২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের জন্য রীট
ভুল বিচারে ১৩ বছর সাজা খাটলেন জবেদ আলী

0

HC1খালাসের রায়ের পরও সাতক্ষীরার জবেদ আলীর ১৩ বছর সাজা খাটার ঘটনায় তাকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না- এই মর্মে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। মানবাধিকার সংগঠন চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মোহম্মদ ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।

আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, আইজি প্রিজন্স, সাতক্ষীরার তৎকালীন অতিরিক্ত দায়রা জজ তাপস কুমার, হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার ও জেল সুপারকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের সভাপতি ব্যারিস্টার আবদুল হালিম।

পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘একজন অতিরিক্ত দায়রা জজের ভুলের কারণে জবেদ আলীকে ১৩ বছরের সাজা ভোগ করতে হয়েছে। সভ্য সমাজে এই আচরণ অকল্পনীয়। তাই আমরা এই বিষয়ে আদালতের কাছে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়েছি। পরে হাইকোর্ট জবেদ আলীকে ক্ষতিপূরণ প্রদানে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না-এই মর্মে রুল জারি করেন।’

জবেদ আলীকে নিয়ে গত ২ মার্চ কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নিজ মেয়েকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগে ২০০১ সালের ১ মার্চ বিচারিক আদালত জবেদ আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। পরবর্তীকালে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় বাতিল করে তাকে বেকসুর খালস দেন।

হাইকোর্টের এই রায়ের অনুলিপি সাতক্ষীরার অতিরিক্ত দায়রা জজ-৩ আদালতের বিচারক তাপস কুমার দে’র নিকট পৌঁছায়। কিন্তু তিনি খালাস আদেশ জেল কর্তৃপক্ষের কাছে না পাঠিয়ে আদালতের রেকর্ড রুমে সংরক্ষণের নির্দেশ দেন। তার এই ভুলের কারণে ১৩ বছর বিনা বিচারে জেলে থাকতে হয় জবেদ আলীকে।

এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরদিন সাতক্ষীরার জেলা দায়রা জজ আদালতে বিষয়টি উপস্থাপন করা হলে তার কারামুক্তির নির্দেশ দেন।

Advertisements

কোন মন্তব্য নেই

একটি মন্তব্য দিন