অস্ত্র উদ্ধার

গরুবাহী ট্রাকের চালককে হত্যায় জড়িত ৪ ডাকাত গ্রেফতার

0
.

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

সীতাকুণ্ডের সলিমপুর বায়োজিদ সড়কে গরুবাহী ট্রাকের চালককে গুলি করে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি অস্ত্র আজ রবিবার উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগে হত্যাকান্ডে জড়িত চার ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ইতিমধ্যে হত্যার ঘটনা স্বীকার করে শুক্রবার বিকালে চট্টগ্রাম জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের বিজ্ঞ বিচারক শাহরিয়ার ইকবালের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন ডাকাত রবিউল ওরফে মাইজ্জা।

বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার ফৌজদারহাট ও জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমুল এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে পুলিশ রবিউল,নাদিম, মানিক ও লিটন নামে ৪ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন শুক্রবার বিকালে তিনজনকে আদালতে নিয়ে গেলে রবিউল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। এসময় অধিকতর তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ডাকাত নাদিম ও মানিকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে দু’ডাকাতের ছয়দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে স্বীকারোক্তি মতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে যায় পুলিশ।

আজ রবিবার সকাল ১০ টায় ফৌজদারহাট-বায়েজিদ লিংক রোডের নির্মিতব্য একটি পার্কের ঘর থেকে মাঠিতে পুঁতে রাখা একটি এক নলা বন্দুক উদ্ধার করে পুলিশ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সীতাকুণ্ড সার্কেল) আশরাফুল করিম, সীতাকুণ্ড মডেল থানায় অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ, ওসি(তদন্ত) সুমন বনিক, ফৌজদার হাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম।

প্রসঙ্গত,গত ১৬ জুলাই ভোররাত চারটার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট-বায়েজিদ বোস্তামী সংযোগ সড়ক এলাকায় চট্টগ্রামের বিবিরহাটমুখী একটি কোরবানীর গরু বোঝাই ট্রাকে হানা দেয় ডাকাতদল। এসময় ডাকাতের বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ট্রাক চালিয়ে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতরা গুলি চালিয়ে ট্রাক চালক আবদুর রহমানকে (৫০) হত্যা করেন। এ ঘটনায় আবদুর রহমানের এক আত্মীয় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল করিম বলেন,আদালতে রবিউল জানিয়েছেন,চালক খুনের দিন রাত ১২টার দিকে নাদিম ইট বিক্রির কথা বলে তাকে ফৌজদারহাট বায়েজিদ লিংক রোডের নির্মিতব্য পার্ক এলাকায় ডাকেন। তিনি সেখানে গেলে আরও সাতজনকে দেখতে পান। পরে পিকআপ চালক এসে তাদের সঙ্গে যোগ দেন। রাত সাড়ে তিনটার দিকে মানিক সড়কটির ফৌজদারহাট অংশের মাথায় অবস্থান নেন। গরুর গাড়িটি ওই সড়ক দিয়ে ঢুকার সঙ্গে সঙ্গে মানিক তাদেরকে ফোন দিয়ে জানিয়ে দেয় এবং সিএনজি অটোরিক্সা যোগে গাড়িটির পিছু নেয়। ভোররাত চারটার দিকে গাড়িটিকে তারা থামায়।

রবিউল আরও জানায়,তিনিসহ আরও একজন তাদের পিকআপে দাড়িয়ে ছিলেন। এসময় চালকের সঙ্গে ধ্বস্তাধস্তি করে এক পর্যায়ে চালককে গুলি করে দেয় তাদের একজন। এরপর চালক লুটিয়ে পড়লে তারা পালিয়ে যান।

সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন বণিক বলেন, প্রযুক্তির সহায়তায় চাঞ্চল্যকর এ হতাকাণ্ডের রহস্য খুব অল্প সময়ে উদঘাটন করেছেন।

কোন মন্তব্য নেই