আমাদের ছেড়ে সিকু আজ বহুদুরে…

0
আতিকুর রহমান আতিক।
“রেজাউল করিম সিকু, এ ছবি আজ শুধুই স্মৃতি”

আমার পৃথিবী কালো মেঘে ঢাকা কিছু কিছু মানুষের সাথে হৃদয়ের বন্ধন কখন ও ছিন্ন হওয়ার নয়। আবার কিছু মানুষের অকালে না ফেরার দেশে চলে যাওয়া সহজে মেনে নেওয়া ও কঠিন বাস্তবতা।তবু মেনে নিতে হবে সৃষ্টিকতার্র দেওয়া হুকুমকে, প্রত্যক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। চট্টগ্রাম শহরের পাথরঘাটা,আশরাফ আলী রোডে এখন থেকে ৪/৫ বছরর আগে ব্যবসার সুবাধে ভাড়া বাসায় পরিবারসহ উঠি। ব্যবসা, মসজিদ, বাসা ছাড়া কোথা ও যেতাম না। পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র তম স্থান মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে প্রায় সময় দুটি ছেলে নামাজ পড়তে আসতে,এই পবিত্র স্থানে তাদের সাথে আমার পরিচয় একজন রেজাউল করিম সিকু,অন্যজন আশরাফ। বয়সে আমার অনেক ছোট দুইজনে, এদের সাথে পরিচয় হওয়ার পর থেকে তাদের মাধ্যমে আশরাফ আলী রোডে ছোট বড় সবার সাথে গভীর সম্পক গড়ে উঠে।

তাদের পরিবারের সাথে আমাদের পরিবারে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠে। বিশেষ করে সিকু একজন দুরন্ত কিশোর, যার মুখের হাসি কোন ব্যক্তির চোখে পড়েছে সেই যতই নিষ্ঠুর হোক না কেন তার হৃদয় মোমের মতো গলেছে। তার ভদ্রতা, নম্রতার কথা লিখে শেষ করা যাবে না। একজন সাদা মহৎ হৃদয়ের অধিকারী। অল্পতে সেই সবার সাথে মিশতে পারে, আমাদের পরিবারের সবার সাথে খুব ঘনিষ্ট্য ছিল সে। “পূবার্শার আলোর” সমস্ত কাজে তাঁর সহযোগিতা ছিল সবসময়, বিশেষ করে সুবিধা বঞ্চিত শিশুর জন্য কাজ করতে আগ্রহী ছিল সবচেয়ে বেশি।আমার সমস্ত কাজে নিজ থেকে এসে সমর্থন দিতো। পূবার্শার আলোর সমস্ত অনুষ্ঠানে দক্ষতার সাথে কাজ করায় তাকে ছাত্র কল্যাণ সম্পাদক করা হয়।

পড়া লেখার সুবাদে মালয়েশিয়ায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। প্রথম প্রথম মালয়েশিয়া যাওয়ার পর নিজ দেশে চলে আসার জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়ে, আমরা সবাই থেকে সান্তনা দিই থাকার জন্য, অথচ প্রবাস জীবন কেমন যন্ত্রণাদায়ক আমি তিন মাস ওমান গিয়ে হাড়ে হাড়ে বুঝতে পেরেছি।

স্বার্থের এই পৃথিবীতে মানুষ চোখের সামনে থেকে দুরে গেলে ভুলে যায় সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে অনেক আপন মানুষকে ভুলে যায়। কিন্তু সিকু আমাকে কখনো ভুলে নেই দুরে চলে যাওয়ার পর থেকে আরো ও যোগাযোগ বাড়িয়ে দেয়। আমার সকল কাজে সেই উৎসাহ দেয় আর কোন কাজে আমি হতাশ হলে বলতো আতিক ভাই আপনি যা করে যাচ্ছেন হয়তো পৃথিবীতে কিছুই পাবেন না কাল কবরে এই কাজেই আপনার নাজাতের উছিলা হবে।

তার কথাটি বুকে ধারন করেছি, আমার ছোটভাইদের মতো তাকে স্নেহ করতাম তাকে নিয়ে আমি সিকুর বিরানী নামে একটা লেখা ও লিখেছি কিছু দিন আগে এই লেখাটি নিয়ে শর্ট ফিল্ম ও বানানো হয়েছে। তার সব জায়গায় সরব উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করতো। গত ২৭ জানুয়ারি ২০১৭ইং প্রিয় ভাইটিকে হারালাম মালয়েশিয়ায় সড়ক দুঘর্টনায়। তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনায় সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি।

ছোট স্বপ্নে বিভোর থাকা
এক দুরন্ত বালক
নেশা ছিলো মানবতার কল্যাণে
নিজেকে উজাড় করা
এক অসমান্য প্রতিভাধর পথিক।
সবে মাত্র জীবন গড়ার
বীজ বপনে তালিম নিচ্ছে
এক টগবগে তারুণ্যের পথিক।
কিন্ত জানি না সৃষ্টি কর্তার
অপূর্ব সৃষ্টির রহস্য
মনেহয় তার কাছে
যাকে বেশি প্রিয় মনেহয়
থাকেই ভালোবেসে কাছে ডাকে।

(সিকুর অকালে না ফেরার দেশে চলে যাওয়া থেকে আমাদের জীবনে শিক্ষা নিতে হবে, যখন মালিক ডাক দিবে তখন সব ছেড়ে চলে যেতে হবে । তাই আপনাকে আমাকে প্রস্তুত থাকা দরকার)

লেখক: আতিকুর রহমান আতিক
প্রতিষ্ঠাতা “পূর্বাশার আলো” ।

কোন মন্তব্য নেই