সীতাকুণ্ডে নিজ গ্রাম ঘুরে গেলেন বৃটেনস্থ বাংলাদেশী হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম

0
.

কামরুল ইসলাম দুলু:

শিখড়ের টানে নিজ গ্রামে এসেছেন বৃটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশী হাইকমিশনার সীতাকুণ্ডের মেয়ে সাঈদা মুনা তাসনিম।

আজ বৃহস্পতিবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় তিনি নিজ গ্রাম সীতাকুণ্ড উপজেলার ১নং সৈয়দপুর ইউনিয়নে আসলে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন সীতাকুণ্ড উপজেলা নবাগত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহাদাত হোসেন, উপজেলা সহকারী কর্মকর্তা (ভূমি) রাশেদুল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম নিজামীসহ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ।

হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম বাবাও মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্তি সচিব।

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম নিজামী বলেন, বৃটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশী হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম আমাদের সীতাকুণ্ডের মেয়ে। তিনি নাড়ির টানে নিজ গ্রামে এসেছেন তাঁর মরহুম দাদা-দাদীর জিয়াফতের উদ্দেশ্য সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে।

উল্লেখ, সাঈদা মুনা তাসনিম বর্তমানে বৃটেনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োজিত আছেন। সাঈদা তাসনিম বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারের ১১তম ব্যাচের কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। পেশাগত জীবনে তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এবং লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে বিভিন্ন পদে অত্যন্ত দক্ষতা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জাতিসংঘ অণুবিভাগের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন সাঈদা তাসনিম। ২০১৮ সালের ২২ অক্টোবর তিনি যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার নিয়োগ পান। এর আগে তিনি থাইল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

সাঈদা মুনা তাসনিমের বাবার বাড়ি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জাফরনগরে। বাবা সরকারি চাকরি করতেন, সেই সূত্রে ঢাকায় তার জন্ম, বেড়ে ওঠা, পড়ালেখা। বুয়েট থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে প্রথমে যোগ দেন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনে প্ল্যানিং ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। ১৯৯৩ সালে যোগ দেন ফরেন ক্যাডারে। লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে, নিউইয়র্ক জাতিসংঘ মিশনে কাজ করেছেন। ২০১৪ সাল থেকে থাইল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে।দায়িত্ব পালন করেন।  তিন সন্তানের জননী সাঈদা মুনা তাসনিমের শ্বশুরবাড়ি চট্টগ্রাম শহরের পাঁচলাইশে।

জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায় হলেও চট্টগ্রামের প্রতি আলাদা টান আছে বলে জানালেন সাঈদা মুনা তাসনিম। তিনি বলেন, প্রতি বছর শীতে এবং দুই ঈদে আমরা বাড়ি আসতাম। শহরের পাথরঘাটায় আমাদের একটা বাড়ি আছে সেখানে যেতাম। গ্রামের পুকুর, সবুজ ঘাস, মাটির গন্ধ আমাকে খুব টানে।

‘সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ে পায়ে হেঁটে ওঠা, বাড়বকুণ্ড, বিভিন্ন মঠ-মন্দিরে ঘুরে বেড়ানো, বাড়ি থেকে কয়েক মিনিট হেঁটে সাগর পাড়ে চলে যাওয়া আমি খুব খুব মিস করি।’ ব্যক্তিগত জীবনে সাঈদা মুনা তাসনিম তিন সন্তানের জননী।

কোন মন্তব্য নেই