চিত্রনায়িকা থেকে সংসদ সদস্য কবরী

0
.

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সাবেক সংসদ সদস্য, চিত্রনায়িকা ও নির্মাতা সারাহ বেগম কবরী মারা গেছেন। ঢাকাই সিনেমার ‘মিষ্টি মেয়ে’ নামে তার খ্যাতি রয়েছে। শুক্রবার রাত ১২টা ২০মিনিটে রাজধানীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর।

বাংলা সিনেমার কিংবদন্তী অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী এদেশের চলচ্চিত্রে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও তার ছিল সমান জনপ্রিয়তা।

চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলাতে জন্মগ্রহণ করেন অভিনেত্রী কবরী সারোয়ার৷ জন্মস্থান বোয়ালখালী হলেও শৈশব ও কৈশোর বেড়ে ওঠা চট্টগ্রাম নগরীতে। তার আসল নাম মিনা পাল৷ পিতা শ্রীকৃষ্ণ দাস পাল এবং মা শ্রীমতি লাবণ্য প্রভা পাল৷ ১৯৬৩ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে নৃত্যশিল্পী হিসেবে মঞ্চে আবির্ভাব কবরীর।

গত শতকের ষাটের দশকে সেলুলয়েডের পর্দায় আবির্ভূত হয়ে ঢাকাই চলচ্চিত্রের মিষ্টি মেয়ে হিসেবে দর্শক হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নেওয়া কবরী পরের অর্ধশতকে দুই শতাধিক সিনেমায় আলো ছড়িয়েছেন। শীর্ষ পাঁচ ঢাকাই নায়কের অভিষেক ঘটেছে তার হাত ধরেই।

১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্তের পরিচালনায় ‘সুতরাং’ ছবির নায়িকা হিসেবে অভিনয় জীবনের শুরু৷ এরপর অভিনয় করেছেন হীরামন, ময়নামতি, চোরাবালি, পারুলের সংসার, বিনিময়, আগন্তুক -সহ জহির রায়হানের তৈরি উর্দু ছবি ‘বাহানা’ এবং ভারতের চলচ্চিত্র নির্মাতা ঋত্বিক ঘটকের ছবি ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উল্লেখযোগ্য ৷

১৯৭৫ সালে নায়ক ফারুকের সঙ্গে ‘সুজন সখী’ ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর কবরীকে আর পেছনে ফিরে দেখতে হয়নি। এই সিনেমা দিয়ে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে পৌঁছে যান তিনি। পরবর্তীতে তিনি রাজ্জাক, সোহেল রানা, ফারুক, উজ্জ্বল, জাফর ইকবালের মত অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করেছেন।

কবরী অভিনয় করেছেন ‘নীল আকাশের নিচে’, ‘ময়নামতি’, ‘ঢেউয়ের পর ঢেউ’, ‘পরিচয়’, ‘অধিকার’, ‘বেঈমান’, ‘অবাক পৃথিবী’, ‘সোনালী আকাশ’, ‘দীপ নেভে নাই’-এর মতো দর্শকপ্রিয় সিনেমাতে। ২০০৬ সালে তার পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘আয়না’মুক্তি পায়। ইদানীং তিনি দ্বিতীয় সিনেমা ‘এই তুমি সেই তুমি’নির্মাণ করছিলেন।

পরে তিনি রাজনীতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।  পরবর্তী ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পান কবরী।

এ বিষয়ে তখন কবরী বলেছিলেন, “স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময়ে মেইনস্ট্রিমের নেতাদের সঙ্গে কাজ করেছি। ওখান থেকে একটা ধারণা হল- যদি নমিনেশন পাই। শেষ পর্যন্ত শামীম ওসমান যখন পালালো, তখন আপা বললো- ‘আপনারতো ইলেকশন করার খুব ইচ্ছা… আমার পক্ষ থেকে এটা আপনার জন্য পুরস্কার’।”

কবরী বলেন, ‘ওই কথাটা বলে আমাকে আপা নমিনেশনের কাগজটা দিলেন। সে জন্য আই অ্যাম ভেরি গ্রেটফুল টু হার।’

২০১৭ সালে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয়েছে তার আত্মজীবনীমূলক বই ‘স্মৃতিটুকু থাক’।

কবরী প্রথম বিয়ে করেন চিত্ত চৌধুরীকে। সেখানে বিচ্ছেদের পর ১৯৭৮ সালে তিনি বিয়ে করেন সফিউদ্দীন সরোয়ারকে। ২০০৮ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। কবরী পাঁচ সন্তানের জননী।

এদিকে তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা।

গত ৫ এপ্রিল করোনাভাইরাস রিপোর্ট ‘পজিটিভ’ আসার পরপরই রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল কবরীকে।

পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ৮ এপ্রিল শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয় তাকে।বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন কবরীকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

কোন মন্তব্য নেই