আন্দরকিল্লায় হেফাজতের বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ
গ্রিক মূর্তি অপসারণ করা না হলে সরকারের পতন অনিবার্য

200
চট্টগ্রামে হেফাজতের বিশাল সমাবেশ।

অবিলম্বে গ্রিক মুর্তি অপসারণ করা না হলে সরকারে পতন অনিবার্য উল্লেখ করে হেফাজতে ইসলামের নেতারা বলেছেন-প্রয়োজনে আবারো শাপলা চত্তরে অবস্থান কর্মসূচী দেওয়া হবে। অতীতে শাপলা চত্তরের অবস্থান কর্মসূচী থেকে আমরা হেফাজত আমীরের নির্দেশে চলে এসেছি কিন্তু ইসলামী বিরোধী কার্যকলাপ যদি সরকার কঠোর হাতে দমন না করে এবং অবিলম্বে গ্রিক মুর্তি অপসারণ করা না হয় তাহলে আবারো শাপলা চত্তরে অবস্থান কর্মসূচী দেওয়া হবে। এবার আর শাপলা চত্তর থেকে তৌহিদী জনতা ফিরে আসবে না যতক্ষণ সরকারের পতন না হবে।

সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে গ্রিক দেবির মূর্তি স্থাপনের প্রতিবাদে, অপসারণের দাবিতে ও হেফাজত নেতৃবৃন্দের মামলা প্রত্যাহরের দাবীতে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ এসব বক্তব্য দেন হেফজতে ইসলামের নেতারা।

আজ ১০মার্চ শুক্রবাদ বাদ জুমা নগরীর আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের উত্তর গেট চত্বরে এই বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সর্বোচ্চ বিচারালয়ের সামনে গ্রিক দেবির মূর্তি স্থাপন বাংলাদেশের গণমানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস, সংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও আদর্শিক চেতনার বিপরীত। কোন মুসলমান মূর্তিকে ন্যায় বিচারের প্রতীক বিশ্বাস করলে তার ঈমান থাকবে না। বাংলাদেশে মূর্তি স্থাপনের চাহিদা ও সুযোগ কোনটাই নেই। অবিলম্বে এই মূর্তি অপসারণ করতে হবে। অন্যথায় ঈমান, আক্বীদা ও ঐতিহ্য রক্ষার লক্ষ্যে মূর্তি অপসারণের দাবীতে প্রয়োজনে লাখ লাখ মানুষ নিয়ে ঢাকা ঘেরাওসহ শাপলা চত্তরে আবারো অবস্থান কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে। নেতৃবৃন্দরা বলেন, অবিলম্বে গ্রিক মুর্তি অপসারণ করা না হলে সরকারের পতন অনিবার্য।

.

বক্তারা বলেন, মসজিদের নগরী ঢাকাকে মূর্তির নগরী বানানো হচ্ছে কার স্বার্থে? দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভাস্কার্যের নামে মূর্তি তৈরী করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। যারা মূর্তির পক্ষে কথা বলছেন তারা জনবিচ্ছিন্ন। এরা নাস্তিকদের দালাল। মূর্তি ও অপসংস্কৃতি চর্চা থেকে সরকারকে বের হয়ে আসতে হবে। ৯২ ভাগ মুসলমানের দেশের মূর্তি সংস্কৃতি কেন? মূর্তি ও অপসংস্কৃৃতি দুটিই ইসলামবিরোধী। মূর্তি ও অপসংস্কৃতিকে বৈধ মনে করলে মুসলমানিত্ব থাকবে না। ইসলাম এসেছে মূর্তিরপুজার বিরুদ্ধে। রাসূল সা. বলেছেন, আমি প্রেরিত হয়েছি মূর্তির ভাঙ্গার জন্য।

দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত অর্থসম্পাদক মাওলানা হাজী মোজাম্মেল হক।

বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় যুগ্ন মহাসচিব মাওলানা মঈনুদ্দীন রুহী, মাওলানা ক্বারী মুবিনুল হক, মাওলানা আ.ন.ম আহমদুল্লাহ, মাওলানা জয়নুল আবেদীন কুতুবী, মাওলানা মনছুর আলম, মাওলানা শেখ আবু তাহের, মাওলানা জুনাইদ জওহর, মাওলানা অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইউনুস, মাওলানা ইকবাল খলিল, মাওলানা মুহাম্মদ হানিফ,মাওলানা তকি ওসমানী, মাওলানা কুতুব উদ্দিন, মাওলানা সায়েম উল্লাহ, মাওলানা হাবিবুর রহমান হাকীম, মাওলানা জুনায়েদ বিন ইয়াহইয়া, মাওলানা কামরুল ইসলাম কাসেমী, মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ,মাওলানা নাজমুস সাকিব, মাওলানা আবুল কাশেম, মাওলানা ফয়জুর রহমান ফয়েজ,মাওলানা মাহামুদুল হাসান খাকি, মাওলানা নাঈম উদ্দিন, মাওলানা সাইফুল ইসলাম, মাওলানা নুরুল ইসলাম প্রমূখ।

উক্ত বিক্ষোভ বক্তারা আরো বলেন, মহানবী সা.বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ আইন প্রণেতা হিসেবে স্বীকৃত। আমেরিকা সুপ্রিমকোর্টের সামনের ফটকে রাসূল সা. সর্বশ্রেষ্ঠ আইনপ্রণেতা হিসেবে ফলকে নাম আছে। ভারতের সুপ্রিমকোর্টেও আইন প্রণেতারূপে কোন মূর্তির অবস্থান নেই। কোন মুসলিম দেশেও এরূপ কোন নজির নেই। তাহলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ বাংলাদেশের সুপ্রিমকোর্টের সামনে কেন মূর্তি থাকবে। সুতরাং সুপ্রিমকোর্টের সামনে থেকে মূর্তি অপসারণ করতেই হবে। অন্যথায় জান-মাল দিয়ে হলেও ঈমান রক্ষায় ইসলামী জনতা গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে বাধ্য হবে, যা সরকারের জন্য শুভ হবে না।

এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে একের পর এক ইসলাম বিদ্ধেসী আইন হচ্ছে উল্লেখ্য করে  নেতৃবৃন্দ বলেন, পাঠ্যপুস্তকে ইসলাম বিরোধী পাঠ যোগ করা হয়েছে, সংবিধান থেকে ইসলামের মৌলিক বিধান তুলে দেয়া হয়েছে, নারী নীতিমালার নামে মা-বোনদেরকে ব্যহায়পনার দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। সরকারের এই সব নীতির বিরুদ্ধে হেফাজত ইসলাম আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছে। এবার গ্রিক মুর্তির অপসারণের দাবীতে হেফাজতের কর্মসূচী চলছে। নেতৃবৃন্দরা বলেন, গ্রিক মুর্তি অপসারনের চলমান আন্দোলন বানচাল করতে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলায় হেফাজত নেতৃবৃন্দর বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করা হয়েছে। অবিলম্বে এ সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

নেতৃবৃন্দরা আরো বলেন, অতীতে শাপলা চত্তরের অবস্থান কর্মসূচী থেকে আমরা হেফাজত আমীরের নির্দেশে চলে এসেছি কিন্তু ইসলামী বিরোধী কার্যকলাপ যদি সরকার কঠোর হাতে দমন না করে এবং অবিলম্বে গ্রিক মুর্তি অপসারণ করা না হয় তাহলে আবারো শাপলা চত্তরে অবস্থান কর্মসূচী দেওয়া হবে। তৌহিদী জনতা এবার শাপলা চত্তর থেকে আর ফিরে আসবে না যতক্ষণ না সরকারের পতন হবে।

200 মন্তব্য

  1. তুরস্ক-ইরান বা অন্য কোন দেশ বা ব্যাক্তি মুসলামদের অনুকরনীয় না। একমাত্র কোরআন হাদিসই মুসলমানদের অনুসরণ হওয়া উচিত। অন্য কোন দেশ অন্যায় করছে বলে আমি কেন করবো। কোরআনে মুক্তিপুজা নিষিদ্ধ। এটা তোর জানার কথা। Sagar Kamal

  2. হেফাজত আবার শাপলা চত্বরে জড়ো হওয়া হুমকি দিয়েছে এবং বলেছে আগে হেফাজত আমীরের নির্দেশে চলে এসেছে (আমরা জানি পুলিশের ঠেঙ্গানি খেয়ে পালিয়ে এসেছে)। কিন্তু এবার নাকি আসবে না যতক্ষণ সরকারের পতন না হয় !

