ভাড়া না বাড়ালে সরকারী নির্দেশনা মানবে না চট্টগ্রামের বাস মালিকরা

0
.

করেনার ভয়াবহতা ঠেকাতে সরকারে ১১ দফা নির্দেশনানুযায়ী ভাড়া না বাড়ালে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন চালানোর সরকারি সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ চট্টগ্রামের গণপরিবহন মালিকরা।

তাদের দাবি, অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গাড়ি চালাতে হলে ভাড়ার হার অন্তত ৬০ শতাংশ বাড়াতে হবে। নইলে গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়ারও ইঙ্গিত দিচ্ছেন তারা।

চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি খোরশেদ আলম ও মহাসচিব মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু এক বিবৃতিতে বলেন, ১৩ জানুয়ারি থেকে সরকার সারা দেশে ১১টি শর্ত সাপেক্ষে জরুরি বিধি নিষেধ ঘোষণা করেছেন। নেতারা সরকারের সকল প্রকার বিধি নিষেধের প্রতি যথাযথ আন্তরিক। কিছুদিন আগে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির কারণে ভাড়া বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিষয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসন হয় এবং স্বাভাবিক হয় যানচলাচল।

বিবৃতিতে বাস মালিকরা বলেন, এর আগে লকডাউনের সময় প্রতি সিটে একজন করে যাত্রী বহন করা হয়। ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে ধার্য করা হয়। এতে মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশের স্বার্থে তা মেনে নেন। এবারও সকল প্রকার স্বাস্থ্য বিধি মেনে গণপরিবহন সচল রাখতে হলে পূর্বের সিদ্ধান্ত কার্যকর করে সিট প্রতি একজন ও ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্তে আসতে হবে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মালিক গ্রুপের মহাসচিব বেলায়েত হোসেন বলেন, যদি অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলতে হয়, তাহলে বলব ভাড়া আগের মতো ৬০ শতাংশ বাড়ানো হোক। তিনি বলেন, বিআরটিএ বলেছে, শনিবার থেকে এটা কার্যকর করতে। আমরা শনিবার বৈঠকে বসে সিদ্ধান্ত নেব কি করব।

চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু বলেন, সরকারি বিধি নিষেধের প্রতি আমরাও আন্তরিক। এর আগে লকডাউনের সময় প্রতি সিটে একজন করে যাত্রী বহন করে ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হয়। এতে মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশের স্বার্থে তা মেনে নিয়েছিল। এবারও সকল প্রকার স্বাস্থ্য বিধি মেনে গণপরিবহন সচল রাখতে হলে পূর্বের সিদ্ধান্ত কার্যকর করে সিট প্রতি একজন ও ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্তে আসতে হবে। অন্যথায় রাস্তায় গাড়ি নামানো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আমরা চাই না সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ুক। তাই সরকারের উচিত আমাদের দিকটাও বিবেচনা করা।

এর আগে গতকাল নির্দেশনার পর থেকেই ভাড়া বাড়ানোর জন্য সরকারের ওপর চাপ দেওয়া শুরু করেন বাস মালিকরা। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) গতকাল সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকে, বাসভাড়া না বাড়িয়ে যাত্রী পরিবহনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া জানান বাস মালিকরা। তারা জানান, সরকার যদি দাবী না মানেন প্রয়োজনে বাস চালাবো না।

কোন মন্তব্য নেই