বিভিন্ন ইসলামী দলের তীব্র প্রতিবাদ

ঘাদানিকরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত

0
.

১১৬জন দেশ বরেণ্য আলেম ও ধর্মীয় বক্তাদের বিরুদ্ধে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সমন্বয়ে গঠিত গণকমিশনের দুদকে উত্থাপিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। ঘাদানিকরা দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। গণকমিশনের নেতাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। তথাকথিত গণকমিশন দুদকে এই মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে তারা দেশ-জাতি, সমাজ এবং ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। তারা আলেম উলামাদেরকে সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চক্রান্ত করছে। আলেম ওলামাদের বিরুদ্ধে দুদকে গণকমিশনের পেশকৃত অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বিভিন্ন ইসলামী দলের নেতৃবৃন্দ আজ শুক্রবার পৃথক পৃথক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন। তারা কঠিন হুঁশিয়ারী দিয়ে বলেন, সরকার যদি এখনই শক্ত হাতে তথাকথিত এই ভুঁইফোড় সংগঠনকে দমন না করে তাহলে ইসলাম প্রিয় আপামর তৌহিদী জনতা কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশঃ চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সমন্বয়ে গঠিত মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস তদন্তে ‘গণকমিশন’ কর্তৃক জঙ্গি অর্থায়ন ও দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টে কাজ করছে এমন অভিযোগ এনে ১১৬ ওয়ায়েজিনের (ধর্মীয় বক্তা) একটি তালিকা দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা দেয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। আজ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে হেফাজত আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, আমরা ঘাদানিকের সমন্বয়ে গঠিত তথাকথিত গণকমিশনের এই ভুঁইফোঁড় সংগঠনটি বরাবরের মতোই নিজেদের ইসলাম বিদ্বেষী চেহারা জাতির সামনে উন্মোচিত করেছে। তাদের এই শ্বেতপত্র সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং মিথ্যা তথ্যে ভরপুর। এটি সমগ্র দেশবাসীর সামনে দিবালোকের ন্যায় পরিষ্কার।

হেফাজত আমির বলেন, শাহবাগী এই সংগঠন প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই নানাভাবে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার পাঁয়তারা চালিয়ে আসছে। সর্বশেষ তারা দেশবরেণ্য ওলামা মাশায়েখ এবং ইসলামী আলোচকগণের এ তালিকা প্রকাশ করে চরম ধৃষ্টতা প্রদর্শন করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, দেশবরেণ্য ইসলামী আলোচকদের নামে অমূলক এবং ভিত্তিহীন অভিযোগ করে তথাকথিত গণকমিশনের দায়িত্বশীলরা নিজেদের গ্রহণযোগ্যতাই হারিয়েছেন। বাস্তবতা বিবর্জিত এসব কথাবার্তা বলে নিজেদেরকে জাতির সামনে চরম উপহাসের পাত্রে পরিণত করেছেন।

হেফাজত আমির গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এসব বানোয়াট বক্তব্যের কারণে দেশে চরম অশান্তি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অতএব যারা এসব উস্কানিমূলক কর্মকাÐ করছে, সরকার যেন তাদের শক্ত হাতে প্রতিহত করে। তিনি আরও বলেন, ওয়াজ মাহফিল শান্তি-সমৃদ্ধি ও আদর্শ সমাজ গঠন ও সমাজ সংস্কারের উত্তম মাধ্যম। এর মাধ্যমে মানুষকে ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণের পথনির্দেশ করা হয়। সমাজের সকল অনাচার, অন্যায় এবং ভুল থেকে মানুষকে বিরত রাখা হয়। ইসলামী আলোচকগণ ধর্মের বিশুদ্ধ বার্তা মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দেয়ার জন্য বহুমুখী ত্যাগ তিতীক্ষা করে থাকেন।

দেশ ও জাতির জন্য পরম কল্যাণকর এ কাজটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার লক্ষ্যে গভীর ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে তথাকথিত গণকমিশন। দুদকে এই মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে তারা দেশ জাতি, সমাজ এবং ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। তিনি কঠিন হুঁশিয়ারী দিয়ে বলেন, সরকার যদি এখনই শক্ত হাতে তথাকথিত এই ভুঁইফোড় সংগঠনকে দমন না করে তাহলে ইসলাম প্রিয় আপামর তৌহিদী জনতা কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।

