দুর্ঘটনায় ২ পুলিশ নিহত: গাড়ি চালাচ্ছিল ইয়াবাসহ আটক আসামি

0
.

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানার ২ পুলিশ কর্মকর্তা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার ঘটনায় সেই পালানো আসামিকে ২৪ ঘণ্টায়ও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। আসামিকে গাড়ি চালাতে দেওয়ায় সুযোগ বুঝে সে কৌশলে গাড়ি খাদে ফেলে দেয়। এতে দুই এসআইয়ের প্রাণ গেলেও পালিয়ে যায় আসামি।

গত সোমবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ ঘটনায় এখনো আসামি পলাতক রয়েছে জানিয়ে এএসপি বলেন, ‘আসামির কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ইয়াবা পানিতে পড়ে যাওয়ায় কিছু গলে গেছে। বাকিগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পর রাতেই এসপি জায়েদুল আলমসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।’

এদিকে, মাদক উদ্ধারের ঘটনায় সোমবার মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সোনারগাঁও থানার এসআই নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করা হলেও দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহতের ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সোনারগাঁও থানার ওসি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তবে বিস্তারিত বুধবার প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানানো হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। আসামি গ্রেফতারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এর আগে, সন্ধ্যায় দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দুই এসআইকে উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া আরও এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আহত হয়েছেন। আহত এএসআইকে মুমূর্ষু অবস্থায় রাজারবাগ পুলিশ লাইন হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহতরা হলেন ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার মুনসুরাবাদ গ্রামের কাজী নুরুল ইসলামের ছেলে কাজী সালেহ আহম্মেদ ও গোপালগঞ্জের চরভাটপাড়া গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে এসএম শরীফুল ইসলাম। তারা সোনারগাঁ থানায় কর্মকর্তা ছিলেন।

পুলিশ জানায়, গোপন সূত্রে খবর ছিল টেকনাফ থেকে ৫০ হাজার ইয়াবার একটি চালান আসছে। এ খবর পেয়ে সোনারগাঁওয়ের মেঘনা টোল প্লাজা এলাকায় তল্লাশি চৌকি বসায় পুলিশ। এ সময় আসামির গাড়িকে সিগন্যাল দিলে একজন কনস্টেবলকে আহত করে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশের আরেকটি টিম মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় ধাওয়া করে আসামি আলমগীর হোসেনকে গাড়ি ও ৪২ হাজার ইয়াবা ট্যাবরেটসহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারের পর আসামিকে নিয়ে তারা সরাসরি নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে চলে যান। এ সময় আসামিকে দিয়ে গাড়ি চালিয়ে সেখানে যান পুলিশ। সংবাদ সম্মেলন শেষে আসামিকে নিয়ে নীল রঙের প্রাইভেটকার থানায় রওয়ানা দেন দুই এসআই ও এক এএসআই। তবে, তাদের তিন জনের কেউই গাড়ি চালাতে না জানায় আসামিকেই গাড়ি চালাতে বলেন তারা। এএসআই রফিকুল ইসলাম আসামির সঙ্গে সামনের আসনে। এসআই কাজী সালেহ আহম্মেদ ও এস এম শরিফুল ইসলাম পেছনের আসনের বসে ছিলেন। আসামি গাড়ি চালিয়ে সোনারগাঁওয়ের দত্তপাড়া এলাকায় এলে সুযোগ বুঝে তিনি গাড়ি থেকে কৌশলে লাফিয়ে পড়ে গাড়ি খাদে ফেলে দেয়। এতে দুই এসআই মারা যান ও এএসআই গুরুতর আহত হন। এসময় আসামি আলমগীর হোসেন পালিয়ে যায়।

সোনারগাঁও ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার সুজন কুমার হালদার বলেন, দুর্ঘটনা কবলিত প্রাইভেটকারটি সেন্ট্রাল লক করা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে এ লকটি করা হয়েছে।

সোনারগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এসএম শফিকুল ইসলাম জানান, নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে একটি প্রেস ব্রিফিং শেষে সোনারগাঁও থানায় কর্মরত উপপরিদর্শক (এসআই) কাজী সালেহ আহম্মেদ, এসএম শরিফুল ইসলাম ও সহকারী উপপরিদর্শক(এএসআই) রফিকুল ইসলাম মাইক্রোবাস যোগে থানায় ফিরছিলেন। পথে সোনারগাঁওয়ের দত্তপাড়া এলাকায় তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি খাদে পড়ে যায়। এ সময় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কাজী সালেহ আহম্মেদ ও শরিফুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন।

কোন মন্তব্য নেই