আহমদ শফীর সাথে সাক্ষাত করতে হাটহাজারী আসেন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত

2
একান্ত মূহুর্তে ফিলিস্তিনী রাষ্ট্রদূত ও আল্লামা আহমদ শফি।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান হেফাজত আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী’র সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেছেন। রবিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার হেফাজতের কেন্দ্রিয় কার্যালয়ে এ সাক্ষাত অনুষ্ঠিত হয়।

ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত প্রায় দেড়ঘন্টা ব্যাপী হেফাজত কার্যালয় মাদ্রাসা ভবনে অবস্থান করলেও হেফাজতের পক্ষ থেকে দিনভর প্রকাশ করা হয়নি।

রাতে বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পরপরই বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা এবং স্থানীয় পুলিশের দৌড়ঝাপ শুরু হয়।

হেফাজতের আমীরের সাখে বৈঠক করছেন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রদূত।

এ ব্যাপারে জানতে রাতে হাটহাজারী থানার ওসি বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীরকে ফোন করা হলেনও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে হেফাজতে ইসলামের আমীরের মুখপাত্র মাওলানা মুনির আহমদ পাঠক ডট নিউজকে জানান, ফিলিস্তিনের প্রধান বিচারপতি মাহমুদ সিদ্দিকীর একটি চিঠি নিয়ে রবিবার সকাল ১১টায় হাটহাজারী মাদ্রাসায় আসেন রাষ্ট্রদূত ইউসুফ রামাদান।

এ সময় দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা আনাস মাদানী, হেফাজত আমীরের প্রেসসচিব মাওলানা মুনির আহমদ এবং হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী জনাব রামাদানকে আন্তরিক অভ্যর্থনা জানিয়ে মেহমানকে হেফাজত আমীরের কার্যালয়ে নিয়ে যান। হেফাজত আমিরকে ফিলিস্তিনে উৎপাদিত কয়েক পদের বিখ্যাত খেজুর, আতর উপহার এবং ফিলিস্তিনের ঐতিহাসিক স্থান ও স্বাধীনতা সংগ্রামের উপর তৈরি করা একটি তথ্যচিত্র এলবামও প্রদান করেন। হেফাজত আমীর ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূতের সাথে কুশল বিনিময় শেষে তাঁকে দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসায় আগমনের জন্য ধন্যবাদ জানান।

.

জানাগেছে, হেফাজত আমীরকে রাষ্ট্রদূত সালাম দেন এবং মুসাফাহা ও মুয়ানাকা শেষে আরবরীতি অনুযায়ী আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কপালে চুমু দেন। এরপর রাষ্ট্রদূত হেফাজত আমীরের হাতে ফিলিস্তিনি প্রধান বিচারপতির চিঠি ও উপহার সামগ্রী হস্তান্তর করেন। এ সময় হেফাজত আমীর রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এ সময় ফিলিস্তিনী রাষ্ট্রদূত জনাব রামাদান হেফাজত আমীরের শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নিয়ে বলেন, হেফাজত আমীর মুসলমানদের প্রথম ক্বিবলা পবিত্র মসজিদুল আকসা পরিদর্শনের আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সফরে সম্মতি দিলে ফিলিস্তিনি দূতাবাস যত্নের সাথে সকল আয়োজন সম্পন্ন করবে। তিনি জর্দান হয়ে ফিলিস্তিন সফর আয়োজনের কথা জানান।

.

এরপর হেফাজত আমীর ও ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত ইসলাম ও মুসলিম স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে মতবিনিময় করেন এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার ন্যায় সংগ্রামে হেফাজত আমীরের সার্বিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। এক পর্যায়ে তিনি হেফাজত আমীরকে ফিলিস্তিন সফরের আমন্ত্রণ জানান।

ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত হেফাজত আমীরকে ফিলিস্তিনের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন। এ সময় রাষ্ট্রদূত হাটহাজারী মাদ্রাসার পরিদর্শন বইয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সম্পর্কে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে দীর্ঘ মন্তব্য লিখেন।

সাক্ষাত অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা আনাস মাদানী, মাওলানা মুনির আহমদ, মাওলানা আনওয়ার শাহ আযহারী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদি প্রমুখ।

দারুল হাদীসে ছাত্রদের কাছ থেকে বুখারী শরীফের হাদীসের পাঠ শুনছের ফিলিস্তিন রাষ্ট্রদুত।

আলোচনা শেষে রাষ্ট্রদূতকে ডাবের পানি, হালকা নাস্তা ও কফি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। রাষ্ট্রদূত প্রায় হেফাজতের আমীরের কার্যালয়ে অবস্থান শেষে দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার দারুল হাদীস মিলনায়তন, উচ্চতর হাদীস গবেষণা বিভাগ এবং আরবী ভাষা সাহিত্য বিভাগ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালীন তিনি দারুল হাদীসে ছাত্রদের কাছ থেকে বুখারী শরীফের হাদীসের পাঠ শুনেন এবং আরবী সাহিত্য বিভাগের খোঁজ-খবর নেন। এরপর আরবী সাহিত্য বিভাগে তিনি ছাত্রদের উদ্দেশ্যে ১৫ মিনিট বক্তব্য রাখেন।

এখান থেকে বের হয়ে তিনি দারুল উলূম হাটহাজারীর প্রধান মসজিদ ‘জামে বায়তুল করীম’ পরিদর্শন করেন। সবশেষে তিনি মুফতীয়ে আজম আল্লামা আব্দুচ্ছালাম চাটগামী ও প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরী এর কার্যালয়ে গিয়ে তাঁদের সাথে সাক্ষাত করে কুশল বিনিময় করেন।

দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে ফিলিস্তিনী রাষ্ট্রদূত দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসা ক্যাম্পাস থেকে বিদায় নিয়ে চট্টগ্রাম বিমান বন্দর হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

2 মন্তব্য