  3. কোর-আন ও হাদিসের আলোকে ছবি আঁকা কি হারাম? না কি হালাল?এরপর আপনার নামের শেষাংশের কারণ ব্যাখ্যা করেন @মিঃ শিল্পী আ…..যে কারনে কোর্টের সামনে গ্রীক মুর্তি হারাম,সেই একই কারনে….

  4. বলা হচ্ছে গ্রিকমূর্তি ন্যায় বিচারের প্রতিক, যা কোন মুসলমান বিশ্বাস করলে ঈমান থাকবেনা, কারন ন্যায় বিচারের প্রতিক হলো পবিত্র কুরআন মজিদ।
    গ্রিক দেবি থেমিসকে রোমানরা পূজা করতো সেই থেমিসের মূর্তি কেন সুপ্রিম কোর্টের সামনে? এই মূর্তি তো দেশের স্বাধীনতা ও ঐতিয্যেরও বিরোধী, তাই এটা থাকতে পারবেনা।

  5. একজন বললেন, আল্লাহর কোন আকার নাই, কেউ যদি আকার আছে বলে তা শিরক হবে বলেন, তাহলে আল্লাহর একটা ঘর থাকবে কেন? আল্লাহতো সর্বত্র বিরাজমান। এ যুক্তির উত্তর কি?

  6. Saiful ভাই প্রথম আপনার কাছে একটা প্রশ্ন আপনি কি কোর্টের সামনে মূর্তি রাখার পক্ষে নাকি বিপক্ষে?? যদি পক্ষে হোন তবে সেটা কেনো মানে কোন কারনে রাখাটা প্রয়জন মনে করেন??

  7. মূর্তি থাকবে ভাষ্কর্য হিসেবে না কোরান থাকবে এ নিয়ে তোমরা প্রশ্ন তোলার কারা??
    তোমরাতো মুসলিমও না হিন্দুও না।তোমাগো এত মাথা ব্যথা কেন??তোমারাতো তৃতীয় লিঙ্গ নাস্তিক।

  8. Alim Uddin Sagar Kamal Sohel Sobhan Bahar Uddin Jabed Rahim Moon সহিদুল ইসলাম সবার সাথে তর্কে না গিয়ে আমার এ কমেন্টে আসুন।
    আপনাদের কাছে প্রশ্ন,, কোন কারনে কোর্টের সামনে মূর্তি রাখার পক্ষে আপনারা???

  9. মনে প্রাণে বিশ্বাস করি সুপ্রিম কোর্ট একটা পবিএ জায়গা|||আর মসজিদ আল্লাহ’র ঘর|||কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের সামনে গ্রিক মূর্তি রাখা যাবে না এটার মানে টা কী?যারা আজকে এটা অপসারণের কথা বলছে তারা কে?এই দেশ পরিবর্তনে তাদের ভূমিকা কী?এই দেশ যখন স্বাধীন হয়েছে অনেক হিন্দু,বৌদ্ধ জীবন দিয়েছে|এই দেশের মাটির সাথে এখনো তাদের রক্ত লেগে আছে..তাহলে আজ যারা গ্রিক মূর্তি অপসারনের দাবিতে আন্দোলন করছে,তারা কি করে এই দেশে বাস করছে?

  10. Sagar Kamal Sohel Sobhan এখানে বদনা পারবেজ এর জায়গায় আপনারা নিজেদেরকে ধরে নিন। যদিও এটি ছিলো কাল্পনিক চরিত্র কিন্তু আপনারা বদনা পারবেজ কে বাস্তব করে দিলেন। আপনাদের দেওয়া ফটো (কমেন্ট) গুলার উঃ মিলিয়ে নিন।।
    পারভেজ আলম নামক এক বদনা আতেল দাবি করছে-
    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গনে মহানবীর একটা প্রতিকৃতি আছে। ১৯৯৭ সালে মুসলমানরা মুর্তিটি অপসারণের অনুরোধ জানায়। মার্কিন আদালত থেকে তা নাকচ করে বলা হয় যে, মুহাম্মদকে একজন আইনপ্রনেতা হিসাবে সম্মান দেয়ার জন্যেই তার প্রতিকৃতিটি রাখা হয়েছে, এখানে মুর্তিপুজাকে উৎসাহিত করার কোন উদ্দেশ্য নাই।

