ব্যবসায়ীদের সভায় চট্টগ্রাম ডিসি
এবার জরিমানা নয় সরাসরি জেলে পাঠানো হবে

0
13241139_1416133901745876_7905345234837477414_n
আমদানিকারক ও খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রামের ডিসি

আসন্ন পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে মসুর ডাল ও ছোলার অবাধ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন  বলেন,বাজারে কোন ধরনের অস্থিতিশীল মেনে নেয়া হবে না।

বৃৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আমদানিকারক ও খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

বাজারকারসাজি ঠেকাতে বাণিজ্যমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা রয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রমজানে নিত্য পণ্যের দাম কমানো হয়। তবে আমাদের দেশে এটিকে কেন্দ্র করে টাকা কামানোর উপলক্ষ খোঁজা হয়। সরকার নির্ধারিত দরের বাইরে যদি রমজানে ছোলা, চিনি, তেল ও ডাল বেশি দামে বিক্রি করা হয় কিংবা গুদামজাত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয় তখন জেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান জোরদার করবে। অভিযানে গতবার জরিমানা করা হলেও এবার থেকে আর জরিমানা নয় হাতকড়া পড়িয়ে সরাসরি জেলে পাঠানো হবে। তখন আপনাদের মান সম্মান আর থাকবে না। সুতারাং সাবধান হয়ে যান।

সভায় ক্যাবের কেন্দ্রিয় সহ-সভাপতি নাজের হোসাইন বলেন, ‘আমাদের দেশে কি পরিমাণ ছোলা, ডাল, চিনির চাহিদা কত সেটি নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেনা। সরকার বারবার পর্যাপ্ত মজুদের কথা বললেও কেন ছোলা, চিনি ও ডালের দাম বাড়ছে। এজন্য বাজার মনিটরিং জোরদার করতে হবে।’

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন। তিনি  সকলকে হুশিয়ার করে বলেন বাজারে কোন ধরনের অস্থিতিশীলতা মেনে নেয়া হবে না। নিয়মিত মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বাজার মনিটর করা হবে। মূল্য তালিকা প্রদর্শন করবেন এবং সকল ধরনের ক্রয় বিক্রয়ে রশিদ ব্যবহার করতে হবে। অন্যথায় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি অসাধু ব্যবসায়ীদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহবান জানান।

সভায় ছোলা আমদানিকারক বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর সভায় বলেন, দেশে ছোলার চাহিদা ২ লাখ থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টন। রমজান ও তার আগের মাসে ছোলা লাগে প্রায় ৭০ হাজার টন। ৯৯ ভাগ ছোলার চাহিদাই পূরণ করতে হয় অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানির মাধ্যমে। মাত্র ৫-৬ হাজার টন ছোল আসে মায়ানমার থেকে। এখানে কাস্টমস কর্মকতা আছেন, গত চার মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ছোলা এসেছে মাত্র ৬৮ হাজার টন। সরকারি সংস্থা দেশে ছোলার চাহিদা ও মজুদ সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়েছে। এবার রমজানে প্রতি টন ৭৫০ থেকে ১ হাজার ৫০ ডলারে ছোলা আমদানি করতে হয়েছে। গত বছর রমজানের আগে যেখানে আমার গুদামে মজুদ ছিল ৩৫ হাজার টন, সেখানে এ বছর আছে মাত্র ১ হাজার ৩৭৬ টন।

তিনি বলেন, আমার যে ছোলা ৮৬৫ ডলার কেনা পড়েছে তার সঙ্গে ৭৯ টাকা ডলার হিসাব করলে ইন্স্যুরেন্স, জাহাজ ভাড়া, লাইটারিং, বন্দর-কাস্টম চার্জ, ডিউটি ইত্যাদি আরও ৩ হাজার ৫০০ টাকা খরচ আছে। সব মিলে কস্টিং কেজিতে ৭৩ টাকার বেশি। অথচ জানুয়ারিতে আমি ছোলা বিক্রি করেছি প্রতিমণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) ২ হাজার ২০০ টাকা। এবার এখনো পর্যন্ত ৭৬ টাকার বেশি দামে আমি ছোলা বিক্রি করিনি।

সভায় উপস্থিত ৫১ জন আমদানিকারক তাদের আমদানি ইনভয়েস প্রদর্শনপূর্বক দাবি করেন তাদের কেজি প্রতি ৭২ থেকে ৭৩ টাকা খরচ হয়। তাই তারা ৭৫ টাকা করে অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা ছোলা বিক্রয় করবেন, মায়ানমারা থেকে আমদানি করা সাদা ছোলার দাম হবে ৮৫ টাকা, সাদা মটর ৪০ টাকা, মসুরের ডাল ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রয় হবে।

টিসিবি কর্মকর্তা জানান তারা খোলা বাজারে ট্রাকের মাধ্যমে চিনি, মসুর ডাল, ছোলা বিক্রয় করবেন। সেখানে ছোলা বিক্রয় হবে ৭০ টাকা প্রতি কেজি।

 

Advertisements

কোন মন্তব্য নেই

একটি মন্তব্য দিন