বোয়ালখালীতে বিএনপি সমর্থককে এসিড খাইয়ে হত্যার চেষ্টা

0

20160528_151834বোয়ালখালী চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
নির্বাচন চলাকালে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার শাকপুরা ইউনিয়নে মো. জাহাঙ্গীর আলম (৪০) নামে এক বিএনপি সমর্থককে ধরে নিয়ে জোর করে এসিড খাইয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন।
শনিবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার পশ্চিম শাকপুরার কাজী বাড়ী ভোট কেন্দ্রের বাইরে এ ঘটনা ঘটে। জাহাঙ্গীর আলম স্থানীয় আজম তালুকদারের বাড়ির বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জাহাঙ্গীর আলম শাকপুরা ইউনিয়নে বিএনপি মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থী শওকত আলীর (ধানের শীষ) পক্ষে কাজ করছিলেন। দুপুর দুইটার দিকে কাজী বাড়ী ভোট কেন্দ্রের বাইরে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে জোর করে এসিড খাইয়ে দেয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বোয়ালখালী উপজেলা হাসপাতালের স্বাস্থ্য সহকারী মোহাম্মদ বাবর।
তিনি বলেন, ‘এসিডে জাহাঙ্গীরের কন্ঠনালীসহ লিভারে ক্ষত হয়েছে বলে আশঙ্কা করছি। বমির সাথে রক্ত বের হচ্ছে। আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে ব্যাটারির এসিড খাইয়ে দিয়েছে বলে পরিবারের কাছ থেকে শুনেছি।’

এছাড়া নির্বাচন চলাকালে বিভিন্ন সহিংস ঘটনায় সারোয়াতলী, শাকপুরা ও আহলা কড়লডেঙ্গায় সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ১০ জন গুলিবিদ্ধ সহ অন্তত ২৪ আহত হয়েছে। তারা হলেন-গুলিবিদ্ধ হন নোটন চৌধুরী (৫৩), দিনমজুর মো. সেকান্দর (৫০), মো. ইউছুপ (৫৫), মরহুম ইলিয়াছ আলীর ছেলে রশিদ(৭৫), সিদ্দিক আহমদের ছেলে নুরুল আবচার(৫৪), আনোয়ার, মমতাজ মেম্বার, জয়নাল আবেদীন (৩৪) ও পুলিশের রাবার বুলেটে মহিউদ্দিন (২২), মো. রুবেল (৩২) ।

হামলা এবং ছুরিকাঘাতে আহতরা হলেন, সঞ্জয় আচার্য্য (২৪) , রেজাউল করিম (২৩), ক্লিনটন চৌধুরী (২৫), রতন চৌধুরী (৪০), অনিক মিত্র (১৮), অরুণ বিশ্বাস (৫৩), খাজা মিয়া বাবু (১৪), পোলিং অফিসার সুমী দাশ (৩০), মো. ছৈয়দ (৪৩), তাপস চৌধুরী(৩৩), আনোয়ার হোসেন ফারুকী(৪১), মো. ইকবাল উদ্দিন ফারুকী (৩৬) ও হোসেন (৪০) আহত হন। এছাড়া প্রকাশ দে (২৩) ছুড়িকাহত হন। গুলিবিদ্ধ ও আহতদের উপজেলা হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

চরণদ্বীপ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ঘাটিয়াল পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনী ব্যালেট চেয়ারম্যান সমর্থকরা ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়ায় সকাল সাড়ে ৮টার থেকে ভোটগ্রহণ বন্ধ যায় বলে জানান প্রিসাইডিং অফিসার মো. রিদুয়ানুল ইসলাম।

তিনি জানান, ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার ৭/৮ মিনিটের মধ্যে নৌকা সমর্থক ৫০/৬০ জনের একটি দল দু’টি ব্যালেট বই ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আধ ঘন্টার মধ্যে তা জমা না দিলে নির্বাচন বন্ধ ঘোষণার কথা বললে নৌকা প্রতীকে গোল সীলমারা একটি বই উদ্ধার করা হয়। এচাড়া ইউপি সদস্যের ব্যালেট বইটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া কেন্দ্রে হামলার চেষ্টা করলে দরজা বন্ধ করে কোনো প্রাণে রক্ষা পায়। রির্টানিং অফিসার মো. আশরাফ জানান, এ ঘটনায় ওই কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করে দেয়া হয়েছে।

Advertisements

কোন মন্তব্য নেই

একটি মন্তব্য দিন