    বদনা আতেল এই কথা বলতে গিয়ে কয়েকটি কথা এড়িয়ে গেছে-

    ১) ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত মার্কিন সুপ্রীম কোর্টের মূর্তিটি সরানো হয়নি, কিন্তু নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে Appellate Courthouse অবস্থিত মুসলমানদের শেষ নবীর মূর্তিটি কিন্তু মুসলমানদের বিরোধীতার মুখে সরানো হয়েছিলো। ১৯৫৫ সালে মূর্তিটি সরানো হয়। তারমানে দেখা যাচ্ছে, শুধু বাংলাদেশে হেফাজত নয়, সারা বিশ্বের মুসলমানরাই মূর্তির বিরোধীতা করে। সেটা ওয়াশিংটন ডিসি হোক কিংবা নিউইয়র্ক কিংবা বাংলাদেশ। এবং সেটা শুধু পূজার মূর্তি নয়, বরং সকল মূর্তির ক্ষেত্রেই ।

    ২) মার্কিন সুপ্রীম কোর্টে শুধু মুসলমানদের শেষ নবী নয়, ১৮ জন ব্যক্তিত্বকে শ্রেষ্ঠ আইন প্রণেতা হিসেবে সম্মান দেখিয়ে তাদের মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। এরা হলো-
    মুসলমানদের শেষ নবী
    মুসা নবী,
    Menes (c. 3200 B.C.),
    Hammurabi (c. 1700s B.C.),
    Solomon (c. 900s B.C.),
    Lycurgus (c. 800 B.C.)
    Solon (c. 638 – 558 B.C.)
    Draco (c. 600s B.C)
    Confucius (551 – 478 B.C.)
    Octavian (63 B.C. – 14 A.D.) or Augustus.
    Justinian (c. 483 – 565)
    Charlemagne (c. 742 – 814)
    King John (1166 – 1216)
    Louis IX (c. 1214 – 1270)
    Hugo Grotius (1583 – 1645)
    Sir William Blackstone (1723 – 1780)
    John Marshall (1755 – 1835)
    Napoleon (1769 – 1821)
    মজার বিষয় হচ্ছে, এই ১৮ জন প্রত্যেক্যেই বাস্তব চরিত্র এবং এখানে প্রত্যেকে আইন প্রণেতা হিসেবে সম্মান দেয়া হয়েছে, কিন্তু তাদের কাউকেই কোন ধর্মের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে প্রকাশ করা হয়নি। অথচ বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের সামনে যে মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে, সেটা বাস্তব কোন চরিত্র নয়, বরং একটি কাল্পনিক চরিত্র, যার সাথে গ্রিক বা রোমান প্যাগান ধর্মবিশ্বাস জড়িত। সে হিসেবে ১৮ জন বাস্তব আইন প্রণেতার সাথে কাল্পনিক প্যাগান চরিত্র দেবী থেমিস বা দেবী জাস্টিসিয়ার কোন তুলনা হতে পারে না।

