খাদিজাকে হত্যার চেষ্টাকারী ছাত্রলীগ নেতা বদরুলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

3
.

সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিস হত্যাচেষ্টা মামলার রায়ে আসামী ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার সিলেট মহানগর দায়রা জজ আকবর হোসেন মৃধার আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

গত ৫ মার্চ আদালতে প্রায় তিন ঘণ্টার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ৮ মার্চ রায়ের তারিখ ঘোষণা করেন বিচারক।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে আদালতের কাঠগড়ায় এ মামলার একমাত্র আসামি শাবি থেকে বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলম উপস্থিত ছিল।

বদরুলের ফাইল ছবি।

৫ মার্চ যুক্তিতর্ক উপস্থান শেষে পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আদালতকে রাষ্ট্রপক্ষ বোঝাতে সক্ষম হয়েছে যে, বদরুল কলেজছাত্রী খাদিজাকে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যেই কুপিয়েছিল। সুতরাং কোনোভাবে সে দায় এড়াতে পারে না। আমরা আদালতের কাছে বদরুলের যাবজ্জীবন সাজা প্রার্থনা করেছি।

অপরদিকে বদরুলের আইনজীবী সাজ্জাদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ঘটনার দিন বদরুল নেশাগ্রস্ত ছিল। তাকে সিগারেটের ভেতরে করে নেশা খাওয়ানো হয়েছিল। এ কারণে ঘটনার পর তিনদিন বদরুল নেশার ঘোরে ছিল। নেশার ঘোরে থাকায় সে কী ঘটিয়েছে তা জানে না। তিনি আরও বলেন, বদরুল অনেক আগে থেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। এ কারণে তার আচরণও ছিল পাগলের মতো। আমরা বদরুলের ডাক্তারির কাগজপত্র আদালতে উপস্থাপন করেছি। তিনি বলেন, আশা করি বদরুল আদালতের কাছে ন্যায় বিচার পাবে।

উল্লেখ্য, গত ৩ অক্টোবর সিলেটের এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে সরকারি মহিলা কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী খাদিজা আক্তার নার্গিসকে নির্মমভাবে কুপিয়ে আহত করে শাবি ছাত্র বদরুল আলম। এ ঘটনার পর খাদিজাকে প্রথমে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে ঢাকার সিআরপিতে চিকিৎসা গ্রহণ করে খাদিজা। প্রায় ৫ মাস চিকিৎসা নিয়ে সে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে গেছে।

ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে বদরুলকে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসেই গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় বদরুলকে একমাত্র আসামি করে খাদিজার চাচা আবদুল কুদ্দুস থানায় মামলা করেন। ৫ অক্টোবর বদরুল দোষ স্বীকার করে সিলেটের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে সে জানিয়েছিল, প্রেম প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় খাদিজাকে কুপিয়েছে। ঘটনার প্রায় ৩৫ দিন পর পুলিশ তদন্ত শেষে আলোচিত এ হত্যাচেষ্টা মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করে। আর এতে একমাত্র আসামি করা হয় বদরুল আলমকে। চার্জশিটের সূত্র ধরে পুলিশ স্বল্প সময়ের মধ্যে ৩৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৩ জনের সাক্ষ্য নভেম্বরেই শেষ করা হয়। এরপর সুস্থ হয়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি খাদিজা আক্তার নার্গিস সশরীরে সিলেটে আদালতে এসে বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন।