সুস্থ হয়ে উঠেছেন খতিজা, বললেন “আমি ভালো আছি”

1
khadija-1
.

ছাত্রলীগ নেতা বদরুলের চাপাতির কোপে ক্ষতবিক্ষত হয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা সিলেটের সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী খাদিজা আক্তার নার্গিস বলেছেন-আমি ভালো আছি, সুস্থ আছি। আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করেছেন, এ জন্যই আমি বেঁচে আসতে পেরেছি।

রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন। এ সময় প্রধান চিকিৎসক নিওরো সার্জারির অ্যাসোসিয়েট কন্সালট্যান্ট ডা. এ এম রেজাউস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী, স্কয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, গণমাধ্যমকর্মী ও দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে খাদিজা বলেন, দোয়া করবেন, যেন আমি পুরোপুরি সুস্থ হতে পারি।

স্কয়ার হাসপাতালের মেডিসিন অ্যান্ড ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিভাগের সহযোগী পরিচালক ডা. মির্জা নাজিম উদ্দিন বলেন, খাদিজাকে এখন সাভারের সিআরপিতে স্থানান্তর করা হবে। কারণ তার ফিজিওথেরাপি দরকার। তার দুই হাতেই অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। সে এখন নিজে খেতে পারে, যেকোনও লেখা পড়তে পারে। জোরে জোরে হাসতেও পারে।

চিকিৎসকরা জানান, সে এখন নিজে খেতে পারে। লেখা পড়তে পারে। তার ফিজিওথেরাপি দরকার। তাকে ভাল ফিজিওথেরাপির জন্য রেফার করা হবে।

তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। তিনি আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন। বাংলাদেশে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে। তবে মানুষ এখনও অন্ধকারে আছে, তাই বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নের কথা তুলে ধরা প্রয়োজন।

হামলার পর প্রথমে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর সেখান থেকে ৪ অক্টোবর তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে এনে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে রাখা হয়। স্কয়ার হাসপাতালে প্রথম দফায় নার্গিসের মাথায় ও পরে হাতে অস্ত্রোপচার করা হয়। তার অবস্থার একটু উন্নতি হলে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়।

এরপর আইসিইউ থেকে এইএসডিইউ-তে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে ২৬ অক্টোবর তাকে কেবিনে নেওয়া হয়। এরপর আবারও মাথায় ও হাতে অস্ত্রোপচার করা হয়।

উল্লেখ্য গত ৩ অক্টোবর সিলেটের এমসি কলেজে বিএ (পাস) পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার সময় ছাত্রলীগ নেতা বদরুল প্রকাশ্য দিবালোকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুত্বর আহত করে।

এ ঘটনায় ধারণকরা ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবাদে ফেটে পড়ে সারাদেশের মানুষ। ঘটনার পরপরই অবশ্য জনতা ঘাতক ছাত্রলীগ নেতা বদরুলকে গণপিটুনী দিয়ে পুলিশে দেয়।

প্রথম মন্তব্য