দুর্বিষহ জীবনের চিত্র তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন

‘আমি বাঁচতে চাই’: অপহৃত সাংবাদিক সরওয়ার

0
.

সংবাদ প্রকাশের জের ধরে অপহরণ হয়েছিলেন চট্টগ্রামের সংবাদ কর্মী গোলাম সরওয়ার। ৪দিন পর মুমূর্ষু অবস্থায় ফিরে এলেও এবার অপহরণ মামলা করে নানামুখি হয়রানীর শিকার এবং প্রাণ নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে এই সাংবাদিক। প্রভাবশালীদের উল্টো মিথ্যা মামলা, প্রতিনিয়ত হুমকি পুলিশ প্রশাসনের অসযোগিতা, পরিকল্পিত ভাবে বার বার গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টাসহ দুর্বিসহ জীবনের বর্ণণা দিলেন মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা সাংবাদিক সরওয়ার।

সোমবার (১২এপ্রিল) বিকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তার দুর্বিসহ যন্ত্রনার চিত্র তুলে ধরে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন সদস্য (সিইউজে), আজকের সূর্য়োদয় এর স্টাফ রির্পোটার ও সিটি নিউজ এর নির্বাহী সম্পাদক সাংবাদিক গোলাম সরওয়ার। বলেন-‘আমি বাঁচতে চাই আমাকে বাঁচান’

সংবাদ সম্মেলনে সরওয়ারের লিখিত বক্তব্যের মূল অংশটা হুবহু তুলে ধরা হল-

আপনারা অবগত আছেন এবং সার্বিক সহযোগীতা দিয়ে আমাকে ঋনী করে রেখেছেন । বিগত ২৮ অক্টবর ২০২০ ইংরেজী তারিখে রাতে র্কমস্থল থেকে বাসায় যাই। বাসায় গিয়ে খাবার খাওয়া শেষে আমার গ্রামের বাড়ী চন্দনাইশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা হইতে বের হই রাত অনুমান ১১.৫৫ মিনিটের সময় চট্টশ্বরী রোড়স্থ গুলশান ক্লাবের নিচে মোটর সাইকেল গ্যারেজের সামনে হইতে একটি মোটর সাইকেল ভাড়া করি। মোটর সাইকেল উঠে উক্ত স্থানে হইতে কর্ণফুলী নতুন ব্রীজ এলকায় যাওয়ার জন্য রওয়ানা দিলে কাজীর দেউরী ভিআইপি টাওয়ার সামনে রাস্তার ওপর পৌছামাত্রই অজ্ঞাতনামা মোটরসাইকেল চালক তাহার মোটর সাইকেল থামাইয়া দেয়, তাৎক্ষণিক অজ্ঞাতনামা ১ জন লোক আমার সিটের পিছনে উঠে আমাকে মুখে ও নাকে চেতনানাশক ওষুধ লাহগাইয়া দেয়, উক্ত ওষুধের কারণে আমি জ্ঞান হারাই। কিছুক্ষন পর জ্ঞান ফিরিলে দেখি যে,আমার চোখ ও পা বাধা। তখন আমি বুঝতে পারি আমি অপহরণ হয়েছি। এর পরের ইতিহাস বিশ্ববাসী আপনাদের মাধ্যমে অবগত। আমাকে অপহরণ করার থেকে, আমার উদ্ধার কার্যক্রম সর্বোপরি প্রিন্ঠ মিডিয়া, ইলেক্ট্রনিক্র মিডিয়া, অনলাইন নিউজপোর্টালসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেভাবে ফলাও করে নিউজ কভারেজ দেওয়া হয়েছে আমি তার জন্য আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

.

