চট্টগ্রামসহ সারাদেশে নির্বাচনী সংর্ঘষে নিহত ৯

0

০২ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পঞ্চম ধাপে দেশের ৪৪ জেলার ৮৬ উপজেলার ৭২০ ইউপিতে শনিবার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এদিন সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে শেষ হয় বিকেল ৪টায়। এখন ভোট গণনা চলছে।

এ সময় ভোটকেন্দ্র দখল, জালভোট প্রদান, ব্যালট পেপার ছিনতাই, সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনা ঘটে। এতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

election_clash_14391_1464433403_129463এর মধ্যে জামালপুরে ৪ জন, চট্টগ্রামে ২ জন, নোয়াখালিতে ২ জন, কুমিল্লায় ১ জন মারা যান। এ ছাড়া এ সময় বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষে অন্তত শতাধিক আহত হয়েছেন।

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের পশ্চিম পটিয়া ও কর্ণফুলিতে ২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে একজন সদস্য প্রার্থী রয়েছেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) ডিসি (বন্দর) হারুন অর রশীদ হাজারী জানান, আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বেলা দেড়টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইয়াছিনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত তিনজনের নাম পরিচয় তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়নি।

এদিকে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় নির্বাচনী সহিংসতায় পৃথক ঘটনায় ৯ গুলিবিদ্ধ এবং ১০ আহত হয়েছেন।

indexউপজেলার সারোয়াতলীর ৩ নম্বর ওয়ার্ড, ৬ নম্বর ওয়ার্ড রসিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৭ নম্বর ওয়ার্ড ইমামুল্লার চর প্রাথমিক বিদ্যালয়-২ ভোটকেন্দ্রে এবং বেঙ্গুরা ৩৭ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে এসব সংঘর্ষ হয়।

গুলিবিদ্ধরা হলেন, বেঙ্গুরা এলাকার খলিলুর রহমানের ছেলে মো. ইউছুপ (৫৫), মরহুম ইলিয়াছ আলীর ছেলে রশিদ (৭৫), সিদ্দিক আহমদের ছেলে নুরুল আবচার (৫৪), আনোয়ার, মমতাজ মেম্বার ও হাবিবুর রহমানে ছেলে দিনমজুর মো. সেকান্দর (৫০)। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

নোয়াখালী : নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে সৈয়দ আহমদ (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ সহ ২জন নিহত হয়েছেন। উপজেলার ৬ নম্বর রাজগঞ্জ ইউনিয়নে কেন্দ্র দখলের সময় সংঘর্ষে এ ঘটনা ঘটে।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজিদুর রহমান সাজিদ জানান, ভোটগ্রহণের সময় রাজগঞ্জ ইউনিয়নের ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্র দখল করতে গেলে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হন। তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

জামালপুর : জেলার দেওয়ানগঞ্জে দুই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় চারজন নিহত ও দুই পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার সকাল ১১টায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, নিহতরা হলেন— দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের কুতুবেরচর গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে জিয়াউর রহমান (২৫), একই গ্রামের আজমত আলীর ছেলে নবীরুল ইসলাম (১৬), শেখপাড়া গ্রামের আফজাল শেখের ছেলে মাজেদ আলী (১৫) ও একই গ্রামের হাফিজ উদ্দিনের ছেলে নুরুল ইসলাম (৩৫)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ কুটারচর এবতেদায়ী মাদরাসা ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ জোরপূর্বক সিল মারাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী শফিউজ্জামান রবিনের সমর্থকদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শাহজাহান আলীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

এদিকে সংঘর্ষে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কনস্টেবল ইব্রাহিম হোসেন (৫০) ও কনস্টেবল সোলায়মান নয়ন (৪০) আহত হয়েছেন। এতে আরও ২০ জনের মতো আহত হলেও তাদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।

কুমিল্লা: কুমিল্লার তিতাস উপজেলার বলারামপুর ইউনিয়নে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত একজন স্বতন্ত্র  চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিপক্ষের হামলায় টেটাবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে প্রায় সাড়ে তিন মাসে প্রতিদিনই সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে।

পাবনা : পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের বাবুলচারা উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপার ছিনতাই ও দুই মেম্বর প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

বাবুলচারা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসার কাজী শ্রেষ্ঠত্ব প্রত্যাশা বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কেন্দ্রের বুথের ভেতর ঢুকে জোর করে ব্যালটে সিল মারতে থাকে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকরা। এক পর্যায়ে ব্যালট বাক্স ছিনতাই করার চেষ্টা করে। প্রশাসনের বাধার মুখে তারা প্রায় চার শত ব্যালট পেপার ছিনতাই করে চলে যায়। এরপর ভোট কেন্দ্রের মাঠে লাঠিশোঠা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকরা। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। আহতদের ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

 গাইবান্ধা : জেলার সালমারা ইউনিয়নের জীবনগাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকা প্রার্থী শাহানা আকতার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম বকুল’র (মোটরসাইকেল) কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৫ জন আহত হয়েছেন।

এ ছাড়া ব্যালট পেপার ছিনতাই হওয়ার কারণে জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কামারদহ ইউনিয়নের তারদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটগ্রহণ বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সকাল ১০টার দিকে জীবনগাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকা প্রার্থী শাহানা আকতার কর্মী-সমর্থক নিয়ে ভোট কেন্দ্রে হামলা করে ব্যালট পেপার ছিনতাই ও সিলমারার চেষ্টা করে। এ সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম বকুল (মোটরসাইকেল) কর্মী-সমর্থক নিয়ে বাঁধা দেয়। এতে উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে উভয় পক্ষের ৫ জন আহত হয়েছেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক জানান, সংঘর্ষের পর জীবনগাড়ি ভোট কেন্দ্রে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। তবে সংঘর্ষে আহতদের পরিচয় তিনি জানাতে পারেননি।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শাহিনুর রহমান জানান, বাতিল হওয়া তারদহ ভোট কেন্দ্রে পরিবর্তীতে ভোটগ্রহণ করা হবে।

পঞ্চম ধাপের এ ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৩ হাজার ২৫৪ জন, সাধারণ সদস্য পদে ২৭ হাজারের বেশি ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ৭ হাজারের বেশি প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন।

এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৪২ জন ইতোমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এরা সবাই আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী।

পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে ১৫টি রাজনৈতিক দলের ১ হাজার ৭২৭ জন এবং স্বতন্ত্র ১ হাজার ৫২২ জন প্রার্থী। দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সমর্থীত প্রার্থী আছে ৭২৬ ইউপিতে, ৬২৯ ইউপিতে রয়েছে বিএনপির প্রার্থী। জাতীয় পার্টি ১৭৭টি, জাসদ ২১টি, বিকল্পধারা ২টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ১৩টি, ইসলামী আন্দোলন ১২২টি, জেপি ২টি, ইসলামী ফ্রন্ট ১১টি, এলডিপি ৬টি, সিপিবি ৫টি, জেএসডি ১টি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ৬টি, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ৭টি এবং অপর একটি দল ১ ইউপিতে প্রার্থী দিয়েছে।

Advertisements

কোন মন্তব্য নেই

একটি মন্তব্য দিন