ছয়দিন পর কর্ণফুলী নদী থেকে স্বামীর লাশ উদ্ধার
একসঙ্গে আত্মহত্যা করা হলো না লিটন-খতিজা দম্পতির

0
ছবি প্রতিকী।

স্বামী-স্ত্রী দুজনই সিদ্ধান্ত নেন একসঙ্গে জীবন দেবেন। তাই কর্ণফুলি নদীতে লাফিয়ে পড়েন খাতিজা-লিটন দম্পতি। কিন্তু একসঙ্গে জীবন দেয়া হলো না তাদের। বেঁচে গিয়ে অনুশোচনায় ভোগছেন খাতিজা। আর মারা গেলেন স্বামী লিটন।

গত ২৯ মার্চ সকালে নগরীর বাকলিয়া থানার কর্ণফুলি ব্রীজ থেকে নদীতে লাফিয়ে পড়েছিলেন এ দম্পতি। তাৎক্ষনিক ভাবে এলাকার লোকজন খাতিজাকে জীবিত উদ্ধার করলেও কর্ণফুলী নদীর পানিতে তলিয়ে যায় স্বামী লিটন।

এ ঘটনার ৬দিনের মাথায় সোমবার ৩ এপ্রিল বিকালে নগরীর সদরঘাট থানার ফিশারীঘাট এলাকার কর্ণফুলী নদী থেকে লিটনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  (ওসি) মর্জিনা আক্তার পাঠক ডট নিউজকে জানান, সোমবার বিকালে ফিশারীঘাট এলাকার নদীতে একটি লাশ ভাসছে জানতে পেরে অামরা লাশটি উদ্ধার করি। পরে তার স্বজনরা এসে লাশটিকে চিহিৃত করে এটি মো. লিটন (২৬) পিতা শাহজাহান মাঝি, মা তসলিমা বেগম এবং স্ত্রী খতিজা বেগম বলে জানায়।

জানাগেছে লিটনের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালির কলাপাড়ার শ্রীপুর এলাকায়। সে চট্টগ্রাম মহানগরীর কালামিয়া বাজারের জাহাঙ্গীর মিস্ত্রীর ভাা বাসায় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতো।

ওসি মর্জিনা আরো জানান, লিটনের স্ত্রী খতিজা বেগম বলেছেন, গত ২৯ মার্চ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শাহ আমানত সেতু (কর্ণফুলী ব্রিজ) থেকে আত্মহত্যার উদ্দ্যেশে তারা দুজন ঝাঁপ দিয়ে পড়েন কর্ণফুলি নদীতে। এরপর পানিতে তলীয় যান। পরে জ্ঞান ফিরে নিজেকে হাসপাতালে আবিস্কার করে। এবং তখনই জানান তার স্বামী লিটনও নদীতে পড়েছে।

এদিকে বুধবার (২৯ মার্চ) সকালে এলাকার লোকজন নদীতে ভাসতে দেখে খাদিজা (২০) নামের তরুণীকে উদ্ধার করে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

তখন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী উদ্ধারকারীদের একজন মো. নাছির উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেছিলেন ফিরিঙ্গিবাজারের ব্রিজঘাট এলাকার কর্ণফুলী নদীতে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এক তরুণীর দেহ ভেসে থাকতে দেখা যায়। পরে আমরা কয়েকজন মিলে তাকে নদী থেকে তুলে মুমূর্ষু অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাই। খাদিজা বলেছে সে গার্মেন্টস শ্রমিক। পারিবারিক আশান্তির কারণে তারা স্বামী-স্ত্রী আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে নদীতে লাফিয়ে পড়েন।

কোন মন্তব্য নেই