জিনিয়াস মেধাবৃত্তি ও শিশু উৎসবে চবি উপাচার্য
কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মেধাবিকাশে ভূমিকা রাখছে জিনিয়াস

0
ব্রেকিং নিউজ
  •                 
.

জিনিয়াস মেধাবৃত্তি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে মন্তব্য করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, ‘শিক্ষা ছাড়া প্রতিযোগিতার বিশ্বে টিকে থাকা যাবে না। তাই জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমান সরকারের সূদুর প্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

শনিবার (২২ এপ্রিল) বিকালে চট্টগ্রাম আদালত ভবনস্থ আইনজীবী অডিটোরিয়ামে জিনিয়াস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন আয়োজিত মেধাবৃত্তি পুরস্কার বিতরণ ও শিশু উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

কৃর্তি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে চবি উপাচার্য ড. ইফতেখার উদ্দিন বলেন, ‘তোমরা বড় হও, মানুষ হও, মানবিক হও, মহৎ হও। বঞ্চিত, নিরন্ন, অভাবী মানুষকে বুকে ঠাঁই দিয়ে এই দেশকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোল। আমার বিশ্বাস তোমাদের হাত ধরেই এই দেশ সোনার বাংলায় পরিণত হবে। বিশ্বের দরবারে মাথা উচুঁ করে দাঁড়াবে অমিত সম্ভাবনার এই মাতৃভূমি।’

তিনি বলেন, ‘যেকোন সামাজিক সংগঠন ব্যক্তি স্বার্থের উর্দ্ধে উঠে দেশ তথা সমাজের জন্য কোন উদ্যোগ গ্রহণ করলে তা সফল হতে বাধ্য। বিগত ছয় বছর ধরে জিনিয়াস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন শিক্ষার্থীদের মেধা চর্চার যে ক্ষেত্র সৃষ্টি করেছে তা সত্যি প্রশংসার দাবিদার।’ যেকোন মূল্যে এ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য জিনিয়াস সংশ্লিষ্টদের প্রতি তাগিদ দেন এই শিক্ষাবিদ।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক চট্টগ্রাম চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘একটি দেশ এগিয়ে যায় শুধু শিক্ষার জোরে। ইউরোপ আজ সারা বিশ্ব শাসন করছে শুধু শিক্ষার জোরে। আমিও বলতে চাই, তোমরা শিক্ষার আলোয় এই দেশকে ভরিয়ে তোল। তোমাদের মধ্যে এদেশের ভবিষ্যত নিহিত।’

বিশেষ অতিথি দৈনিক আজাদী’র বার্তা সম্পাদক একেএম জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘আজকের মেধাবী শিশুরাই এদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তবে শুধু শিক্ষা অর্জন করলেই হবেনা। মানুষকে ভালবাসতে হবে। শুধু দেশের মানুষকে নয়, বিশ্বের সকল নিপীড়িত, বঞ্চিত মানুষকে ভালবাসতে হবে। এ জন্য আগামী দিনের কর্ণধার যারা তাদের মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে হবে।’

গবেষক জামাল উদ্দিন বলেন, ‘সার্টিফিকেট অর্জন করা সহজ কিন্তু প্রকৃত মানুষ হওয়া অনেকটা কঠিন। শারিরীক ও মানসিক বিকাশ ঘটিয়ে দেশ ও জাতির প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে যারা প্রকৃত মানুষ হবে তারাই দেশের সম্পদ হিসেবে পরিগণিত হবে।’

জিনিয়াস চেয়ারম্যান ডা. সন্তোষ কুমার দে’র সভাপতিতে সুশান্ত শীল, নজরুল ইসলাম ও বিলকিছ আহমেদ’র সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, জিনিয়াস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক সরোজ আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে ইতিহাস গবেষক ও লেখক জামাল উদ্দিন, আন্দরকিল্লা ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও উৎসব উদযাপন পরিষদের চেয়ারম্যান জহুর লাল হাজারী, ব্যবসায়ী ও শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব আবদুস সামাদ প্রমুখ।

এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি আনোয়ারা উপজেলার সভাপতি কেএম এরশাদ হোসাইন, সহসভাপতি রূপন কান্তি শীল, জিনিয়াস উপদেষ্টা বিশ্বজিৎ ধর, সদস্য সচিব মিয়া এমএ করিম, যুগ্মসচিব রিদওয়ানুল হক, চট্টগ্রাম সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি এসএম ফরিদ, সাধারণ সম্পাদক শহীদ ফারুকী, নাট্য ব্যক্তিত্ব মহসীন চৌধুরী প্রমুখ।

আলোচনা সভা শেষে চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রায় একশ’ স্কুলের প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণির তিন শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে সনদ, ক্রেস্ট, ব্যাগ ও নগদ অর্থসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ পুরস্কার হিসেবে তুলে দেন অতিথিরা।

উৎসবের প্রথম পর্বে চট্টগ্রাম সাংস্কৃতিক পরিষদের শিল্পীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে টিভি ও বেতারের বাউলশিল্পী শংকর দে, শিল্পী শহীদ ফারুকী, মোহাম্মদ উল্লাহ, সাইফুদ্দিন ফারুকী, মনি সেন, শাকিল আরাফাত, জুলি সুপ্রিয়া মজুমদার, হুমায়ুন চৌধুরী নয়ন চৌধুরী, সাইফ আজাদ সংগীতের মূর্ছনায় শত শত দর্শকদের মাতিয়ে তোলেন।

কোন মন্তব্য নেই