এস. আলম সুগারের বিরুদ্ধে ২০০ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির মামলা

0
.

প্রায় দুইশ’ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার অভিযোগে শিল্প প্রতিষ্ঠান এস. আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের বিরুদ্ধে মামলা করেছে কাষ্টমস কর্তৃপক্ষ।  মামলার এজাহারে বলা হয়েছে- বন্ড সুবিধায় আমদানি করা প্রায় এক লাখ টন চিনির কাঁচামাল গুদাম থেকে পাচার করার মাধ্যমে এই রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে এস. আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এ ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে ব্যবসায়ী মহলে।

কাষ্টমস কর্তৃপক্ষ বলছেন, চিনি তৈরি ও রিফাইন করার প্রায় এক লাখ টন কাচামাল বন্ড সুবিধায় আমদানি করে তা পাচার করেছে এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠান মেসার্স এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। চট্টগ্রামে বন্ড কমিশনারেট কর্তৃপক্ষের তদন্তে এই ফাঁকি ধরা পড়ে।

বন্ড কমিশনারেট এর প্রতিবেদনে বলা হয়- বিভিন্ন সময়ে বন্ড সুবিধায় আনা ২৭টি চালানের মাধ্যমে ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৭ মেট্রিক টন কাঁচামালের বন্ডিং মেয়াদ ৬ মাস বাড়ানোর জন্য গেল ১৬ই আগস্ট আবেদন করে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ।

১৯শে আগষ্ট সরজমিনে পরদির্শনে দেখা যায় কাষ্টমস কর্তৃপক্ষের অগোচরে গুদাম থেকে প্রায় ৯৩ হাজার মেট্রিক টন কাঁচামাল সরিয়ে ফেলা হয়েছে। যার শুল্ক করের পরিমাণ ১৯৮ কোটি ৭০ লাখ ৮১ হাজার ৩৫ টাকা। এ ঘটনায় এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এর বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকির মামলা করে বন্ড কমিশনারেট কর্তৃপক্ষ। গত ৩১ আগস্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-৪৫/২০২১। কাস্টম আইন ১৯৬৯ এর সেকশন ১১১ ধারায় দাবি নামাসহ কারণ দর্শানোর এই নোটিশ জারি করা হয়েছে। পত্র পাওয়ার পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে এই নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

তবে এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি দেশের অন্যতম বৃহৎ এই শিল্পগ্রুপের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

কাষ্টমস বন্ড কমিশনারেট এর কমিশনার এ কে এম মাহবুবুল আলম জানান, যত বড় প্রতিষ্ঠানই হোক না কেন অনিয়মের ব্যাপারে কোন ছাড় দেয়া হবে না। মেসার্স এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের লাইসেন্স বাতিল এবং অর্থদন্ডসহ কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা জানতে চেয়ে ৩০ দিনের সময় দিয়ে নোটিশ পাঠিয়েছে বন্ড কমিশনারেট কর্তৃপক্ষ।

কোন মন্তব্য নেই