প্রিয় সংবাদিক বন্ধুরা, আপনারা জানেন, আমাকে অপহরণ কারীরা বিগত ১/১১/২০২০ ইংরেজী তারিখে সন্ধা বেলায় সীতাকুন্ড থানাধীন কুমিরা এলাকায় ফেলে দেয়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহযোগীতায় পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদানের জন্য ভর্তি করান। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে) শ্রদ্বেয় নেতৃবৃন্দের সু-পরার্মশে বিগত ৪/১১/২০২০ইং তারিখে কোতায়ালী থানায় একটি ১৫/১১/২০জি আর ৭৯২/২০ (কেতোয়ালী), মামলা দায়ের করি। পরে চিকিৎসার জন্য সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে একটি আবেদন প্রদান করি। আবেদনটি এখনো জমা রয়েছে। ১৫/১১/২০জি আর ৭৯২/২০ (কেতোয়ালী) মামলার মূল অভিযোগ ছিল একই উদ্দেশ্যে সংবাদ প্রকাশের জের ধরিয়া চেতনানাশক দ্রব্যাদি প্রয়োগ করিয়া ৩দিনের অধিক আটক রাখাসহ চুরি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অপরাধ। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৬ জনকে আসামী করি । মামলাটি বর্তমানে কোতয়ালী থানায় তদন্তাধীন। পুলিশ মামলায় বিগত ১০/১২/২০২০ ইংরেজী তারিখ মোঃ শাহীন ও মোঃ ইব্রাহীম নামক দুইজন আসামী গ্রেফতার দেখানো হয়। গ্রেফতারের পর আসামীগণ জামিনে বিজ্ঞ আদালত থেকে জামিন লাভ করে। অত্যন্ত আশ্চর্যজনক বিষয় হল,আসামী গ্রেফতার ও জামিনে বের হওয়ার বিষয়ে আমি মামলার বাদী কিংবা সাংবাদিক ইউনিয়নের কোন নেতৃবৃন্দ্য অবগত ছিলেন না। দুঃখজনক ব্যাপার হল, আসামী জামিন হওয়ার পর আসামিগণকে রিমান্ডে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মামলার তদন্তকারী র্কমর্কতা ধর্মেন্দুদাশ বিগত ২২/১২/২০ ইংরেজী তারিখে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পরিশেষে গত ২০ জানুয়ারী ২০২১ইং তারিখে দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকায় “আসামির জামিনের পর রিমান্ড আবেদন!” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে। এ কারনে পূর্বদেশ কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞ।
তদন্তকারী কর্মকর্তার এমন ভূমিকা অবশ্যই রহস্যজনক। আমি ভরাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে বিজ্ঞ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত চট্টগ্রাম মামলার তদন্ত দায়িত্ব পুলিশ থেকে নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাকে প্রদানের আবেদন করি। বিজ্ঞ আদালত শুনানি অন্তে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদেশ দেন। জানিনা আদৌ বিচার পাবো কিনা। জানিনা আমার অপহরণের রহস্য উদঘাটন হবে কিনা। জানিনা আমার উপর নির্মম নির্যাতনের বিচার আমি পাবো কিনা। আজ নিজেকে খুব অসহায় মনে হচ্ছে।
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুরা,সাংবাদিক হওয়ার বহুদিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য এই পেশায় আসা। আপনারা আমাকে সহযোগীতা, ভালোবাসা দেখিয়েছেন বলে এই জগতে আজও ঠিকে আছি। কিন্তু আজ আমি ক্লান্ত । আপনারা শুনে অবাক হবেন, আমাকে অন্যায়ভাবে অপহরণ করে নির্মম নির্যাতনের পর সংবাদ প্রকাশ করার কারনে দেওয়া হল মিথ্যা মামলা। বিজ্ঞ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত চট্টগ্রামে দেওয়া হল মানহানি মামলা, মামলা নং সিআর২১৭০/২০ (কতোয়ালী) অর্থঋন আদালতে দেওয়া ১৫/২০ নং মামলা চট্টগ্রাাম জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত চট্টগ্রামে দেওয়া হল আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ। আমার বিরুদ্ধে মানহানি মামলা ২টি দায়ের