সরকার কওমি শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে ও শেকল পরাতে চাচ্ছে

0
CTG Hafazat
দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে বক্তব্য রাখছেন হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা আহমদ শফী

ইসলামবিরোধী শিক্ষানীতি ২০১০-এর আলোকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকসহ শিক্ষার বিভিন্ন স্তর থেকে ইসলামী শিক্ষা ও মুসলিম সংস্কৃতির প্রতি উদ্দীপনামূলক বিষয়াবলি বাদ দিয়ে হিন্দুত্ববাদ ও নাস্তিক্যবাদের বিষয়াবলি যুক্ত করেই থেমে থাকেনি, প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন-২০১৬ এর মাধ্যমে সরকার কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকেও ধ্বংস করতে ও শেকল পরাতে চাচ্ছে।

বুধবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে বোর্ডের সভাপতি ও হেফাজত আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী এমন মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, কিছু অপতৎপরতা ইতিমধ্যেই আমরা লক্ষ করছি। কয়েকটি সংস্থার লোকজন সরলমনা কওমি আলেমদের নেতৃস্থানীয় কারো কারো কাছে কওমি শিক্ষাকে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়ার টোপ দিয়ে আলেমদের পায়ে শেকল পরাতে চাচ্ছে।’

‘আমাদের সকলকেই এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে যে, যারা সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থা থেকে ইসলাম ও মুসলিম সংস্কৃতির প্রতি উদ্দীপনামূলক বিষয়গুলো বাদ দিয়ে নাস্তিক্য ও হিন্দুত্ববাদের বিষয় সন্নিবেশিত করে এ দেশের ৯২ ভাগ মুসলমানের ধর্মীয় বিশ্বাস ও আদর্শবিরোধী ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করে চলেছে, তাদের কাছ থেকে কিসের স্বীকৃতি নেব আমরা,’ বলেন হেফাজত আমির।

তিনি বলেন, ‘মূলত স্বীকৃতির নাম দিয়ে তারা কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার স্বকীয়তা ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য উচ্ছেদ করে এই দেশে ইসলামী শিক্ষার সর্বশেষ এই অবলম্বনটাকেও ধ্বংস করে দিতে চায়। তাদের এই অপতৎপরতা উলামা-মাশায়েখ, মাদ্রাসার শিক্ষক-ছাত্র ও তৌহিদি জনতা কখনোই সফল হতে দেবে না।’

আহমদ শফী বলেন, মনে রাখতে হবে, কওমি মাদ্রাসার অর্থই হচ্ছে, জনগণের মাদ্রাসা। এই মাদ্রাসাসমূহ কোষাগারের অর্থে চলে না, সরাসরি জনগণই এসব মাদ্রাসা চালায়।’

আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সভাপতিত্বে দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসা মহাপরিচালকের কার্যালয়ে বিকেল ৫টা থেকে সাড়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেড় ঘণ্টা স্থায়ী এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে জাতীয় শিক্ষা নীতি-২০১০ ও প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন-২০১৬, জাতীয় ও কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার নানাদিক এবং কওমি সনদের স্বীকৃতি বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। বৈঠকে বিদ্যমান স্কুল পাঠ্যবইয়ে নাস্তিক্য ও হিন্দুত্ববাদের বিষয়াবলি সংযোজনসহ ধর্মহীন শিক্ষানীতি ও প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনের বিভিন্ন ধারা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আলেমগণ বক্তব্য রাখেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরী, মাওলানা আব্দুল জাব্বার জাহানাবাদী, মাওলানা মুফতী জসীম উদ্দীন, মাওলানা মুহাম্মদ ওমর, বোর্ডের কেন্দ্রীয় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মুফতী আবু ইউসুফ, মাওলানা মুনির আহমদ, মাওলানা শফিউল আলম প্রমুখ।

বৈঠকে হেফাজত আমির বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার এই ধারা বাংলাদেশের মানুষকে ধর্মপ্রাণ ও মানবিক বানাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে মুসলিম বিজয়ের সময় থেকেই মাদ্রাসা শিক্ষা প্রচলিত, যে শিক্ষা মানুষকে সুশৃঙ্খল, আইন মান্যকারী, ধার্মিক ও সৎ চরিত্রবান হিসেবে তৈরি করে। ধর্মীয় সামাজিক শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম ধারা কওমি মাদ্রাসা হাজার বছর ধরে জনগণের সাহায্য-সহযোগিতা ও আন্তরিক সদিচ্ছায় বাংলাদেশে চালু রয়েছে। ষড়যন্ত্রমূলক আইন ও অপপ্রচার চালিয়ে এ শিক্ষাধারাটি ধ্বংসের উদ্যোগ নিলে তা কখনো সফল হবে না।’

আল্লামা শাহ আহমদ শফী সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারও কওমি মাদ্রাসাকে ধ্বংস করার জন্য কম প্রচেষ্টা চালায়নি। কিন্তু কওমি মাদ্রাসা নয়, বরং তারা নিজেরাই উচ্ছেদ হয়ে গেছে। এখনো যারা সে রকম অপতৎপরতা চালাবে, তাতে কওমি মাদ্রাসা নয়, ষড়যন্ত্রকারীরাই উচ্ছেদ ও ধ্বংস হয়ে যাবে।’

Advertisements

কোন মন্তব্য নেই

একটি মন্তব্য দিন