    বদনা পারভেজ বলেছে-
    “বাংলাদেশের কালচারে, বা বাঙালি মুসলিমের কালচারে কি গ্রিক সভ্যতার প্রভাব নাই? আলবত আছে, প্রবলভাবেই আছে। গোটা মুসলিম দর্শন ও ধর্মতত্ত্ব প্রবলভাবে গ্রিক সভ্যতার কাছে ঋণী। গ্রিক সভ্যতা থেকে আগত সকল জিনিসকে বিদেশী সংস্কৃতি ভেবে বিরোধিতা করতে গেলেতো মুসলিম দুনিয়ায় হাজার বছরের ইউনানি (গ্রিক) চিকিৎসার চর্চাকারী (বাংলাদেশে এখনো আছে) ইবনে সিনা, আল রাজিদেরকেও পরিহার করতে হবে। তাদের নামে হাসপাতাল বানানো উচিত হবে না। স্কুলে পিথাগোরাসের উপপাদ্য শেখানোও বাদ দিতে হবে।”
    এর উত্তরে বলতে হয়- বাঙালী মুসলিম কালচারে গ্রিক প্যাগানিজমের কোন প্রভাব নাই। প্যাগান ধর্ম থেকে বাংলাদেশের মুসলমান কেন, কোন মুসলমানই কোন কিছু গ্রহণ করে নাই। গায়ের জোরে অনেকে দাবি করতে পারে, কিন্তু বাস্তবিক অর্থে কোন প্রমাণ তারা দিতে পারবে না। কারণ মুসলমানদের ধর্মের মূল তত্ত্বই প্যাগানদের সাথে সাংঘর্ষিক। আর চিকিৎসাবিদ্যা কিংবা জ্যামিতি শিক্ষা কি ধর্মবিশ্বাস হয়ে গেলো ? বদনা পারভেজ তো মুসলমানদের থেকে প্রাপ্ত অনেক জ্ঞান ব্যবহার করে, তবে সে ইসলাম ধর্মবিশ্বাস মানে না কেন ? গ্রিক শিক্ষাদীক্ষার অনেক কিছু নিলে তাদের পাগ্যান ধর্মবিশ্বাস বা দেবীতে বিশ্বাসও গ্রহণ করতে হবে, এটা কোথায় আছে ?

  11. আসলে বদনা পারভেজদের কথা হচ্ছে, ইসলাম বিদ্বেষ। মানে ১৪০০ বছর আগের ইসলামের বিরোধীতা করতে গিয়ে যদি ৩ হাজার বছর আগের কুসংস্কারাচ্ছন্ন বর্বর প্যাগান ধর্মকেও মানতে হয় তবুও তারা সেটা মানতে সে রাজি, শুধু ইসলাম বিরোধীতা হলেই চলবে।

  12. Sagar Kamal Sohel Sobhan আসুন দেখে যান কথা হবে মূর্তি নিয়ে অন্য কিছু নিয়ে না।
    অনেকে বলে-
    সুপ্রীম কোর্টে গ্রিক দেবীর মূর্তি থাকবে, কারণ গ্রিক দেবীর মূর্তি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।
    ১লা বৈশাখে মঙ্গলশোভাযাত্রা হবে, কারণ মঙ্গলশোভাযাত্রা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।
    রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দিতে হবে, কারণ রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল করা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।
    পাঠ্যপুস্তককে হিন্দুত্ববাদ বাদ দেওয়া যাবে না, কারণ হিন্দুত্ববাদ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা

    উপরের দাবিগুলো যারা করছে, তারা কি দাবির স্বপক্ষে, মানে- গ্রিক দেবীর মূর্তি, মঙ্গলশোভাযাত্রা, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল করা কিংবা পাঠ্যপুস্তকে হিন্দুত্ববাদ যুক্ত করা যে ‍মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সেটা কি তারা দেখাতে পারবে ? পারবে কি তার স্বপক্ষে কোন দলিল-প্রমাণ উপস্থাপন করতে ??

    আসুন আপনাদের দেখাই- ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কখনই মূর্তি-মঙ্গলশোভাযাত্রা-রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল কিংবা পাঠ্যপুস্তকে হিন্দুত্ববাদ যোগ করার চেতনা ছিলো না, বরং সেগুলোর বিরোধী চেতনা মানে ইসলামী চেতনাই ছিলো ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-

    যেমন- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রের তৃতীয় খণ্ডের ১৬-১৯ নং পৃষ্ঠায় দেখা যায়- ১৯৭১ সালের ১৪ই এপ্রিল বাংলাদেশ সরকার প্রচার দপ্তর থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম দিয়ে প্রচারিত “স্বাধীন বাংলার সংগ্রামী জনগণের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশাবলী“ থেকে পাওয়া যায়-

