চোর স্বামীকে ছাড়াতে চুরি করে ধরা পড়লো স্ত্রী

0
times-057
বিন্তি।

চুরির মামলায় জেল হাজতে আটক স্বামীকে ছাড়াতে টাকার প্রয়োজনে ম্যাজিষ্টেটের ল্যাপটপ চুরি করতে গিয়ে এবার উল্টো শ্রীঘরে গেল স্ত্রী বিন্তি (২৩)। যিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র হাজী ওবায়েদ উল্লাহর নাতনী ও ১৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলমগীর হোসেনের ভাগ্নি।

সোমবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এঘটনা ঘটে।

জানাগেছে, বিন্তির স্বামী হোন্ডা চুরির মামলায় জেল হাজতে আছেন। তাই স্বামীকে জামিনে বের করে  আনতে টাকার প্রয়োজন। সেইজন্য তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জনৈক নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটর কক্ষ থেকে ল্যাপটপ চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েন।

এরপর ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের কাছে বিন্তিকে চুরির অপরাধে হস্তান্তর করেন জেলা প্রশাসনের অফিসাররা।

এব্যাপারে গ্রেফতারকৃত বিন্তি বলেন, ২০১৪ সালে নারায়ণগঞ্জ কলেজের ছাত্র মনিরের সাথে প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান তোলারাম কলেজের ছাত্রী বিন্তি। তাকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় প্রেমিক মনির তার বন্ধু রাকিবের হোন্ডাটি নিয়ে যান। এরপর উভয়ে বিয়ে করে উত্তরায় ঘর সংসার করতে থাকেন। আর রাকিব তার বন্ধু মনিরের বিরুদ্ধে হোন্ডা চুরির মামলা করেন। তবে বিয়ের কয়েকমাস পর উত্তরা থেকে রাকিব তার হোন্ডাটি গিয়ে নিয়ে আসেন। তবে থানা থেকে মামলা তুলে নেননি রাকিব।  গত বুধবার  মনিরের বিরুদ্ধে হোন্ডাচুরির মামলার ওয়ারেন্ট থাকায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। আর স্বামীকে জেল থেকে ছাড়াতে এড.স্বপনের  স্মরনাপন্ন হন। সোমবার মনিরের জামিনের দিন ধার্য ছিল। তাই উকিলের টাকা জোগাড় করতেই সকালে আদালত পাড়ায় আসেন তিনি।

এরপর  জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ইকবাল নামের একজন অফিসারের রুমে ঢুকেন। ওই সময় কক্ষে কেউ ছিল না। এই সুযোগে টেবিলের উপর থাকা ল্যাপটপটি চুরি করে রুম থেকে বের হওয়ার সময় অফিসাররা হাতে নাতে তাকে আটক করেন। পরে তাকে মারধর করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

বিন্তি আরো বলেন, মনির ও তার প্রেমের বিয়ে উভয় পরিবারের কেউ মেনে নেয়নি। মনির জেল হাজতে যাওয়ার পর বাবা-মা আত্মীয় স্বজনের কাছে সে গিয়েছিল উকিলের ফিসের টাকার জন্য। কিন্তু তারা তা দেননি।

এব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার এসআই মনির বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ল্যাপটপ চুরির অভিযোগে বিন্তিকে আটক করা হয়েছে। এব্যাপারে উর্দ্ধতন অফিসারের  নির্দেশ অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হবে।

কোন মন্তব্য নেই