপঢৌকন দেওয়া।

“যে সরকারের আমলে একটা বালিশের দাম সাড়ে ৭ হাজার টাকা এবং একজন রোগীকে আড়াল করতে সাড়ে ৩৭ লাখ টাকার পর্দা লাগে, সেই সরকার যে আগাগোড়াই লুটপাটের চেতনায় অনুপ্রাণিত তার বলার অপেক্ষা রাখে না।

কোন মন্তব্য নেই