    ১) ঐ নিদের্শাবলী শুরু হয়েছে ‘আল্লাহু আকবর’ দিয়ে।
    ২) এরপর বলা হয়েছে- “বাঙ্গালীর অপরাধ তারা আল্লাহ তা’আলার
    সৃষ্ট পৃথিবীতে, আল্লাহর নির্দেশমত সম্মানের সাথে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে চেয়েছে। বাঙ্গালীর অপরাধ মহান স্রষ্টার নির্দেশমত অন্যায়, অবিচার, শোষণ-জলুম
    নির্যাতনের অবসান ঘটিয়ে এক সুন্দর ও সুখী সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলবার
    সংকল্প ঘোষণা করেছে। ………….আমাদের সহায় পরম করুণাময় সর্বশক্তিমান আল্লাহর সাহায্য।”
    ৩) এরপর মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে- “এ সংগ্রাম আমাদের বাচার সংগ্রাম, সর্বশক্তিমান আল্লাহ তালার উপর বিশ্বাস রেখে ন্যায়ের সংগ্রামে অবিচল থাকুন”।
    ৪) সর্বশেষে মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বাড়াতে ঘোষণাপত্র শেষ হয়েছে দু’টি কোরআনের আয়াত দ্বারা-স্বরণ করুণ আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন
    “অতীতের চাইতে ভবিষ্যত নিশ্চয়ই সুখকর।” এবং
    বিশ্বাস রাখুন— “আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় নিকটবর্তী।”
    (ছবি: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র, তৃতীয় খণ্ড। পৃষ্ঠা: ১৬-১৯। ১৯৭১ সালের ১৪ই এপ্রিল বাংলাদেশ সরকার প্রচার দপ্তর থেকে প্রাপ্ত “স্বাধীন বাংলার সংগ্রামী জনগণের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশাবলী“)

    মুক্তিযুদ্ধের দলিল থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট, ইসলামী চেতনার মাধ্যমেই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিলো। অথচ মূর্তি-মঙ্গলশোভাযাত্রা-রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল কিংবা পাঠ্যপুস্তকে হিন্দুত্ববাদ সবগুলোই ইসলাম বিরোধী চেতনা। তারমানে-
    সুপ্রীম কোর্টের সামনে গ্রিক দেবীর মূর্তি ভেঙ্গে ফেললেই,
    রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম জারি রাখলেই,
    মঙ্গলশোভাযাত্রা বন্ধ করলেই,
    পাঠ্যপুস্তক থেকে হিন্দুত্ববাদ বাদ দিলেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন হবে, যা ভিন্ন কোন উপায় থাকতে পারে না।

  13. Sagar Kamal উঃ টা দিবেন ককি? বেশতো ! সুপ্রীম কোর্টে রোমান বিচারদেবীর মূর্তি বসেছে, এবার না হয় দেশে রোমান আইন চালু হোক !

    সুপ্রীম কোর্টে রোমান বিচারদেবীর মূর্তি (গ্রিক- জাস্টিসিয়া, রোমান- থেমিস একই) স্থাপিত হয়েছে খুব ভালো কথা। কিন্তু রোমান আইন ও বিচারব্যবস্থাকে আমরা কেন গ্রহণ করছি না। সেগুলোও বাংলাদেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থার সাথে সংযুক্ত করা হোক। আসুন দেখি প্রাচীন রোমান সম্রাজ্যের কিছু বিচার ব্যবস্থা।

    ১) গাধার ভেতরে সিলাই করে দেয়া (Sewn Into A Donkey):
    এটা প্রাচীন রোমে একটি শাস্তির পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে একটি গাধাকে প্রথমে হত্যা করা হতো। এরপর গাধার পেটের সমস্ত নাড়িভুড়ি বের করে দোষী ব্যক্তিকে গাধার পেটে ঢুকিয়ে দিয়ে, শুধু মাথা বের করে বাকিটা সেলাই করে দেয়া হতো। এরপর জীবিত মানুষসমেত মৃত গাধাটিকে উত্তপ্ত রোদে রেখে দিলে কিছু সময় পর গাধার চামড়ার প্রচণ্ড গরমে মানুষটি জ্বলসে মারা যেতো।

    ২) বন্য শুকরের খাদ্যে পরিণত করা (Fed To Wild Hogs) :
    কম বয়সী কুমারি নারীদের এ পদ্ধতিতে শাস্তি দেয়া হতো। এ পদ্ধতিতে প্রথমে কুমারী নারীকে দাসদের দিয়ে গণধর্ষণ করানো হতো। এরপর নারীটিকে জনসম্মুখে নগ্ন করে জীবন্ত নারীটির পেট কেটে তার ভেতর থেকে সমস্ত নারীভুরি বের করে (নারীটি মারা পরতো) সেখানে বার্লি (যব) ভরা হতো। এরপর তাকে বন্য শুকরকে দেয়া হতো, এবং বন্য শুকর নারী শরীরটিকে ছিড়ে কুড়ে খেয়ে ফেলতো।

