কর্ণফুলীতে রাজমিস্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, মহিলা মেম্বারসহ গ্রেপ্তার ৩

0
.

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে নুরুল আলম (৪৫) নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৫টায় চরপাথরঘাটা ইউনিয়নে এক মহিলা মেম্বারের অফিসে নুরুল আলমের লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত নুরুল আলম একই গ্রামের মৃত শরফ আলীর ছেলে। পরিবারের দাবি মেম্বারের কার্যালয়ে শারিরিক নির্যাতন করে নুরুল আলমকে হত্যা করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কর্ণফুলী থানার ওসি মোহাম্মদ দুলাল মাহমুদ তিনি বলেন, নূরুল আলমের মৃত্যুর কারণ আমরা এখনো জানি না। হত্যা এবং আত্মহত্যা পরস্পর বিরোধ অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।  পরিবার বলছে ৫০ হাজার টাকা পাওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে।  তবে যে অফিস থেকে লাশ পাওয়া গেছে তারা বলছে নুরুল আলমকে আটকে রেখে দরজা বন্ধ করে তারা দুপুরের খাবার খেতে গিয়ে ফিরে এসে দেখেন আলম আত্মহত্যা করেছে।

তবে তাঁর পরিবারের অভিযোগের ভিক্তিতে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ইউপি সদস্যসহ ৩জনকে আটক করেছি। এরা হলেন- ইউপি সদস্য আছিয়া খাতুন (৪৮), কোরবান আলী (২৬) ও মোহাম্মদ পারভেজ (২৩)। প্রাথমিকভাবে মৃত আলমের শরীরে কোন ধরণের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। আমরা লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছি।  রিপোর্ট পেলে সিদ্ধান্ত হবে হত্যা না আত্মহত্যা।

স্থানীয় সূত্রে লোকজন জানায়, নুরুল আলম একজন রাজমিস্ত্রী। আটক কোরবান আলীর একটি দোকান তৈরির কাজ করবে বলে ১৫ হাজার টাকা অগ্রিম নেন। কথামতো কাজ শুরু করার কিছুদিন পর আরও ১৫ হাজার টাকা নেন। নির্মাণ কাজ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে কয়েকদিন কাজ বন্ধ থাকে।

মামলার বাদী ও নিহত আলমের ছেলে  মোহাম্মদ নজরুল পাঠক ডট নিউজকে বলেন, কাজ করার কথা বলে ওরা আমার আব্বুকে ডেকে নিয়ে যায়। আমরা মনে করছি সাইটে কাজ করতে গেছে। বিকালে দেখি মহিলা মেম্বারের অফিসে পুলিশ ও অনেক লোকজন।  আমরা গিয়ে দেখলাম বাবার ঝুলন্ত লাশ। অথচ মহিলা মেম্বারের অফিসের সাথে লাগানো আমাদের ঘর। আমার বাবা যদি ফাঁসিতে আত্মহত্যা করত তবে ওরা আমাদের খবর দিতো। কিন্তু ওরা আত্মহত্যা করেছে এটা সাজাতে পুলিশ কে খবর দেয়। এটা স্পষ্ট যে, ওরা পরিকল্পিত ভাবে সকালে আমার বাবাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে।

নজরুল আরও জানায়, বাবা অসুস্থ ছিল তাই কয়েকদিন কাজ করেনি। তবে কাজের জন্য প্রথমে ১৫ হাজার ও পরে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছিলো তাদের কাছ থেকে। মামলায় যাদের আসামি করেছি ওরা ৪জনেই আমার বাবাকে হত্যা করেছে।’

কর্ণফুলী থানার এসআই মো. মোশাররফ হোসেন জানায়, বিকেলে সাড়ে পাঁচটার দিকে মহিলা মেম্বারের অফিস কক্ষ থেকে নুরুল আলম নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে জানা যায় ভিকটিমের সাথে কুরবান আলী ও পারভেজের টাকার লেনদেন নিয়ে বিরোধ ছিল।

এ ঘটনায় কর্ণফুলী থানায় নিহতের ছেলে মোহাম্মদ নজরুল বাদী হয়ে ৪জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন-কোরবান আলী (২৬) মো. নাছির (৩২) ৩। আছিয়া খাতুন (৪৮) মোহাম্মদ পারভেজ (২৩)। এদের মধ্যে তিনজনকে পুলিশ তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।

কোন মন্তব্য নেই