গুন্নু’র আটক নিয়ে শিবিরের বক্তব্যে সেনার প্রতিবাদ
ছাত্রসেনার ৩৬ বছরের অহিংস ইতিহাসকে কলঙ্কিত করবেন না

0
^6E725FE01B08461A099093F80878EEA468170B6DA3F2F8DE02^pimgpsh_fullsize_distr
ছবি: প্রতীকি

পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যার জড়িত সন্দেহ গ্রেফতারকৃত আবু নছর গুন্না শিবির নয়, ছাত্রসেনার কর্মী বলে শিবির যে বক্তব্য দিয়েছে তার প্রতিবাদ করেছেন ছাত্রসেনার নেতারা।

এক প্রতিবাদ বিবৃতিতে ছাত্রসেনার নেতৃবৃন্দ বলেন, অনলাইন নিউজ পোর্টাল পাঠক ডট নিউজ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় আজ ৯ জুন প্রকাশিত ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগরী উত্তরের বিবৃতিতে পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী হত্যায় জড়িত সন্দেহে আটক সাবেক শিবিরকর্মী আবু নছর গুন্নাকে ছাত্রসেনার সাথে জড়ানোর অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

ইসলামী ছাত্রসেনা চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর সভাপতি ছাত্রনেতা মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক ছাত্রনেতা আবদুল কাদের রুবেল এক প্রতিবাদ বার্তায় বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী দেশদ্রোহি জায়ামাতের ছাত্রসংগঠন ছাত্রশিবির সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলকভাবে অসত্য, ভিত্তিহীন, বানোয়াট বক্তব্য দিয়ে আটক সাবেক শিবির কর্মী আবু নছর গুন্নাকে ছাত্রসেনা কর্মী বানানোর অপচেষ্টা করছেন। সাবেক এ শিবির নেতাকে আটকের পর এক প্রেসব্রিফিংয়ে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য জানান, আবু নছর গুন্না ১৯৯৫ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

এরপর তিনি মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে চলে যান। কিছুদিন আগে দেশে ফিরে নিজেকে আড়াল করতে একটি মাজারের কর্মকাণ্ডে জড়িত করে। অন্যদিকে ফ্যাসিস্ট ছাত্রশিবির মাজারের নাম শুনে আদর্শবাহী অহিংস ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার ৩৬ বছরের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করার অপচেষ্টা করছে।

নেতৃবৃন্দ এ হীন উদ্দেশ্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, যুবসেনা ও ছাত্রসেনা রাজনৈতিক সংগঠন। আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে মাজার নিয়ন্ত্রণ করা হয় না। কেউ মাজার সংশ্লিষ্ট হলেই ছাত্রসেনা বা ইসলামী ফ্রন্টের কর্মী হবে- এ ধারণা করা অসুস্থ-বিকৃত মস্তিষ্কের লোকের হাস্যকর মন্তব্য বৈ কিছু নয়।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, বাংলাদেশে শান্তির ধর্ম ইসলাম প্রচার-প্রসার করেছেন পীর-আউলিয়াগণ। তাই ছাত্রসেনা হক পীর-আউলিয়াদের মাজারকে শ্রদ্ধা করে। মাজারকে পূঁজি করে কেউ অন্যায় করলে তার দায়-দায়িত্ব ছাত্রসেনার নয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে রগ কাটা, আগুনে পোড়ানো, খুন, ধর্ষণের মত ঘৃণ্য, লজ্জাজনক ও মানবতা বিরোধী কর্মকাণ্ডের ইতিহাস আছে।

বিভিন্ন সময় তাদের কাপুরুষিত হামলায় শাহাদাৎ বরণ করেন ছাত্রসেনাকর্মী লিয়াকত আলীসহ বিভিন্ন জন। তাদের গর্হিত কার্যক্রমের কারণে সরলপ্রাণ জনতা আজ ইসলামী রাজনীতিকে সন্দেহের চোখে দেখে। এ অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা ও ইসলামী ফ্রন্ট ইসলামের সঠিক মূলধারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’আতের ইনসাফ ভিত্তিক সূফিবাদি গণমুখী রাজনীতিতে সবাইকে আহ্বান করে আসছে। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, জঙ্গি বিরোধী অভিযানের সফল ও সৎ পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুর নির্মম হত্যায় দেশবাসীর সাথে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনাও গভীরভাবে শোকাহত এবং হত্যার দিন থেকেই বিচার দাবি করে আসছে। প্রশাসনের প্রতি আহ্বান, সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে মিতুহত্যাসহ প্রত্যেক হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করুন এবং এব্যাপারে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করছি।

Advertisements

কোন মন্তব্য নেই

একটি মন্তব্য দিন