৫৯ বছরে এই প্রথম লোকসান দিল বাটা

0
.

বৈশ্বিক জুতার ব্র্যান্ড বাটা বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করে দেশ স্বাধীন হওয়ার অনেক আগে, সেই ১৯৬২ সালে। এরই মাঝে পেরিয়ে গেছে ৫৯ টি বছর। ব্র্যান্ডের জুতার ব্যবসায় দেশে শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছে বাটা শু। বাংলাদেশে আলাদা কোম্পানি খুলে ব্যবসা পরিচালনাকারী- বাটা শু কোম্পানি (বাংলাদেশ) সব সময় লাভের মধ্যেই ছিল। কিন্তু করোনাকালে প্রধান বিক্রয় মৌসুমে আউটলেটগুলো বন্ধ করতে হয়েছিল বলে বাংলাদেশে তাদের ব্যবসার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো লোকসানের শিকার হয়েছে বাটা।

বিক্রিতে ধস নামায় ২০২০ হিসাব বছর শেষে বাটা মোট লোকসান করেছে ১৩২ কোটি ৬১ লাখ টাকা যেখানে এর আগের বছর প্রায় ৫০ কোটি টাকা লাভ হয়েছিল। বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে ২০২০ সালে শেয়ারপ্রতি ৯৬ টাকা ৯৪ পয়সা লোকসানের (যেখানে এর আগের বছর শেয়ারপ্রতি ৩৬ টাকা ১১ পয়সা লাভ হয়েছিল) তথ্য দিয়ে কোম্পানিটি বলেছে, “বাটা শু বাংলাদেশ ২০২০ সালে সামগ্রিক ব্যবসায় সঙ্কটের মধ্য দিয়ে গেছে, যা কোম্পানির আয়কে পিছিয়ে দিয়েছে।”

ক্ষতির কারণ তার বিনিয়োগকারীদের অবহিত করে বাটা বলছে, “মহামারীকালে লকডাউনের কারণে ২০২০ সালে দুই ঈদ, পূজা এবং পহেলা বৈশাখের মতো উৎসবগুলোতে তেমন বিক্রি হয়নি। অথচ অন্যান্য বছর এসব উৎসব থেকেই মোট আয়ের ৩০ শতাংশ চলে আসতো। এছাড়া গত বছর ৭৭ শতাংশ ডিলার এবং/অথবা পাইকারি বিক্রেতা করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর প্রভাবও পড়েছে।

সার্বিক বিষয়ে বাটার হেড অফ মার্কেটিং ইফতেখার মল্লিক বলেন, “বাটা বাংলাদেশে কখনো এতোটা খারাপ ব্যবসা করেনি। প্রতিবছরই বিক্রি বেড়েছে। করোনার কারণে সমস্ত রফতানি বাজার বন্ধ থাকায় ২০২০ সালে তেমন রফতানিই করতে পারেনি বাটা (মাত্র ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা)।”

তবে করোনার কোনো বিধিনিষেধ না থাকলে এ বছরের শেষের দিকেই ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে আশাবাদী মল্লিক।

এদিকে, ব্যবসায় রেকর্ড পরিমাণ খারাপ করলেও বিনিয়োগকারীদের একেবারে হতাশ করেনি বাটা। ২০২০ হিসাব বছরের জন্য ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর আগের বছর যেখানে ১২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়া হয়েছিল।

কোন মন্তব্য নেই