বাসায় কেক বানিয়ে লাখপতি চট্টগ্রামের ইদিনা

0
বেডরুমের মত দেখালেও এটি একটি তৈরী কেক।

কেক পেস্ট্রি। শুনতে শুধুই একটি সুস্বাদু খাবার মাত্র। কিন্তু এই কেক বা পেস্ট্রির উপরের শিল্প দেখেই যে কেকের মধ্যে গল্প লুকিয়ে থাকতে পারে তারই ব্যাতিক্রমী উদাহারণ তৈরি করেন চট্টগ্রামের ইদিনা।

ইদিনা’র তৈরি কেক মানেই শিল্প। নেপথ্যে কোন ভালোবাসার গল্প। কেকের উপরিভাগে শিল্পিত রূপে উপস্থাপন করতে পারেন সাফল্য, সম্ভাবনা, বহুদুর যাওয়ার অনুপ্রেরণা। আর বাসায় বসে এমন শিল্পিত কেক বানিয়েই চট্টগ্রামেই রীতিমত বিখ্যাত চট্টগ্রামের বিবিএ’র ছাত্রী ইদিনা ওবাইদ।

কেক বানিয়ে তিনি এখন লাখপতি। পড়ালেখা আর চাকুরির অবসরে বাসায় কেক বানিয়ে ইদিনা আয় করে প্রতিমাসে কমপক্ষে অর্ধলক্ষ টাকা। ২০১৫ সাল অক্টোবর মাস থেকেই ইদিনার এই সাফল্য ছড়িয়েছে চট্টগ্রাম নগর জুড়ে। সবচেয়ে সুস্বাদু আর শৈল্পিক কেক, পেস্ট্রি আর ডেজার্ট বানানোর ক্ষেত্রে ইদিন চট্টগ্রামে কেকের মাস্টার শেফ।

ইদিনা ওবাইদ ইশফা।

পুরো নাম ইদিনা ওবাইদ ইশফা। চট্টগ্রামের মহসিন কলেজে ম্যানেজমেন্ট নিয়ে বিবিএ পড়ছেন। ৬ ভাই বোনের মধ্যে সবার ছোট ইদিনা চট্টগ্রাম শহরে কেক বানানোর জন্য বিখ্যাত সেলিব্রেটি তরুনী।

তার ফেসবুকে বন্ধু হওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়েছে অনেক আগেই। ফ্যান পেইজে চট্টগ্রামের তারুন্য এখন হুমড়ি খেয়ে পড়ে। কোন ফ্যাক্টরী, দোকান কিংবা শোরুম নেই। রয়েছে একটিমাত্র ফেসবুক পেইজ। সুইট বাজ। এই পেইজের মাধ্যমে এবং ব্যাক্তিগত ফোনে কেকের অর্ডার নেন ইদিনা। এর পর সময়মত সরবরাহ করেন।

ব্যাক্তিগত পর্যায়ে যেকোন অনুষ্ঠানের পাশাপাশি চট্টগ্রামের বড় বড় কর্পোরেট হাউজের অনুষ্ঠানের জন্য ইদিনা কেকের অর্ডার পান। শৈল্পিক গল্প সম্বলিত কেক তৈরি ও সরবরাহ করেন। সর্বনিম্ম ৩ পাউন্ড থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪০ পাউন্ড পর্যন্ত কেক বাসায় বসেই বানাতে পারেন তিনি। প্রতি পাউন্ড কেকের জন্য ইদিনা মুল্য নেন ৬০০ টাকা।

.

ইদিনা ওবাইদ ইশফা জানান, ২০১৫ সালের অক্টোবর মাস থেকেই তিনি চট্টগ্রাম শহরে বাণিজ্যিক ভাবে কেকের অর্ডার নেন এবং সরবরাহ শুরু করেন। এর আগে তিনি চট্টগ্রামের বেক এন্ড ফাস্ট বেকারী এবং তারকা হোটেল আগ্রাবাদের দু’জন শেফ’র কাছে কেক বানানোর প্রাথমিক জ্ঞান ও প্রশিক্ষন গ্রহন করেন। এরপর ইদিনা সবার চেয়ে আলাদা এবং বৈচিত্রপূর্ণ কেক কিভাবে বানানো যায় তা নিয়ে রীতিমত গবেষনা শুরু করেন। ইচ্ছাশক্তি আর অধ্যাবসায়ের পাশাপাশি ঢাকার একাধিক বড় বড় শেফ’র কাছে কেক বানানোর উপর একাধিক প্রশিক্ষন নেন ইদিনা। এর পর থেকেই ঘরে বসে কেক বানিয়ে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি শুরু করেন।

ইদিনা জানান, আমার তৈরি কেক বা পেস্টির প্রধান বৈশিষ্ট হলো আমি থিম বেজড কেক তৈরি করি। আমার বানানো প্রতিটি কেক’র একটি গল্প থাকে। কেকের উপরের ডেকোরেশন বা শিল্পিত রূপ দেখেই যে কেউ অনায়াসে এর পেছনের গল্প পড়তে পারবেন।

ফুটবল, খেলার মাঠ, আর জার্সি রূপদিয়ে তৈরী কেক।

জন্ম দিন কিংবা বিয়ে বার্ষিকী, ভালোবাসা দিন কিংবা কোন সাফল্য সম্ভাবনার জন্য তৈরি কেক। সব কেকেই আলাদা আলাদা গল্প তৈরি করি আমি। এ ছাড়া প্রতিটি কেক, পেস্টির মধ্যে আমি বিদেশী এবং সবচেয়ে উন্নত উপকরণই ব্যবহার করি। স্বাস্থ্যমান রক্ষায় আমি কোন ছাড় দেই না। এই কারনেই আমার তৈরি কেক চট্টগ্রাম শহরে ব্যাপক জনপ্রিয়। ইদিনা জানান, শুরুর দিকে প্রতিদিন তিনি গড়ে ৪টি পর্যন্ত কেকের অর্ডার নিতেন। প্রতিমাসে তিনি কেক সরবরাহ করতেন ১শ’ থেকে ১২০টি পর্যন্ত। বর্তমানে পড়ালেখার পাশাপাশি নগরীর একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে চাকুরি করছেন। এর ফলে এখন দিনে একটির বেশি কেকের অর্ডার গ্রহন করেন না। ইদিনা জানান, প্রতি পাউন্ড কেক তৈরিতে আমার খরচ পড়ে প্রায় ৬০০ টাকা। দৈনিক একটি কেক বানিয়ে প্রতিমাসে কমপক্ষে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করেন ইদিনা।

কৈশোর থেকে সদ্য তারুন্যদিপ্ত সময়ে সাফল্যের সাথে এগিয়ে যাওয়া ইদিনা ওবাইদ তার ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে পাঠক ডট নিউজকে জানান, কেক, পেস্ট্রি এবং ডেজার্ট নিয়ে আমি বড় একটা শো-রুম করতে চাই চট্টগ্রামে। এখন আমি চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করতে পারছি না। কিন্তু ফেসবুক পেইজ এবং ব্যাক্তিগতভাবে আমি প্রচুর কেকের অর্ডার পাই। কিন্তু সেভাবে সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। তাই নগরীর ভালো এবং শিল্পিত গল্পের কেকের চাহিদা পূরণে বড় আকারে কিছু করতে চাই। ইদিনা বলেন, কেক বানানোর উদ্দেশ্য আমার টাকা আয় করা নয়। আমার কাছে এটা একটি শিল্প। এটা আমার ভালোবাসা। আমি এই ভালোবাসার সাথেই থাকতে চাই।

কোন মন্তব্য নেই