করেছেন চট্টগ্রামের প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য মাননীয় ভূমিমন্ত্রীর ভাই জনাব আনিসুজ্জামান চৌধুরী। অপরদিকে জনাব আনিসুজ্জামান চৌধুরীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন চৌধুরীর আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট চট্টগ্রাম “সিটি নিউজে” সংবাদ প্রকাশ সংক্রান্ত কারন দর্শানো নোটিশ প্রদান করেন ১৭/০১/২০২১ইংরেজী তারিখে আমাকে। পরে আমি ৭ কর্মদিনের মধ্যে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট চট্টগ্রাম এর সুত্রোক্ত ০৫.৪২.১৫০০.৫০২.৭০.০৫.১৮-৭৬ স্মারকের কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব প্রদান করি।
সত্য প্রকাশের অপরাধে আজ আমি নিয়মিত আসামি হিসেবে কোর্টের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি । বিচার পাওয়াতো দুরের কথা নিজেই হয়ে গেলাম মামলার আসামী। আমি এবং আমার স্ত্রী, সন্তান আজ খুবই মানবতার জীবন যাপন করছি। কোন অপরাধ না করে নিজের জীবনের নিরপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি বাঁচতে চাই। সুন্দর একটি জীবন চাই।
প্রিয় কলমযোদ্বারা, আমার পারিবারিক শত্রু এবং পেশাদারী দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তৈরী হওয়া শত্রু পক্ষ উভয়ে যোগসাজসে আমাকে বার বার হত্যা করার চেষ্ট করছে। তারাই ধারাবাহিকতায় বিগত ২৯/১২/২০ইংরেজী তারিখে দুপুরে ১.০০ ঘটিকার সময় পাঁচলাইশ থানা সংলগ্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ শেষে রিকসাযোগে নিজ বাসায় ফিরে আসার সময় পাঁঁচলাইশ থানাধীন বদনাশাহ মাজারের সামনে রাস্তার উপর আসলে হঠাৎ পিছন থেকে সিএনজি নং চট্টমেট্্েরা-থ ১২-৫২৯৪ এর চালক বেপরোয়া গতীতে চালিয়ে সজোরে ধাক্কা দিলে রিকসা উল্টে যায়। এতে আমি ও রিকসা চালক আহত হই । আমার চিৎকার শুনে আশে পাশের লোকজন গাড়ী আটকানোর চেষ্টা করিলে ড্রাইভার দ্রুত গতিতে চালিয়ে ঘটনা স্থল হতে পালিয়ে যায়। আমার দায়ের করা অজ্ঞাত অপহরণ মামলার তদন্তকর্মকর্তাকে এ ঘটনার বিষয়ে অবহিত করলে তিনি তেমন দায়িত্বশীল আচরণ করেনি আমার সাথে। বরং উল্টো সেদিন আমাকে অপহরণ মামলার তদন্ত বিষয়ে তার সাথে জরুরী দেখা করতে বলেন। জেএমসেন হলের পাশে অবস্থিত পুলিশ ফাঁড়িতে সেদিন গেলে তদন্তকর্মকর্তার আচরনে আমি বিস্মিত এবং তার কথাগুলো শুনে আমি চরম আতঙ্কে রয়েছি এখনো। তদন্তকর্মকর্তা আমাকে বলেন রনি’র মতো মানুষ যদি কাউকে নেয়,তাহলে বাংলাদেশের ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে তারা আর কেউ ফিরে আসে না,অঙ্ক মিলতেছেনা পুলিশের। একথা ও সেই পুলিশ কর্মকর্তা আমাকে শুনিয়েছেন। পরবর্তীতে পুনরায় বিগত ১৮/৩/২০২১ ইংরেজী তারিখে বিকেল সাড়ে পাচঁটায় নগরীর জামালখান সিনিয়রস ক্লাবের সামনে একটি কালো প্রাইভেট গাড়ী ইচ্ছাকৃত ভাবে ধাক্কা দিলে আমি গুরতর আহত ও রিকশা চালক আহত হয়। উক্ত গাড়িকে লোকজন আটক করতে চাইলে গাড়ির ড্রাইভার দ্রুত ঘটনাস্থল হতে পালিয়ে যায়। এইভাবে বারে বারে আমাকে হত্যা করার জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে। গত ৩১/০৩/২০২১ ইংরেজী তারিখে নগরীর বাগমনিরাম ওয়ার্ডের ব্যাটারী গলির বাহার ভবনে বসবাসরত ছিলাম ১৩ বছর, শহরের সেই বাসাটিও আমাকে ছাড়তে হলো বাধ্য হয়ে। ৩৭ বছর শহরেই বসবাস করেছিলাম আর এখন আমি শহর ছেড়ে গ্রামে বসবাস করছি। আমি আমার পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় মধ্যে আছি আমার পরিবারের জন্য আমাকে বাঁচতে হবে । এক্ষেত্রে আপনাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করছি।

কোন মন্তব্য নেই