আঞ্চলিক ও মাইজভান্ডারি গানের শিল্পী গফুর হালীর ৪র্থ মৃত্যু বার্ষিকী আজ

0
.

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের কিংবদন্তী গীতিকার ও সুরকার আবদুল গফুর হালী’র ৪র্থ মৃত্যু বার্ষিকী আজ সোমবার ২১ ডিসেম্বর ।

২০১৬ সালের আজকের এদিনে ৮৮ বছর বয়সে এ কিংবদন্তি গুনি শিল্পীর মৃত্যু হয়। আবদুল গফুর হালী চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ও মাইজভান্ডারী গানের কিংবদন্তি গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী। শেফালী ঘোষ, সন্দীপন, শিরিনসহ অনেক শিল্পীর উত্থান গফুর হালীর গান গেয়ে। হালীর গান নিয়ে জার্মানির হাইডেলর্বাগ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়েছে গবেষণাগ্রন্থ। এই কিংবদন্তীর বংশের একমাত্র শিল্পী তার নাতনী ফেরদৌস হালী গফুর হালীর লেখা গান বেতারে গেয়ে থাকেন।

তিনি বেশ কয়েকটি জাতীয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক পুরস্কার অর্জন করেছেন। তাদেন মধ্যে কয়েকটি হলো: রাহে ভান্ডার সম্মাননা পদক – ২০১২, চট্টগ্রাম সমিতি পদক – ২০১২, বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ ২০১৩, সুখেন্দু স্মৃতি নাট্যপদক – ২০১৩, জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা – ২০১৩।

জার্মানির হালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারতবর্ষ বিষয়ক দর্শন শাস্ত্রের সহকারী অধ্যাপক হানস হারডার (বর্তমানে হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক) ১৯৮৯ সালের দিকে বাংলাদেশে এসেছিলেন। তিনি চট্টগ্রামের মাইজভান্ডারসহ বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন। পরে শিল্পী কল্যাণী ঘোষের মাধ্যমে যোগাযোগ হয় আবদুল গফুর হালীর সঙ্গে। তার জীবন ও গান নিয়ে ২০০৪ ডার ফেরুকটে গফুর, স্প্রিখট (পাগলা গফুর, বলে) নামে একটি গবেষণা গ্রন্থ প্রকাশ করেন। এতে হালীর ৭৬টি গান অন্তর্ভুক্ত হয়। এগুলোকে আবদুল গফুর হালী রচিত পূর্ব বাংলার মরমি গান বলে উল্লেখ করেছেন হানস হারডার। তিনি আবদুল গফুর হালী সম্পর্কে লেখেন, ‘আবদুল গফুর হালীর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ ডিগ্রি বা উপাধি না থাকলেও নিজের চেষ্টায় তিনি অসাধারণ জ্ঞানের অধিকারী হতে সক্ষম হয়েছেন।

তিনি দেড় থেকে দুই হাজারের ও বেশি গান লিখেছেন এবং সুর দিয়েছেন । তাঁর প্রায় সব গানই চট্টগ্রাম তথা সমগ্র বাংলাদেশে জনপ্রিয়। এমনকি তাঁর অনেক গান বিদেশি ভাষায় অনুবাদ করা হয়। তাঁর গানে আছে ভাওয়াইয়া, মাইজভাণ্ডারি, পল্লীগীতি, আঞ্চলিক সুরের সমারহ। গফুর হালী কাছে সন্তানের মতই সব গান তাঁর কাছে প্রিয়।

তাঁর জনপ্রিয় কিছু সুফি গান হলো : দুই কূলের সোলতান ভান্ডারী; দেখে যারে মাইজভাণ্ডারে; কতো খেলা জানরে মওলা; মাইজভাণ্ডারে কি ধন আছে; চল যাই জিয়ারতে মোহছেন আউলিয়ার দরবারে; আল্লাহর ফকির মরে যদি;

তার কয়েকটি জনপ্রিয় সামাজিক-সাংস্কৃতিক গান হলো: সোনাবন্ধু তুই আমারে করলি রে দিওয়ানা; আহমেদুল হক সিদ্দিকী রচিত ‘রসিক তেল কাজলা কোন পাঞ্জাবিঅলা ; বন্ধু আঁর দুয়ারদি যঅ ; অই লাল কোর্তা অলা; ছোডকাইল্লা পীরিত আঁর; ন মাতাই ন বোলাই গেলিরে বন্ধুয়া; মনের বাগানে ফুটিল ফুলরে; তুঁই যাইবা সোনাদিয়া বন্ধু, মাছ মারিবার লাই; অ শ্যাম রেঙ্গুম ন যাইও; ঢোল বাজের আর মাইক বাজের; বানুরে অ বানু আঁই যাইয়্যুম গই চাটগাঁ শঅরত তোঁয়ার লাই আইন্নুম কি?

আবদুল গফুর হালী ১৯২৮ সালের ৬ আগস্ট চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার শোভনদন্ডি ইউনিয়নের রশিদাবাদে জন্ম গ্রহন করেন। তার পিতা আবদুস সোবহান এবং মাতা গুলতাজ খাতুন। রশিদাবাদ প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জোয়ারা বিশ্বম্বর চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেন। তবে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত একাডেমিক শিক্ষা অর্জনের পর ইস্তফা দেন।

শৈশব কালে তিনি ঐতিহাসিক উল্লেখযোগ্য গায়ক-গীতিকার আসকার আলী পণ্ডিতের কাজ দ্বারা অনুপ্রাণিত হন। পরে মওলানা বজলুল করিম কাঞ্চনপুরী, মাওলানা আবদুল হাদি এবং রমেশ শীলের মতো মাইজভান্ডারী সুফি গায়কদের দ্বারা প্রভাবিত হন। তিনি কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কীভাবে হারমোনিয়াম শিখেননি, তবে তাদের কাজ অনুসরণ করতেন।

কোন মন্তব্য নেই