চট্টগ্রাম বন্দরে স্ক্যানিং মেশিন জটিলতা, প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিলো মার্কিন কোম্পানি

0
.

চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার স্ক্যানিং জটিলতা নিরসনে অবশেষে হস্তক্ষেপ করেছে সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ইতিমধ্যে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে লেখা এক চিঠিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস-২০০৮ অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কালো তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে স্ক্যানিং মেশিন সরবরাহের কাজ দেওয়ার সব আয়োজন সম্পন্ন করেছিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এ নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ ওঠায় বিষয়টিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ হস্তক্ষেপ করে।

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে যাওয়া রপ্তানি পণ্যের কন্টেইনার স্ক্যানিং করার জন্য শুধু বন্দর কর্তৃপক্ষ নয়, এর আগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডও (এনবিআর) ছয়টি স্ক্যানিং মেশিন কেনার উদ্যোগ গ্রহণ করে। ২০২১ সালে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও বিষয়টি এখনো ঝুলে আছে। তখন মোট তিনটি কোম্পানি ঐ প্রতিযোগিতায় অংশ নিলেও এনবিআর কালো তালিকাভুক্ত চীনা কোম্পানি নাকটেক কোম্পানি লিমিটেডকে কাজের জন্য বাছাই করে। দেখা গেছে, ঐ চীনা কোম্পানি ছয়টি স্ক্যানিং মেশিন ২৫০ কোটি টাকায় সরবরাহের প্রস্তাব করে। এটি অন্যান্য প্রস্তাব থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকা বেশি। এ বিষয়ে সুদৃষ্টি চেয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হেলেন লা-ফেব এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রাহমাতুল মুমিনকে চিঠি দিয়েছিলেন। গত ১১ মে সংশ্লিষ্ট মার্কিন কোম্পানির ভারতীয় প্রতিনিধি সিদ্ধার্থ কুণ্ডু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দিয়ে এ বিষয়ে তার সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। ঐ চিঠিতে তিনি বলেন, শুধু একটি কোম্পানিকে সুবিধা দিতে এনবিআর সুযোগ রেখেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বন্দরে কন্টেইনার স্ক্যানিং সংক্রান্ত জটিলতা চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য সংকটের মুখে পড়তে পারে। অবশ্য এর আগেও নিষিদ্ধ ঐ কোম্পানি থেকে স্ক্যানিং মেশিন সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য রপ্তানি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপে হয়ে থাকে। ইন্টারন্যাশনাল শিপ অ্যান্ড পোর্ট ফ্যাসিলিটি সিকিউরিটি কোড প্রতিপালন করতে গেলে রপ্তানিযোগ্য কন্টেইনারগুলো স্ক্যানিং করা বাধ্যতামূলক।

কোন মন্তব্য নেই