আজ মহান মে দিবস: করোনায় ভালো নেই খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ

0
.

মহান মে দিবস আজ। দিনটি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের রক্তঝরা দিন। দীর্ঘ বঞ্চনা আর শোষণ থেকে মুক্তি পেতে ১৮৮৬ সালের এদিন বুকের রক্ত ঝরিয়েছিলেন শ্রমিকরা। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা শ্রমজীবী মানুষসহ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

গত বছরের মত এ বছরও বিশ্বব্যপী করোনার মহামারীর কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছে হাজার হাজার শ্রমিক। ফলে এসব শ্রমিকদের পরিবারে শান্তি নেই।  জোটছেনা ৩ বেলা খাবার।  তাই বঞ্চনা আর শোষণ থেকে মুক্তি পেলেও কর্মহীন শ্রমিকরা ভালো নেই বিশেষ এই দিনেও।

দিনটি আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস নামেও পরিচিত। ‘শ্রমিক-মালিক নির্বিশেষ, মুজিববর্ষে গড়বো দেশ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশে পালিত হচ্ছে এবারের মে দিবস।

বরাবরই নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে দিনটি পালিত হলেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গতবারের মতো এ বছরও সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা বাতিল করা হয়েছে। সম্প্রতি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ দিবসটির পূর্বঘোষিত সব ধরনের বহিরাঙ্গন কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেছে।

মে দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জার্নাল বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের শ্রমজীবী মেহনতি মানুষদের প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানায়।

উল্লেখ্য, ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের উপযুক্ত মজুরি আর দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে ওই শহরের হে মার্কেটের শ্রমিকরা। কিন্তু আন্দোলনরত শ্রমিকদের দমাতে মিছিলে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় পুলিশ। এতে ১১ শ্রমিক নিহত হন। আহত ও গ্রেপ্তার হন আরও বহু শ্রমিক। পরে প্রহসনমূলক বিচারের মাধ্যমে গ্রেপ্তারকৃত শ্রমিকদের মধ্যে ছয়জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এতে বিক্ষোভ আরও প্রকট আকার ধারণ করে। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারাবিশ্বে। পরবর্তীতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

১৮৮৯ সালের ১৪ই জুলাই ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে ১ মে শ্রমিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরের বছর ১৮৯০ সাল থেকে পহেলা মে-কে বিশ্বব্যাপী ‘মে দিবস’ বা ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস’ হিসেবে পালন হয়ে আসছে।

কোন মন্তব্য নেই