থানায় ডেকে নেয়ার পর মেয়রপ্রার্থী নিখোঁজ: প্রতিবাদে থানা ঘেরাও, সংঘর্ষে আহত-৩০

0
.

মাদারীপুরের কালকিনি পৌর নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মশিউর রহমান সবুজকে তুলে নেয়ার প্রতিবাদে থানা ঘেরাও করেছে তার সমর্থকরা।

এসময় পুলিশ ও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকদের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তিন ঘণ্টাব্যাপী এই সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩০জন আহত হয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের কালকিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালকিনি পৌরসভা নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী মশিউর রহমান সবুজকে শনিবার দুপুরে মাদারীপুরের পুলিশ সুপার ডেকে নেন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ। এই ঘটনার প্রতিবাদে সন্ধ্যায় সবুজ সমর্থকরা সবুজের মুক্তি দাবিতে থানা ঘেরাও করে। এসময় বিক্ষুব্ধরা কালকিনির বিভিন্ন সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ করে। এক পর্যায়ে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সাথে সবুজের সর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে করে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মশিউর রহমান সবুজের চাচাতো ভাই হেমায়েত হোসন জানান, মাদারীপুরের কালকিনি পৌর নির্বাচনে নারিকেল গাছ নিয়ে মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মশিউর রহমান সবুজ। দুপুরে কালকিনি উপজেলা পরিষদের পেছনের এলাকায় গণসংযোগ করার সময়ে কালকিনি থানার ওসি নাসিরউদ্দিন ‘মাদারীপুরের পুলিশ সুপার তাকে দেখা করতে বলেছে’-এই ধরনের ম্যাসেজ দিয়ে পুলিশ তাকে কালকিনি থানায় নিয়ে যায়। এরপর থেকে সবুজ নিখোঁজ।

এই খবর পৌর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্বতন্ত্র প্রার্থী মশিউর রহমান সবুজের সমর্থকরা তার নিজ বাড়িতে অবস্থান নিয়ে দলে দলে কালকিনি থানায় এসে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এসময় নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকেরাও থানা এলাকায় আসলে দুই পক্ষের ভেতরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।

এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এসে যোগ দেয়। এতে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি এখনো থমথমে থাকায় জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তারা।

তবে এব্যাপারে মাদারীপুর পুলিশ সুপার মো. মাহবুব হাসান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হান্নান ও কালকিনি থানার ওসি নাসির উদ্দিনের সাথে যোগযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের পাওয়া যায়নি। তারা কেউ ফোনও রিসিভ করেননি।

কোন মন্তব্য নেই