    ৩) লিঙ্গ কর্তন/খোজা করা (Cut Off)
    প্রাচীন রোমে যার র‌্যাঙ্ক যত উপরে সে নিচের র‌্যাঙ্কের লোকের সাথে ইচ্ছামত সমকামীতা করতে পারতো। কিন্তু নিজের র‌্যাঙ্কের লোকেরা উপরের র‌্যাঙ্কের লোকের সাথে ইচ্ছার বিরুদ্ধে সমকামীতা করতে পারতো না। যেমন সম্রাট চাইলে জেনারেল, জেনারেল চাইলে লেফটেনেন্ট, সৈনিক চাইলে সাধারণ জনতার সাথে সমকামীতা করতে পারতো। কিন্তু উল্টো সম্ভব ছিলো না। উল্টো হলে নিচের র‌্যাঙ্কের পুরুষের লিঙ্ক কর্তন/খোজা করা হতো।

    ৪) লিঙ্গ বেধে রাখা (Or Tied Off):
    এ পদ্ধতে দোষী ব্যক্তিকে প্রচুর পরিমাণে মদ পান করানো হতো। এরপর তার লিঙ্গ শক্ত করে বেধে ঝুলিয়ে রাখা হতো যেন সে প্রস্রাব না করতে পারে।

    ৫) মন্ত্রীদের নির্যাতন (Tortured Senator)
    এ পদ্ধতিতে রোমান সম্রাটরা দোষী মন্ত্রীদের শাস্তি দিতো। এক্ষেত্রে প্রথমে মন্ত্রীর বুক ও পেটকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে চিড়ে ফেলা হতো। এতে মন্ত্রী মারা পরতো না। এরপর তার চোখ উপড়ে ফেলা হতো। এরপর লোহার শিক গরম করে পেটের ভেতর থেকে একটি একটি অঙ্গপ্রতঙ্গ বের করে হত্যা করা হতো। সবশেষে মন্ত্রীর শরীরটাকে টুকরা টুকরা করা হতো। উল্লেখ্য প্রাচীন রোমে মৃত্যুকে শাস্তি হিসেবে গণ্য করা হতো নরা। মৃত্যুকে মুক্তি পাওয়ার মাধ্যম মনে করা হতো। এজন্য মৃত্যুর আগে নির্যাতনের পরিমাণটুকু শাস্তি হিসেবে গণ্য করা হতো।

    ৬) ব্যারেলে পেরেক দিয়ে আঁটকানো (Nailed Into Barrels):
    এ পদ্ধতিতে ধর্মবিশ্বাসীদের শাস্তি দেয়া হতো। প্রথমে ব্যক্তিকে প্রচুর পরিমাণে মধু ও দুধ পান করানো হতো। এরপর তাকে একটি ড্রামের মধ্যে পেরেক দিয়ে আটকানো হতো। এরপর ঐ ব্যক্তিকে বিভিন্ন পরজীবি পোকামাকড় খাবারের মাধ্যমে পেটে প্রবেশ করানো হতো। এতে ঐ পরজীবিগুলো তার পেটের সবকিছু খেয়ে ফেলতো।

    ৭) জীবন্ত কবর দেয়া (Buried Alive) :
    সম্রাট নিরো এ পদ্ধতি নারীদের শাস্তি দিতো। যদি কোন কুমারী মেয়ে সতিত্ব নষ্ট করতো তাদের জীবন্ত কবর দিতো। অনেক সময় ব্যতিক্রম হতো। এক্ষেত্রে দোষী নারীকে নিজের কবর নিজেই খুড়তো এবং হয় তাকে শুলে চড়িয়ে হত্যা করা হতো (অপরাধ বড় হলে) অথবা শুলকে হার্ট বরাবর শুল বিদ্ধ করে হত্যা করা হতো (অপরাধ ছোট হলে)