খেলাফত আন্দোলনঃ কতিপয় নাস্তিক মুরতাদ দ্বারা গঠিত অর্বাচীন সংগঠন গণকমিশন কর্তৃক ১১৬ জন ওয়ায়েজীন ও বিশিষ্ট আলেমদের বিরুদ্ধে দুদকে মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীরে শরীয়ত আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী।আজ এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, যারা আলেমদের নামে দুদকে মিথ্যা অভিযোগ করেছে তারাই সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতি বিনষ্টের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আমাদের জানামতে তালিকায় উল্লেখিত কোন একজন আলেম সম্পর্কেও জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদের সাথে জড়িত থাকা বা স¤প্রীতি বিনষ্টের কোন প্রমাণ তারা দিতে পারবে না। আলেম সমাজ ওয়াজ নছিহতের মাধ্যমে মানুষকে সুদ,ঘুষ,দুর্নীতিসহ সব ধরনের অপরাধ থেকে বিরত থাকার দাওয়াত দিয়ে থাকেন। আলেম উলামাগণ দুর্নীতি বা দেশ বিরোধী কোন কাজ জড়িত থাকতে পারে না।

তিনি আরো বলেন, ইসলাম আলেম ওলামাদের নাম শুনলেই যাদের গাত্রদাহ শুরু হয়ে যায় এই শ্রেণির নাস্তিকরাই কেবল সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেমদের বিরুদ্ধে দুদকে এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ করতে পারে। সরকারের উচিত শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে ঘোলাটে করে যারা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায় তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ও একটি ইসলাম বিদ্বেষী চক্র সবসময়ই ইসলাম ও আলেম ওলামাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও মিথ্যাচার চালিয়ে মুসলমানদেরকে উত্তেজিত করতে চায়। তাদের এই ষড়যন্ত্রকে সফল হতে দেয়া হবে না।

ইসলামী ঐক্যজোটঃ জঙ্গি অর্থায়ন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের কথিত অভিযোগে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সমন্বয়ে গঠিত গণকমিশন কর্তৃক দুর্নীতি দমন কমিশনে দেশের ১১৬জন ইসলামী আলোচকের বিরুদ্ধে অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী ও মহাসচিব মুফতী ফয়জুল্লাহ। এক যৌথ বিবৃতিতে নেত্বদ্বয় এ প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, আলেম উলামা ও ধর্মীয় বক্তাররা নয়, ভূঁইফোঁড় সংগঠন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিই দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের পাঁয়তারা করছে। তারা ধর্মীয় বক্তাদের উপর দুর্নীতির দায় চাপিয়ে প্রকৃত দুর্নীতিবাজদের আড়াল করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইছে। আমরা বিশ্বাস করি, ১১৬জন বরেণ্য আলেম ও ধর্মীয় বক্তাদের বিরুদ্ধে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সমন্বয়ে গঠিত গণকমিশনের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আমরা এই ঘৃণ্য কর্মের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

ঈমান আক্বিদা সংরক্ষণ কমিটিঃ দেশের ১১৬জন ইসলামী আলোচকের বিরুদ্ধে দুদকে মিথ্যা অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঈমান আক্বিদা সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি ও সাতানি আশরাফুল উলূম মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আলতাফ হোসাইন। আজ এক প্রতিবাদ বার্তায় তিনি বলেন, দুদকে দেশের বরেণ্য আলেম ও ওয়ায়েজিনের বিরুদ্ধে কথিত গণকমিশনের শ্বেতপত্র দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত। এই চক্রান্ত রুখতে এখনই ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির বিষদাঁত ভেঙ্গে দিতে হবে। তারা বিদেশ থেকে অর্থ এনে কোথায় কীভাবে ব্যয় করছে তা নজরদারি করতে হবে। মাওলানা আলতাফ হোসাইন আরও বলেন, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি হচ্ছে ভিনদেশী ঘাতক দালালদের মিলন মেলা। তাদের কর্মকান্ডে এটা স্পষ্ট যে, তারা ইসলাম, মুসলমান ও ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে চায়। দেশের করমি আলিয়া সকল শে্িরণর আলেম-উলামাদেরকে এই অশুভ শক্তির জঙ্গী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানাচ্ছি।

কোন মন্তব্য নেই