সর্বশান্ত অসংখ্য পুরুষ

চট্টগ্রামে বহুরূপী ব্যাভিচারীনি নারী মিনুর বিয়ে বিয়ে খেলা

0
একাধিক পুরুষের সাথে কথিত মিনু আক্তার।

প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারণার মাধ্যমে একাধিক পুরুষদের বিয়ে করে তাদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে সর্বশান্ত করার অভিযোগ উঠেছে মিনু আক্তার নামে এক ব্যাভিচারীনির বিরুদ্ধে। এসব প্রতারণার কাজে ব্যবহার করেন একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র। বাবা মায়ের নাম একই হলেও নিজের নাম বসিয়েছেন ভিন্ন ভিন্ন। তবে এসব পরিচয়পত্রে তাঁরই ছবি রয়েছে। এভাবে একাধিক নাম ঠিকানায় জাতীয় পরিচয়পত্র বানিয়ে প্রতারণার বিয়ে ও সম্পর্ক তৈরি করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে এই নারীর বিরুদ্ধে। ​

প্রতারণার জাল ফাঁদতে ব্যবহার করা হয় ফেসবুক আর ইমো। তার আসল নাম মিনু আক্তার হলেও তিনি কখনো নাছিমন আক্তার সিমু আবার কখনো ফাতেমা বেগম সিমু। নানা নামে এই এক নারীই পুরুষ পাল্টে করছিলেন প্রতারণা। এমনই এক নারী প্রতারকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার পর বিষয়টি সামনে আসে। বহুরূপী প্রতারক এই নারীর বাড়ি খাগড়াছড়ির বাঘাইছড়ি উপজেলার মারিশ্যা গ্রামে। তবে বর্তমানে থাকছেন গাজীপুরে।

.

বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহনাজ রহমানের আদালতে এই বহুরূপী প্রতারক নারীর বিরুদ্ধে মামলা করেন প্রবাসী ইমাম হোসেন। কাতার প্রবাসী এই যুবক জোরারগঞ্জের দূর্গাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা পেশায় একজন গাড়ি চালক। মামলায় মিনু আক্তারের সাথে মোস্তফা জামিল (৩৭) ও রাশেদ (৩৯) নামে আরও দুইজনকে আসামি করা হয়েছে।

.

মিনুর ঠিকানা হিসেবে রয়েছে গাজীপুর জেলার টঙ্গীর ৪০৩ হোল্ডিংয়ের শাহীনুর কুঞ্জ ও রাঙামাটি বাঘাইছড়ি থানার উগলছড়ি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড। তাঁর বাবার নাম আলি আহাম্মদ ও মা শামসুন্নাহার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তাঁর ছবি দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন নামে রয়েছে ৫ আইডি। কথায় বলে, অপরাধী নিজের অজান্তে কোনো না কোনো চিহ্ন রেখে যায়। তিনিও একাধিক ফেসবুক খুলে একটিতে এক যুবকের সাথে ছবি পোস্ট করে ধরা খেলেন। তাঁর প্রবাসী স্বামী ইমাম হোসেন (৩৮) এর চোখে পড়লে একের পর এক সব গোমর ফাঁস হতে থাকে।

.

ভুক্তভোগী স্বামী কাতার প্রবাসী ইমাম বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) ওই নারীর বিরুদ্ধে আদালতে নালিশি অভিযোগ করেছেন। তিনি বায়েজিদ বোস্তামী থানার রুবি গেটের জনৈক নুর আলনের ছেলে। ইমামের সাথে বিয়ে বহাল থাকাকালে ওই নারীকে বিয়ের অভিযোগে মোস্তফা জামিল (৩৭) ও রাশেদ (৩৮) নামে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অভিযোগ আনা হয় এতে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহনাজ রহমান অভিযোগটিকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করতে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।

.

বাদিপক্ষে এডভোকেট গোলাম মাওলা মুরাদ পাঠক ডট নিউজকে বলেন, আদালত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ফেসবুকে কাতারপ্রবাসী ইমাম ও মিনুর সাথে বন্ধুত্বের পর কাতার প্রবাসী ইমাম হোসেন দেশে এলে ২০১৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি এদের বিয়ে হয়। বিয়েতে ১০ লাখ টাকা কাবিন ধরা হয়। এর পর ইমাম কাতার ফিরে গেলে বিভিন্ন প্রয়োজনের কথা বলে মিনু ৭ লাখ টাকা নেন। মিনু ঢাকার আশুলিয়ার একটি গার্মেন্টসে ফাতেমা আক্তার রোমানা পরিচয়ে চাকুরি নেন। টাকা পাওয়ার পর মিনু ইমামকে অবহেলা করা শুরু করে। ইমাম বিদেশে বসে জানতে পারে তাঁর রুবি গেটের বাসায় মানুষের অস্বাভাবিক আনাগোনা শুরু হয়েছে। পরে তিনি দেশে ফিরেন। এরপর খুঁজে পান মিনুর একে একে তিন-তিনটি পরিচয়পত্র, আরও এক বিয়ের কাবিননামা এবং ফেসবুকে রাশেদ নামের এক যুবকের সাথে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ছবি। গতবছর ২০ ফেব্রুয়ারি জামিলের সাথে বিয়ে করার কাবিনও খুঁজে পান ইমাম। ইমামের সাথে সম্পর্ক বহাল থাকাকালেই ওই বিয়ে করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

কোন মন্তব্য নেই