গ্রেফতার নেই খুনি
এসপি স্ত্রী মিতু হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টায়ও মামলা হয়নি

0
d5a71b820232f48d69ea268610bb9438-5753f3d82b2c1
এসপি বাবুল আক্তার ও নিহত স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু

চট্টগ্রামে দুর্বৃত্তদের গুলি ও ছুরিকাঘাতে নিহত এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতুর হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোন মামলা হয়নি।

সোমবার (৬ জুন)সকাল সাড়ে ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা এট্রি হয়নি বলে দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান পাঁচলাইশ থানার ডিউটিরত কর্মকর্তা এসআই বিপ্লব বড়ুয়া।

এদিকে নৃশংস হত্যাকাণ্ড কারা ঘটিয়েছে তাও চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ। মিতু হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ এলাকার আশপাশের সিসি টিভির ফুটেজ সংগ্রহ করলেও তার দৃশ্য খুনি চিহ্নিত করার মত স্পষ্ট নয় বলে জানা গেছে। ফুটেজটি অনেক দুর থেকে ধারণ করায় তাতে হত্যাকোণ্ডের দৃশ্য স্পষ্ট হয়নি। ফলে এ ফুটেজ আসামীদের চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে তেমন একটা কাজ হবে বলে মনে করছেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সোমবার সকাল ১০টায় থানায় ফোন করলে ডিউটি অফিসার এসআই বিপ্লব বডুয়া জানান, বাবুল স্যারের স্ত্রী হত্যার ঘটনায় গতকাল রাত থেকে এখনো কোন মামলা এন্ট্রি হয়নি। মামলার এফআইআর লেখা হয়েছে। স্যার (বাবুল আক্তার) স্বাক্ষরের জন্য অপেক্ষা করছি। স্যার ঢাকায় আছেন, উনি আসলে ইনার স্বাক্ষর নিয়ে মামলা এন্টি করা হবে।

তবে ওসি স্যার এবং তদন্ত স্যার এ ব্যাপারে বলতে পারবেন।

রবিবার রাত আড়াইটায় পাচঁলাইশ থানার ওসি মহিউদ্দিন মাহমুদ বলেন, এখনো মামলা হয়নি। তবে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (উত্তর) কাজী মুত্তাকী ইবনু মিনান জানান, রাত একটা পর্যন্ত আমি পাঁচলাইশ থানায় ছিলাম তখনো পর্যন্ত মামলা হয়নি। সকালে হয়তো মামলা করা হবে।

এদিকে পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাত ৩ জনকে আসামী করে পাচঁলাইশ থানায় একটি মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পর করণীয় নির্ধারণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রোববার (৫ জুন)রাতে সিএমপিতে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন সিএমপি কমিশনারসহ সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তারা।

বৈঠকে ঢাকা থেকে আসা পুলিশ সদর দপ্তরের দুইজন শীর্ষ কর্মকর্তারাও যোগ দেন। তারা হলেন, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটওয়ারী এবং অতিরিক্ত ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার মজুমদার।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পাঁচলাইশ জোনের সহকারী কমিশনার আসিফ মহিউদ্দিন দ্য রিপোর্টকে জানিয়েছেন, পুরো পরিস্থিতি নিয়ে সিএমপি সদর দফতরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচনা করছেন।

Babul-Akter-bg20160405211854
সাহসী বিভিন্ন সফল অভিযানের জন্য পুরস্কৃত হন বাবুল আক্তার

বৈঠক শেষে সিএমপির উপ-কমিশনার উত্তর পরিতোষ ঘোষ জানান, পুলিশের সবগুলো বিভাগ ও বাহিনীকে একযোগে এই খুনের তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সবার পাওয়া তথ্য সমন্বয় করে খুনীদের ধরার অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বনজ কুমার মজুমদার বলেন, খুনিদের গ্রেফতারে যেসব সংস্থা আছে পিবিআই, র‌্যাব, সিআইডি, কাউন্টার টেররিজম ইউনিট সবাই একসঙ্গে মাঠে থাকবে। মামলা তদন্তে আমরা সিএমপিকে সব ধরনের সহযোগিতা দেব। যে কোন মূল্যে খুনিদের গ্রেফতার করা, তাদের বিচারের মুখোমুখি করা এটাই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য।

এদিকে সোমবার (৬ জুন) ভোররাতে পুলিশ নগরীর পাঁচলাইশ থানার শুলকবহর বড় গ্যারেজ থেকে হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। যার নম্বর চট্টো মেট্রো-ল-১২-৯৮০৭।

পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুলকবহর বড় গ্যারেজ থেকে মোটর সাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, রোববার (৫ জুন) সকাল পৌনে ৭টার দিকে নগরীর জিইসি এলাকায় (ওআর নিজাম রোডে) প্রকাশ্যে গুলি করে পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতুকে হত্যা করে দৃর্বৃত্তরা। ছেলে নিয়ে ক্যান্টনমেন্ট স্কুল বাসে তুলে দিতে জিইসি’র মোড়ে যাওয়ার পথে বাসা থেকে একশ গজের মধ্যে এ হত্যাকাণ্ডেরে ঘটনা ঘটে।

Advertisements

কোন মন্তব্য নেই

একটি মন্তব্য দিন