চলে গেলেন অভিনেতা ড. ইনামুল হক

0
ফাইল ছবি।

একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা, নাট্যকার, নির্দেশক ইনামুল হক আর নেই। সোমবার দুপুর ৩টায় তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না লিল্লাহে রাজিউন)। খবরটি বার্তা ২৪.কমকে নিশ্চিত করেছেন অভিনেতা শাহিদ আলমগীর। তিনি বলেন, “দুপুরে খাবার গ্রহণের পর তিনি ইজি চেয়ারে শুয়ে ছিলেন। তখন পরিবারের লোকজন বুঝতে পারেন তিনি ঠিক স্বাভাবিক নেই। তাকে আমি ও তার জামাতা অভিনেতা লিটু আনাম তাৎক্ষণিক রাজধানীর ইসলামিয়া মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাই। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”

শাহিদ জানান, বর্তমানে তার লাশ রাজধানীর সেগুন বাগিচায় কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে গোসলের জন্য নেয়া হয়েছে। সেখান থেকে তাকে বেইলি রোডের বাসায় নিয়ে যাওয়া হবে।
১৯৪৩ সালের ২৯ মে ফেনী সদরের মটবী এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন ড. ইনামুল হক। বাবার নাম ওবায়দুল হক ও মা রাজিয়া খাতুন। ড. ইনামুল হকের পুরো পরিবারই নাটকের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। তার দাম্পত্য সঙ্গী বরেণ্য নাট্যজন লাকী ইনাম। তাদের সংসারে দুই মেয়ে হৃদি হক (স্বামী লিটু আনাম) আর প্রৈতি হক (স্বামী সাজু খাদেম)।

ফেনী পাইলট হাইস্কুল থেকে এসএসসি, ঢাকার নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরবর্তীকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে তিনি অনার্স ও এমএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে মানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি লাভ করেনন ড. ইনামুল হক।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি দীর্ঘ ৪৩ বছর শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত থাকার সময় ১৫ বছর রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং দুই বছর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নটরডেম কলেজে পড়াশোনাকালীন তিনি প্রথম মঞ্চে অভিনয় করেন।

ফাদার গাঙ্গুলীর নির্দেশনায় তখন তিনি ‘ভাড়াটে চাই’ নাটকে প্রথম অভিনয় করেন। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন তিনি। দলটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন ড. ইনামুল হক। এই দলের হয়ে প্রথম তিনি মঞ্চে অভিনয় করেন আতাউর রহমানের নির্দেশনায় ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রো’ নাটকে।

এরপর এই দলের হয়ে ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’, ‘নূরুল দীনের সারা জীবন’সহ আরো বহু নাটকে অভিনয় করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি এই দল থেকে বের হয়ে প্রতিষ্ঠিত করেন ‘নাগরিক নাট্যাঙ্গন’। সর্বশেষ দলটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন গুণী এই নাট্যজন।

নাট্যাঙ্গনে বিশেষ অবদানের জন্য ২০১২ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করে।

কোন মন্তব্য নেই