  14. ৮) মাঝ বরাবর খেয়ে ফেলা (Eaten Through the Middle) :
    এ পদ্ধতিতে দোষী ব্যক্তির পেটের উপর একটি ধাতব পাত্র স্থাপন করা হতো, যার ভেতরে থাকতো ইদুর। এ ধাতব পাত্র উপর থেকে গরম করা হতো, এতে ইদুরটা গরম সহ্য করতে না পেরে ঐ ব্যক্তির পেট বরাবর খেয়ে ভেতরে প্রবেশ করতো।

    ৯) মৌমাছির বাস্কেট (Bee Basket) :
    এ পদ্ধতিতে দোষী ব্যক্তি নগ্ন করে জালের মধ্যে প্রবেশ করানো হতো। এরপর জালসমেত লোকটিকে একটি বড় মৌমাছির চাকের সাথে ঠেঁসে ধরা হতো। এতে মৌমাছিগুলো রাগান্বিত হয়ে লোকটিকে কামড়ে কামড়ে হত্যা করতো।

    ১০) ক্রুশ বিদ্ধ করা (Crucifixion):
    এ পদ্ধতিতে রোমানরা যিশু খ্রিস্টকে হত্যা করেছিলো। এ পদ্ধতিতে দোষী ব্যক্তিকে ক্রুশের সাথে পেরেক দিয়ে আটকে রাখা হতো। অনেক সময় আক্রান্ত ব্যক্তি এমনি মারা যেতো, অনেক সময় ক্রুশবিদ্ধ করে পেটানো হতো।
    (তথ্যসূত্র:http://bit.ly/2lRTome, আর্কাইভ- http://archive.is/cogU0)

    মজার বিষয় কি জানেন, যারা ইসলামী শরীয়া আইন বর্বর বলে সারা দিন চেচায়, তারাই আজকে রোমান বন্য আইন ও বিচার ব্যবস্থার পক্ষে সাফাই গেয়ে সুপ্রীম কোর্টের মূর্তির পক্ষে বলে চলেছে । সত্যিই মাননীয় স্পিকার, আমি….টুট..টুট.. হয়ে গেলাম।

  15. কপি পোস্ট দোষের নাকি??
    ওনি আগেই জওয়াব গুলি নোটপ্যাডে টাইপ করে রেখেছেন।
    আর মূর্তি প্রীতি ওয়ালা লোকদের প্যাকেট থেকে বের করে এক ড্রোজ এক ড্রোজ করে দেন।

  16. Saiful Islam Shilpi Anm Ahmad Ullah Md Nazmus Sakib ভাই আপনারা এখন আর Sagar Kamal ওরপে বদনা পারবেজ 😛 Sohel Sobhan সাথে কথা বলিয়েন না ৫০০০ এমজি খাইছে এখন উনাদের ঘুমের সময় না হয় আবার উনাদের বার মাথা চক্কর দিবে 😛 😛

  17. Sagar Kamal Sohel Sobhan Alamgir Apu আপনারা যারা নিজেদের নামে মুসলমান দাবী করেন.তাদের বলছি। আপনারা আগে বলুন কি নিয়ে আপনাদের বির্তক বা সন্দেহ। সেটা ক্লিয়ার করুন। যদি বির্তক কোন ব্যাক্তি বা দল যেন হেফাজত জামায়াত বা বিএনপি। তহলে করতেই পারেন। আর যদি বলেন যে কোরআন বা ইসলাম ধর্ম নিয়ে আপনাদের সন্দেহ আছে..? তাহলে সেটা স্পস্ট ক্লিয়ার করুন।কোন বিষয়ে বির্তক করতে চান..?

  18. ইসলামের দৃষ্টিতে মুর্তি পুজা যেমন হারাম এবং বর্জনীয়,ঠিক তেমনি সকল হারামকে বর্জন করা হোক।শুধুই সুপ্রিম কোর্টের সামনের হারাম মুর্তি সরানোতেই হারাম বর্জিত দেশ হবে না।অনেকেই তেনা পেচিয়ে অনেক হারাম বস্তু হালাল করে ব্যবহারের পায়তারা করছেন,তাদের কাছে সবিনয়ে জানতে চাই যে ইসলাম ধর্মানুযায়ী কোন ক্ষুদ্রতম হারাম কাজ করা বা হারাম বস্তু ব্যবহার করা বা খাওয়া জায়েজ আছে?হোক না সেটা অতিক্ষুদ্রতম কাজ বা বস্তু!

একটি মন্তব্য দিন