“ভুলে গেলে চলবে না আমি হেড অব দ্য গভর্নমেন্ট” – প্রধানমন্ত্রী

0
pm_ganobhaban
গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা দেশের অগ্রগতি চায় না, তারাই এখন টার্গেট কিলিং চালাচ্ছে। এ হত্যাকাণ্ডের ধরন দেখেই বলা যায়, কারা এ হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে। তারা এমনভাবে সফট টার্গেট কিলিং করছে, যেন বিশ্ববাসী এ নিয়ে কথা বলে।

সৌদি আরবসহ সাম্প্রতিক বিদেশ সফর নিয়ে বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা প্রকাশ্যে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে তারাই কৌশল পাল্টে এখন মানুষ হত্যা করছে। সরকারের প্রধান হিসেবে এ কথা তিনি সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই বলছেন।’

সাম্প্রতিক গুপ্তহত্যায় বিএনপি-জামায়াত জড়িত বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘একটা কথা ভুলে গেলে চলবে না। আমি হেড অব দ্য গভর্নমেন্ট (সরকারপ্রধান)। আমার কাছে নিশ্চয়ই তথ্য আছে। তদন্তের স্বার্থে হয়তো সব কথা, সব তথ্য প্রকাশ করা যাবে না। কিন্তু সূত্রটা জানা যায়। আর সেই সূত্র ধরেই আমরা কথা বলি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রকাশ্যে মানুষ হত্যা করলে তারা মানুষের রুদ্ররোষের স্বীকার হয়। এজন্য তারা গুপ্তহত্যায় নেমেছে। তারা এমন মানুষকে হত্যা করছে যাতে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়। মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, গুপ্তহত্যার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সরকার বসে নেই।

তিনি বলেন, যখন মানুষ পুড়িয়ে মারছিল তখন দেশবাসী যেভাবে জেগে উঠেছিলেন; ঠিক সেভাবেই আবার জেগে উঠতে হবে। গুপ্ত হত্যাকারীদের বিষয়ে সমগ্র দেশের মানুষকে সচেতন হতে হবে। তাদের খুঁজে বের করে পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে সংগঠিত সবগুলো হত্যার প্রক্রিয়া একই রকম জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্নজন এ হত্যা দায় স্বীকার করে। মূল জায়গা কিন্তু একটা। যারা প্রকাশ্যে দিবালোকে মানুষ পুড়িয়ে মারে- তখন তারা জনগণের রুদ্ররোষের শিকার হয়েছিল। ফলে এখন তারা মানুষ হত্যার কৌশল পরিবর্তন করেছে। সরকারও বসে নেই। আমাদের যা যা করণীয় আমরা তা তা করে যাচ্ছি। যারা এ ঘটনা ঘটাচ্ছে আমরা তাদের ধরতে সক্ষম হচ্ছি। বাংলাদেশের উন্নতি যারা চায়নি তারাই এ ধরণের ঘটনা ঘটিয়েছে।

তিনি বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলামে কোনো অশান্তি নেই। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন শেষ বিচার করবেন। আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করার ক্ষমতা কারও নেই।। আল্লাহ কাউকে হত্যার অনুমতি দেননি। একজন আরেকজনকে হত্যা করে ইসলামকে কলুষিত করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে সত্যিকার ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসীদেরকে আহ্বান জানাব, তাদের পরিবারের সদস্যরা সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদী পথে যাচ্ছে কি না, তা দেখার দায়িত্ব তাদের। ধর্মের নামে যারা হত্যা চালায়, তারা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নির্দেশ অমান্য করে।

এবার তার সৌদি আরব সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবে বর্তমানে ২০ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কাজ করছেন। আমরা সেখানে আরও লোক পাঠাতে পারবো। যারা সেখানে যাবেন তাদের নিরাপত্তাসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সৌদি বাদশাসহ অনেক মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। তারা আমাদের দেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আমারা তাদের কাছে প্রস্তাব দিয়েছি- আমরা তাদের জায়গা দেব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনের আহ্বান জানিয়েছেন সৌদি আরবের বাদশা। আমি তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়েছি। বাদশাকে আমি জানিয়েছে, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহায়তা দেওয়া হবে। প্রয়োজনে বাংলাদেশ সামরিক সহায়তা দেবে।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরব, জাপান ও বুলগেরিয়া সফর সম্পর্কে লিখিত বক্তব্য দেন। লিখিত বক্তব্যের পর তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন।

সৌদি আরবের বাদশাহর আমন্ত্রণে সেদেশে পাঁচদিনের সরকারি সফর শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে তিনি জাপান ও বুলগেরিয়া সফরে যান।

প্রধানমন্ত্রী তার তিন দেশ সফর নিয়ে বলেন, পর পর তিনটি সফর আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকটি সফরে বাংলাদেশের অনেক অর্জন আছে। এই তিনটি সফরে যেসব নেতাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, সেই বিশ্বনেতাদের সবাই বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাদের অবাক করেছে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের ওপরে থাকাটা।

সংবাদ সম্মেলনে জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Advertisements

কোন মন্তব্য নেই

একটি মন্তব্য দিন