চট্টগ্রামের নিভৃতচারী তরুণ লেখিকা শাম্মী তুলতুল

0
002-2
.

লেখালিখি তার ধ্যানে মননে। স্কুলবেলা থেকে তার সাহিত্য চর্চার সূচনা। নিভৃতে লিখে চলেছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। তিনি চট্টগ্রামের খ্যাতনামা তরুন লেখিকা শাম্মী তুলতুল। একজন ঔপন্যাসিক, গল্পকার ও শিশু সাহিত্যিক। সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার নিশ্চুপ পদচারণা। বন্দরনগরী চট্টগ্রামের গন্ডি পেরিয়ে ঢাকা ও কোলকাতার সাহিত্যাঙ্গনেও তার পদচারণা। অথচ চট্টগ্রামে তিনি অনেক নিভৃতচারী একজন লেখিকা।

এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে তুলতুল বলেন তিনি ছোটবেলায় সাহিত্যের প্রতি ঝোঁক থাকলেও ক্লাসের পড়ালেখায় অনেক ফাঁকিবাজ ছিলেন। বাসায় শিক্ষক পড়াতে এলে নানা অজুহাতে তাড়ানোর বাহানা করতেন। দিন রাত ক্লাসের বই নিয়ে পরে থাকার ইচ্ছে কোন কালেই তার ছিলনা। তবে স্কুল কলেজে তার ফলাফল কখনোই খারাপ ছিলো না। ভালো রেজাল্ট করেই তিনি দেশ সেরা কলেজ চট্টগ্রাম কলেজে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে অধ্যয়ন করছেন।

মুলত পরিবার থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে ছোটবেলা থেকেই লেখালেখিতে তুলতুলের হাতেখড়ি। সেই স্কুল বেলা থেকে দেশের বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকা, মাসিক পত্রিকা এবং দেশের বাইরের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লিখে চলেছেন। গত তিন বছরে ( ২০১৩ থেকে ২০১৬) তুলতুলের চারটি বই প্রকাশিত হয়েছে। বইসমূহ হলো (১) মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ, (২) টুনটুনির পাখিস্কুল, (৩) চোরাবালির বাসিন্দা এবং (৪) গণিত মামার চামচ রহস্য।

001-3
.

তুলতুলের প্রকাশিত বই সমূগের মধ্যে চলতি বছরের বইমেলায় মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস “চোরাবালির বাসিন্দা” ও ছোটদের বই “গণিত মামার চামচ রহস্য” রকমারিদে বেষ্ট সেলার স্থান পায়। গত বই মেলায় প্রকাশিত এই দুটিই বই-ই নিভৃতচারী লেখিকা শাম্মী তুলতুলকে খ্যাতির শীর্ষে নিয়ে যায়। আগামী ২০১৭ সালের বই মেলায় শাম্মী তুলতুলের আরও চারটি বই প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।

সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য শাম্মী তুলতুল চট্টগ্রাম বেগম রোকেয়া ও সুফিয়া কামাল সম্মাননা পদক লাভ করেন। এ ছাড়া তিনি ঢাকায় বাংলাদেশ কবি পরিষদ থেকেও সম্মাননা পুরস্কার লাভ করেন।

শাম্মী তুলতুলের প্রাপ্ত অন্যান্য পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে রাউজানের নামি মোহাম্মদপুর স্কুল কৃতি সন্তান হিসেবে সন্মাননা, পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক কর্তৃক লেখালেখির অবদানের জন্য ২০১৬ সালের বইমেলায় সম্মাননা।

লেখালেখির শুরু ও উৎসাহ প্রসঙ্গে শাম্মী তুলতুল জানান, আমাদের পৈত্রিক বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজানের খ্যাতনামা মোহাম্মদপুর শেখ ওমর বাড়িতে। তবে আমার জন্ম চট্টগ্রাম শহরেই। আমাদের পরিবারটা অনেক মজার একটা পরিবার। একটা সাহিত্য, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, অভিজাত ও মুক্তিযুদ্ধ চর্চার একটি পরিপূর্ণ পরিবার। এই পরিবারে বেড়ে উঠতে উঠতে সবাইকে একদিকে যেমন দেখেছি রাজনীতিতে অংশ নিতে, অন্যদিকে দেখেছি সমান তালে সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনে অংশগ্রহণ করতে। বাবা আলহাজ আবু মোহাম্মদ খালেদ ছিলেন তৎকালীন (রাউজান) সাহিত্য, সাংস্কৃতিক সংগঠন জাগরণী সংস্থার সভাপতি ও শিক্ষাবিদ। বর্তমানে তিনি একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক ও সংগঠক। তুলতুলের মা কাজী রওশন আখতারও শিক্ষাজীবনে ছিলেন রাউজান কলেজ ছাত্র সংগঠনের নেত্রী। ছোটবেলা থেকেই নানা ডাক্তার কাজী এজহারুল ইসলামের মুখে শুনেছেন কবিতার বোল। নানা এজহারুল ইসলাম ছিলেন বিখ্যাত দৌলত কবির নাতী।

নানি কাজী লতিফা হককে দেখেছেন বিখ্যাত বেগম পত্রিকায় লেখালেখি করতে, আর দাদু আলহাজ আব্দুল কুদ্দুস মাস্টার ছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বাল্যবন্ধু। এছাড়া তিনি সুপরিচিত লেখক, কলামিস্ট, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতা ছিলেন। পারিবারিক এমন আবহে বড় হতে হতেই সাহিত্য চর্চা মস্তিষ্কে ঢুকে পড়ে তুলতুলের।

তুলতুল বলেন, আমি মনে করি প্রতিটি মানুষ তার নিজ নিজ মেধা নিয়ে জন্মে। প্রত্যেকেরই নিজস্ব গুণাবলী রয়েছে। কেউ কারো জায়গা নিতে পারেনা, কেউ কারো মতো হতে পারেনা। এই ক্ষেত্রে নিজের উপর আত্মবিশ্বাস থাকা এবং নিজের পরামর্শ নিজের গ্রহণ করা একান্ত জরুরী। আর অভিভাবকদের উচিৎ দিন রাত সন্তানের মাথায় পড়ালেখার ভূত চাপিয়ে না দিয়ে তাদের প্রতিভা বিকাশের দিকেও নজর দেয়া

শাম্মী তুলতুল লেখালেখি ও পড়াশোনার পাশাপাশি চট্টগ্রাম টেলিভিশনের একজন নিয়মিত আবৃত্তিশিল্পি। এছাড়া তিনি চট্টগ্রাম বেতারে অনুষ্ঠান গ্রন্থনা করে থাকেন।

শাম্মী তুলতুল নিজেকে অনেকটা আড়ালে রেখেই সাহিত্যের সমৃদ্ধ অঙ্গনে সাফল্যময় বিচরণ করছেন। মানুষকে ভালোবাসেন। সহজেই বিশ্বাস করেন। তার লাজুক সরলতা নিমেষেই মুগ্ধ করে সবাইকে। সমৃদ্ধ চট্টগ্রামের নিভৃতচারী লেখিকা শাম্মী তুলতুল লেখালিখির মাধ্যমেই দেশ-বিদেশের সাহিত্যাঙ্গনে নিজের একটি সফল অবস্থান তৈরি করতে পারবেন বলেই আমাদের বিশ্বাস।

কোন মন্তব্য নেই