বায়েজিদ সংযোগ সড়ক: ৩ মাসের জন্য বন্ধ করা হলেও ৭ দিনের মাথায় খুলে দেয়া হল

0
খুলে দেয়ার পর।

পাহাড় ধসের আশঙ্কায় বর্ষা মৌসুমের ৩ মাসের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল চট্টগ্রামে ফৌজদার হাট- বায়েজিদ সড়ক। কিন্তু বন্ধ করার এক সপ্তাহ না যেতেই খুলে দেয়া হয়েছে চট্টগ্রাম শহরের সাথে সীতাকুণ্ডের এই সংযোগ সড়কটি।

শহরে যানবাহনের মাত্রাতিরিক্ত চাপ কমাতে আজ মঙ্গলবার থেকে ফের সড়কটিতে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে, টানা বৃষ্টিতে সড়কটির আশপাশের একাধিক পাহাড় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় গত ৮ জুন থেকে তিন মাসের জন্য যান চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।

সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, পাহাড়ধসের শঙ্কা ও নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু এতে করে নগরীর জিইসি মোড়, দুই নম্বর গেট ও খুলশী এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে বিভিন্ন মহলের সুপারিশে পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।

বন্ধ করে দেয়ার পর।

তিনি বলেন, সড়ক খুলে দেয়া হলেও এর দু’পাশের দোকানপাট বন্ধ থাকবে। সব ধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধ থাকবে। এছাড়া সড়কটির মাঝখানে কিছু ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা রয়েছে, সেখানের একটি অংশে কাজ চলছে। তাই ওই অংশের দুটি লেন বন্ধ থাকবে।

সিডিএ সূত্র জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফৌজদারহাট বাইপাস এলাকা থেকে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী পর্যন্ত সিডিএ’র নির্মিত এ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে একটি রেলওয়ে ওভারব্রিজ, ছয়টি ব্রিজ ও বেশ কয়েকটি কালভার্ট। প্রকল্পের ৬ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণে কাটা হয় ১৬টি পাহাড়। পরিবেশ অধিদফতর থেকে আড়াই লাখ ঘনফুট পাহাড় কাটার অনুমোদন নেয়া হলেও ১০ লাখ ৩০ হাজার ঘনফুট পাহাড় কেটে দশ কোটি টাকা জরিমানা গুনতে হয় সিডিএকে। এরপরও ঝুঁকিপূর্ণ খাড়া পাহাড়গুলো নতুন করে কাটার জন্য গত বছরের ২৩ মার্চ পরিবেশ অধিদফতরে তিন লাখ ৩২ হাজার ঘনমিটার পাহাড় কাটার অনুমতি চেয়ে আবেদন জানায় সিডিএ।

চিঠি পেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলো কাটা ও সংরক্ষণের বিষয়ে সিডিএ’র কাছে বিশেষজ্ঞ মতামতসহ প্রতিবেদন চায় পরিবেশ অধিদফতর। এরপর সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে প্রকল্পটির পরিচালক ও চুয়েটের দুই শিক্ষকের সমন্বয়ে গঠন করা হয় চার সদস্যের কমিটি। প্রতিবেদনটি দ্রুত সময়ের মধ্যে জমা দেয়া হবে বলে জানিয়েছে সিডিএ সূত্র।

কোন মন্তব্য নেই