৩ দিনে এক হাজার সিএনজি অটোরিকশা ধ্বংস করেছে চট্টগ্রাম বিআরটিএ

0
.

গত তিনদিনে এক হাজারের অধিক সিএনজি অটোরিকশা ধ্বংস (স্ক্র্যাপ) করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম কার্য্যালয়।গত বুধবার থেকে সরকারের নির্দেশনায় এসব সিএনজি চালিত অটোরিকশা স্ক্র্যাপকরণ শুরু করে সংস্থাটি।

সর্বশেষ আজ শুক্রবার (১৩ মে) প্রায় ৩‘শ সিএনজি চালিত অটোরিক্সা স্ক্র্যাপকরণ করা হয়েছে বলে জানান বিআরটিএ কর্মকর্তারা।

তারা জানান, মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বিআরটিএ’ও চেয়ারম্যানের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় স্ক্র্যাপকরণ করে ঝুকিপূর্ণ সিএনজি চালিত অটোরিকশাগুলো অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে।

বিআরটিএ’র কর্মকর্তারা জানান, ২০০৫ মডেলের ১ হাজার ৫টি মেয়াদোত্তীর্ণ সিএনজি চালিত অটোরিকশা স্ক্র্যাপকরণের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এ অনুযায়ী সিএনজি অটোরিক্স স্ক্র্যাপকরণ চলে।

২০০১ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআরটিএ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ১৩ হাজার সিএনজি চালিত অটোরিকশা নিবন্ধন দিয়েছিল। এই সব সিএনজি অটোরিকশা নিবন্ধনের সময় মেয়াদ বা আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯ বছর। পরে মালিক ও চালকদের দাবির মুখে তিন দফায় অটোরিকশাগুলোর মেয়াদ বাড়িয়ে ১৫ বছর করা হয়। ১৩ হাজার সিএনজি অটোরিকশার আয়ুষ্কাল সর্বশেষ গাড়ির গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়।

২০১৭ সাল থেকে কয়েকটি সিএনজি অটোরিকশার সিলিন্ডারবোমার আঘাতে প্রাণ দিতে হয়েছিল তিনজন যাত্রী ও চালককে। এছাড়াও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়েছিল আরো পাঁচজন যাত্রী। এমন ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছিল বিআরটিএ। মালিক শ্রমিক সংগঠন গুলোর চাপে ও সরকারের উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ হিসেবে পরিবেশগত ক্ষতির প্রভাবমুক্ত হতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ২০০১, ২০০২ ও ২০০৩ মডেলে প্রস্তুতকৃত এমন সাড়ে আট হাজার সিএনজি অটোরিকশা ও ২০১৮ ও ২০১৯ সালে বিআরটিএ স্ক্যাপকরণ করে প্রতিস্থাপন করেছিল।

করোনার কারণে মেয়াদোত্তীর্ণ ২০০৪ মডেলের সিএনজি অটোরিকশা স্ক্র্যাপকরণ প্রায় ১০ মাস বন্ধ থাকার পরে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে গতবছরের ১৬ নভেম্বর থেকে ২০০৪ মডেলের ৩৬১৬ টি সিএনজি অটোরিকশা স্ক্যাপ করণ শেষ করেছে বিআরটিএ। ফলে চট্টগ্রাম নগরীতে এখন ১২ হাজার সিএনজি অটোরিকশা সম্পূর্ণ নতুন। ভ্রমনকারী সাধারণ যাত্রীদের কাছে নেই সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে অগ্নিদগ্ধ হওয়ার আতঙ্ক। স্বজন হারানো ভয়ও প্রায় কেঁটে গেছে।

এই প্রসঙ্গে আলাপকালে চট্টগ্রাম বিভাগের বিআরটিএর উপ পরিচালক মো. শফিকুজ্জামান বলেন, ২০০৫ মডেলের সিএনজি অটোরিকশা স্ক্র্যাপকরণ কার্যক্রমটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট, বিআরটিএ কর্মকর্তা, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের উপস্থিতিতে কাজ সম্পন্ন হয়।

কোন মন্তব্য নেই