জব্বারের বলি খেলায় জীবন বলি চ্যাম্পিয়ন

0
.

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলী খেলার ১১৩ তম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কক্সবাজারে চকরিয়ার জীবন বলি।

কুমিল্লার শাহজালাল বলীকে হারিয়ে তিনি বিজয়ের মুকুট অর্জন করেন।এর আগে ১০৯তম আসরেও তিনি চ্যাম্পিয়ন ছিলেন।

আজ সোমবার (২৫) বিকেলে লালদীঘি সংলগ্ন জেলা পরিষদ মার্কেট চত্বরে বালুর তৈরী অস্থায়ী মঞ্চে এ বলি খেলা (কুস্তি প্রতিযোগিতা) অনুষ্ঠিত হয়।

হাজার হাজার মানুষ এবারের বলি খেলা উপভোগ করেন।

ফাইনালের শুরু থেকে দর্শকরা দুইভাগে বিভক্ত হয়ে জীবন ও শাহজালাল পক্ষে স্লোগান দিতে থাকেন। জীবন বেশ কয়েকবার শাহজালালকে ধরাশায়ী করার চেষ্টা করেও পারেননি।

শেষ মুহূর্তে পয়েন্ট ভিত্তিতে তারিকুল ইসলাম জীবনকে বিজয়ী ঘোষণা করেন খেলার রেফারি আব্দুল মালেক।

.

বলীখেলাকে কেন্দ্র করে চলছে ৩ দিনের বৈশাখী মেলা। করোনার মহামারির কারণে দুই বছর এ আয়োজন বন্ধ থাকার পর ঐতিহ্যবাহী এ বলীখেলা ও মেলার এবার বসেছে ১১৩তম আসর। প্রতিযোগিতায় অংশ নেন চট্টগ্রাম কক্সবাজার, নোয়াখালী কুমিল্লাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের অসংখ্য বলী।

বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আজ সোমবার বিকেল ৩ টায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরীর পৃষ্ঠপোষকতায় নগরীর ঐতিহাসিক লালদীঘির চত্বরে ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলী খেলার ১১৩ তম আসরের আয়োজন করা হয়।

জব্বারের এই বলী খেলায় এবার প্রথম রাউন্ড, কোয়ার্টার ফাইনাল (চ্যালেঞ্জিং বাউট), সেমি ফাইনাল ও ফাইনালে (চ্যাম্পিয়ন বাউট) মোট ৭২ জন বলী অংশ নেন।

বিজয়দের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথি সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর। বিশেষ অতিথি চট্টগ্রাম সিটি মেয়র রেজাউল করিম।

এদিকে আজকের বলীখেলা ও গতকাল রবিবার থেকে শুরু তিন দিনের বৈশাখী মেলার কারণে কয়েকদিন ধরে লালদীঘি, কে সি দে রোড, বক্সিরহাট, সিনেমা প্যালেস, আমানত শাহ রোড, খাতুনগঞ্জ-আসাদগঞ্জগামী রোড সহ কয়েক কিলোমিটার এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সিএমপির পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা। কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে লাগানো হয়েছে সিসি টিভি ক্যামেরা।

তিন দিনব্যাপী এ মেলা আজ এবং আগামীকাল পর্যন্ত চলবে। মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা নানা ধরনের গৃহস্থালি ও লোকজ পণ্য নিয়ে হাজির হয়েছেন। ঐতিহ্যবাহী এ মেলায় হরেক রকমের পণ্যের পসরা সাজিয়েছেন বিক্রেতারা। মাটির তৈরি তৈজসপত্র, মাটির টেপা পুতুল, কাঁচের চুড়ি, পাটপণ্যের পাশাপাশি কাঠের পুতুল, খেলনা, বাঁশ-বেতের জিনসিপত্র আর মুড়ি-মুড়কি বাতাসার দোকানের ভিড় লেগেছে।

বৈশাখের তপ্ত দুপুরে মাথার ওপর প্রচণ্ড তাপদাহ। তারই মাঝে বাহারি গ্রামীণ পণ্যের পসরায় সেজেছে লালদিঘী মাঠের আশে পাশের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা। মেলায় এসেছে নানা বয়সী মানুষ।

উল্লেখ্য- ১৯০৯ সালে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে লড়তে দেশের তরুণ যুবকদের শারীরিকভাবে তৈরি করতে এই বলী খেলার প্রচলন করেছিলেন চট্টগ্রামের বদরপাতি এলাকার বাসিন্দা আবদুল জব্বার। ধারাবাহিকভাবে শত বছর পেরিয়ে বর্তমানে দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ ঐতিহ্যবাহী লোকজ উৎসবেই শুধু পরিণত হয়নি এই খেলা, ঠাঁই করে নিয়েছে ইতিহাসেও।

কোন মন্তব্য নেই